চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে একটি পক্ষ রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি মূলত ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে, এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মনিপুর গ্রামে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে নাচ দেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, একই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা হারুনের ছেলে ওবায়েদ (১৪) ওই সময় খিলা বাজারের একটি ওয়ার্কশপে কর্মরত থাকায় তার মালিক ফোন করে ব্যাটারির তিনটি প্লেট কোথায় আছে জানতে চান। ওবায়েদ জানান, তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানে রয়েছেন এবং প্লেটগুলো রেখে আসবেন। এ সময় কথোপকথনের ভুল ব্যাখ্যা করে প্রতিপক্ষ অস্ত্র আনার সন্দেহে তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ওবায়েদ (১৪), ফাহিম (১৯) ও তাফসিক (১৬) আহত হন এবং তাদের তিনটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি বিএনপি নেতা মো. আব্দুল ওহাবের বাড়ির সামনে ঘটে বলে জানা যায়। পরে তিনি ও তার ছেলে মানিক বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ জুলাই বিকেলে একই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বেপারী বাড়ির সামনে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় রাকিবসহ তিনজনকে মারধর করা হয়। এতে রাকিব গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনার পর একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে হামলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে ৯ জুলাই সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; এটি পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধের জের।
এ বিষয়ে চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন (এমএসসি) বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। ঘটনাটি আমার বাড়ির সামনেই ঘটেছে। এটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।”
ঘটনার মীমাংসা কেন হয়নি—এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা মো. আব্দুল ওহাব বলেন, “ঘটনার স্থান নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ছিল। কেউ বিদ্যালয়ের সামনে, কেউ মাদ্রাসার সামনে ঘটেছে বলে দাবি করায় এবং টানাপোড়েন চলতে থাকায় বিষয়টির সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। ৭ জুলাইয়ের ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই।”
এদিকে ৭ জুলাইয়ের সংঘর্ষের ঘটনায় রাকিব বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-১৭)। এ বিষয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।




























