ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামাজ পড়তে যাওয়ায় কর্মচারিকে মারধর করলেন প্রধান শিক্ষক

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বলশিদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রোববার (তারিখ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, স্কুলের কর্মচারী মো. নেয়ামত উল্লাহ জোহরের নামাজ আদায় করে অফিসে ফেরার পর প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দেবনাথ তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তার মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করেন। সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে তিনি দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান।

নেয়ামত উল্লাহ জানান, “আমি নিয়মিত নামাজ পড়ি। ওইদিনও জোহরের নামাজ পড়ে অফিসে ফিরতেই স্যারের রোষানলে পড়ি। তিনি আমাকে তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়ার অভিযোগে মারধর করেন।” তিনি বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

সহকর্মী শাহ্ আলম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, তবে ঘটনা শোনার পরই হাসপাতালে ছুটে যাই। আমি নেয়ামত ভাইয়ের পাশে আছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আ. রহিম বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। কাল ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দেবনাথের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, অখিল চন্দ্র দেবনাথ এর আগেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে এক সময় বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি আবারো দায়িত্বে ফিরে আসেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয়

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল গ্রেপ্তার

নামাজ পড়তে যাওয়ায় কর্মচারিকে মারধর করলেন প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ১২:৩৯:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বলশিদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রোববার (তারিখ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, স্কুলের কর্মচারী মো. নেয়ামত উল্লাহ জোহরের নামাজ আদায় করে অফিসে ফেরার পর প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দেবনাথ তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তার মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করেন। সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে তিনি দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান।

নেয়ামত উল্লাহ জানান, “আমি নিয়মিত নামাজ পড়ি। ওইদিনও জোহরের নামাজ পড়ে অফিসে ফিরতেই স্যারের রোষানলে পড়ি। তিনি আমাকে তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়ার অভিযোগে মারধর করেন।” তিনি বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

সহকর্মী শাহ্ আলম বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, তবে ঘটনা শোনার পরই হাসপাতালে ছুটে যাই। আমি নেয়ামত ভাইয়ের পাশে আছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আ. রহিম বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। কাল ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র দেবনাথের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, অখিল চন্দ্র দেবনাথ এর আগেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে এক সময় বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি আবারো দায়িত্বে ফিরে আসেন।