ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রোঞ্জ ও সিলভার মেডেল জিতে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেল চাঁদপুরের ৬ শিক্ষার্থী

চাঁদপুরের ছয় শিক্ষার্থী জাতীয় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। ছবি-ত্রিনদী

চাঁদপুরের ছয় শিক্ষার্থী জাতীয় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। তারা একটি স্মার্ট সোলার হুইলচেয়ার উদ্ভাবন করে ‘Applied Physics and Engineering’ বিভাগে সিলভার মেডেল এবং ‘Innovative Social Science’ বিভাগে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করেছেন।

গত শনিবার (৯ মে) রাজধানীর নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় ‘8th World Invention Competition and Exhibition–2026, Bangladesh National Round’। ড্রিমস অব বাংলাদেশ আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পাঁচটি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮০টি দল।

চাঁদপুর থেকে অংশ নেওয়া তিনটি দলের শিক্ষার্থীরা দুটি প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের উদ্ভাবিত “সোলার সিস্টেম স্মার্ট হুইলচেয়ার” বিচারকদের নজর কাড়ে।

দলের মূল উদ্ভাবকরা হলেন—চাঁদপুরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়–এর দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাহদী রহমান এবং আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ–এর দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার নাজমুস সাকিব ও অরিত্র রায়।

অতিরিক্ত সদস্য হিসেবে ছিলেন মো. মুনতাছির, এস এম সেহরান সাদমান, ইয়ামিন ইসলাম মাহিন, শাহরুল ইসলাম শাওন ও আলভি আল কামাল।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের তৈরি স্মার্ট হুইলচেয়ারটি জিপিএস নেভিগেশন ও সেফ ড্রাইভিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি ভয়েস কন্ট্রোল, রিমোট কন্ট্রোল ও জয়স্টিক ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডেমো মডেলটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ টাকা। বাস্তবে পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি করতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাগতে পারে বলে তারা জানান।

উদ্ভাবক শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রতিবন্ধী ও চলাচলে অক্ষম মানুষের স্বাধীনভাবে নিরাপদে চলাফেরার সুযোগ তৈরি করতেই তারা এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হুইলচেয়ারটি সৌরশক্তিচালিত করা হয়েছে, যাতে এটি পরিচালনায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন না হয়।

এর আগে একই প্রকল্প নিয়ে মো. মাহদী রহমান, খন্দকার নাজমুস সাকিব ও অরিত্র রায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে স্পন্সরের অভাবে তারা যেতে পারেননি।

এ ছাড়া ‘International Science and Invention Fair–2025’-এ অনলাইনে অংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আসরে ২৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সিলভার মেডেল অর্জন করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এবার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন এবং চাঁদপুরের নাম বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। এজন্য তারা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ড. ইউনূস ও নুরজাহান বেগমের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ব্রোঞ্জ ও সিলভার মেডেল জিতে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেল চাঁদপুরের ৬ শিক্ষার্থী

Update Time : ১০:২৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

চাঁদপুরের ছয় শিক্ষার্থী জাতীয় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। তারা একটি স্মার্ট সোলার হুইলচেয়ার উদ্ভাবন করে ‘Applied Physics and Engineering’ বিভাগে সিলভার মেডেল এবং ‘Innovative Social Science’ বিভাগে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করেছেন।

গত শনিবার (৯ মে) রাজধানীর নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় ‘8th World Invention Competition and Exhibition–2026, Bangladesh National Round’। ড্রিমস অব বাংলাদেশ আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পাঁচটি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮০টি দল।

চাঁদপুর থেকে অংশ নেওয়া তিনটি দলের শিক্ষার্থীরা দুটি প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের উদ্ভাবিত “সোলার সিস্টেম স্মার্ট হুইলচেয়ার” বিচারকদের নজর কাড়ে।

দলের মূল উদ্ভাবকরা হলেন—চাঁদপুরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়–এর দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাহদী রহমান এবং আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ–এর দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার নাজমুস সাকিব ও অরিত্র রায়।

অতিরিক্ত সদস্য হিসেবে ছিলেন মো. মুনতাছির, এস এম সেহরান সাদমান, ইয়ামিন ইসলাম মাহিন, শাহরুল ইসলাম শাওন ও আলভি আল কামাল।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের তৈরি স্মার্ট হুইলচেয়ারটি জিপিএস নেভিগেশন ও সেফ ড্রাইভিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি ভয়েস কন্ট্রোল, রিমোট কন্ট্রোল ও জয়স্টিক ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডেমো মডেলটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ টাকা। বাস্তবে পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি করতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাগতে পারে বলে তারা জানান।

উদ্ভাবক শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রতিবন্ধী ও চলাচলে অক্ষম মানুষের স্বাধীনভাবে নিরাপদে চলাফেরার সুযোগ তৈরি করতেই তারা এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হুইলচেয়ারটি সৌরশক্তিচালিত করা হয়েছে, যাতে এটি পরিচালনায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন না হয়।

এর আগে একই প্রকল্প নিয়ে মো. মাহদী রহমান, খন্দকার নাজমুস সাকিব ও অরিত্র রায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে স্পন্সরের অভাবে তারা যেতে পারেননি।

এ ছাড়া ‘International Science and Invention Fair–2025’-এ অনলাইনে অংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আসরে ২৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সিলভার মেডেল অর্জন করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এবার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন এবং চাঁদপুরের নাম বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। এজন্য তারা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।