চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা সদরে অবস্থিত শাহরাস্তি দারুল কুরআন মাদরাসায় সবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) মাদরাসার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মো. মোত্তাকিন। পরে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে কোরআন তিলাওয়াত পরিবেশন করে। আলোচনা পর্বে মাদরাসার শিক্ষার্থী তাসনীম আলী কাউসার ইংরেজিতে বক্তব্য উপস্থাপন করে উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বুলবুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান মুফাসসির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সবক প্রদান করেন সাদ্রা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী। তিনি কোমলমতি শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দয়া করে আপনারা শিক্ষার্থীদের মারবেন না। আপনাদের যদি মারতে ইচ্ছা হয়, প্রয়োজনে আমাকে মারবেন, তারপরও এই কোমলমতি শিশুদের মারবেন না।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, স্নেহ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে। শিশুদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে মাদরাসার ৪৩ জন শিক্ষার্থীকে সবক প্রদান করা হয়। এ সময় হিফজ সম্পন্ন করা দুই শিক্ষার্থী হাফেজ জাফির ইসলাম ও হাফেজ আইমান পবিত্র কোরআন থেকে তাদের সবকের শেষ পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করে উপস্থিত অতিথিদের শোনায়। তাদের এ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম কাজল, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, বাদশাহ ফয়সাল, আলী আজগর মিয়াজী, হাফেজ মাওলানা হোসাইন আহমদ চাঁদপুরী, মাওলানা সামছুদ্দিন জায়েদী, হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আনাছ, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা মোশারফ হোসেন ও হাফেজ কবির হোসেনসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম। সবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং পবিত্র কোরআন হিফজের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
























