ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মতলব ধনাগোদা নদীতে শতাধিক অবৈধ মাছ ধরার ফাঁদ

oplus_0

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া গোমতী নদীর শাখা ধনাগোদা নদীতে রয়েছে শতাধিক অবৈধ মাছ ধরার ফাঁদ। মাছ ধরার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীতে বাঁশের বেড়া ও জাগ ফেলে অবৈধভাবে মাছ ধরছেন। এতে ডিমওয়ালা সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিধন হচ্ছে। সেই সাথে অবৈধ এই বাঁধের কারণে নৌ-যান চলাচল ও পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে নদীর তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর প্রায় ৩২ কিলোমিটারের মধ্যে দু’পাশে ও খালের মুখে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে জাগ দেওয়া হয়েছে। বাঁশের বেড়ার সাথে মশারীর জাল চারদিকে আটকানো। পানির উপরিভাগ থেকে নদীর তলদেশ পর্যন্ত এ জাল ছড়িয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ ধরছে। তারমধ্যে পুঁটি, টেংরা, বেলে, রুই, কাতলা, আইড়মাছ সহ দেশী জাতের ডিমওয়ালা মাছ ধরছেন জেলেরা।

মতলবের দুই উপজেলা মৎস্য কার্যালয় এবং স্থানীয় সূত্রে মতে জানা যায়, বহু বছর ধরেই ধনাগোদা নদীর ৩২ কিলোমিটার জুড়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার চরমুকুন্দী, কাজির বাজার, উদ্দমদী, সাহাপুর, চরলক্ষীপুর, মাছুয়াখাল, উত্তর বাইশপুর, নায়েরগাঁও, বাইশপুর এবং মতলব উত্তর উপজেলার কালির বাজার, দূর্গাপুর, আমুয়াকান্দা, লক্ষীপুর, নন্দলালপুর, ঠেটালিয়া, আমিরাবাদ, বিনন্দপুর, গাজীপুর, এনায়েতনগর, কালিপুর সহ প্রায় ৩০টি এলাকায় বাঁশের বেড়া দিয়ে জাগ পাতা রয়েছে। এর মধ্যে ফেরীঘাট এলাকায় ৮টি, নায়েরগাঁও ৩৫টি, আমিরাবাদে ৪৬টি, কালিপুরে ৩২টি, পশ্চিম বাইশপুরে ৬টি, চরমুকুন্দী ২টি, সিপাইকান্দি ১০টিসহ শতাধিক জাগ পাতা রয়েছে। যা ১৯৫০ সালের মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন মোতাবেক নদী বা প্রবাহমান স্রতোধারায় বেড়া বা বাঁধ দিয়ে যেকোন মাছ শিকার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, চলতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কম্বিং অপারেশনের মাধ্যমে কাজির বাজার এলাকাসহ প্রায় ২৮টি অবৈধ জাগ উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ এসব জাগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় বিশেষ কম্বিং অপারেশনের সময়ে এসব কাজ করতে হয়। সেই সাথে বর্তমানে জাটকা ইলিশ রক্ষায় অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মতলবে দুই ছিনতাইকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে তুলে দিলো এলাকাবাসী 

মতলব ধনাগোদা নদীতে শতাধিক অবৈধ মাছ ধরার ফাঁদ

Update Time : ১০:৫৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া গোমতী নদীর শাখা ধনাগোদা নদীতে রয়েছে শতাধিক অবৈধ মাছ ধরার ফাঁদ। মাছ ধরার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীতে বাঁশের বেড়া ও জাগ ফেলে অবৈধভাবে মাছ ধরছেন। এতে ডিমওয়ালা সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিধন হচ্ছে। সেই সাথে অবৈধ এই বাঁধের কারণে নৌ-যান চলাচল ও পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে নদীর তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর প্রায় ৩২ কিলোমিটারের মধ্যে দু’পাশে ও খালের মুখে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে জাগ দেওয়া হয়েছে। বাঁশের বেড়ার সাথে মশারীর জাল চারদিকে আটকানো। পানির উপরিভাগ থেকে নদীর তলদেশ পর্যন্ত এ জাল ছড়িয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ ধরছে। তারমধ্যে পুঁটি, টেংরা, বেলে, রুই, কাতলা, আইড়মাছ সহ দেশী জাতের ডিমওয়ালা মাছ ধরছেন জেলেরা।

মতলবের দুই উপজেলা মৎস্য কার্যালয় এবং স্থানীয় সূত্রে মতে জানা যায়, বহু বছর ধরেই ধনাগোদা নদীর ৩২ কিলোমিটার জুড়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার চরমুকুন্দী, কাজির বাজার, উদ্দমদী, সাহাপুর, চরলক্ষীপুর, মাছুয়াখাল, উত্তর বাইশপুর, নায়েরগাঁও, বাইশপুর এবং মতলব উত্তর উপজেলার কালির বাজার, দূর্গাপুর, আমুয়াকান্দা, লক্ষীপুর, নন্দলালপুর, ঠেটালিয়া, আমিরাবাদ, বিনন্দপুর, গাজীপুর, এনায়েতনগর, কালিপুর সহ প্রায় ৩০টি এলাকায় বাঁশের বেড়া দিয়ে জাগ পাতা রয়েছে। এর মধ্যে ফেরীঘাট এলাকায় ৮টি, নায়েরগাঁও ৩৫টি, আমিরাবাদে ৪৬টি, কালিপুরে ৩২টি, পশ্চিম বাইশপুরে ৬টি, চরমুকুন্দী ২টি, সিপাইকান্দি ১০টিসহ শতাধিক জাগ পাতা রয়েছে। যা ১৯৫০ সালের মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন মোতাবেক নদী বা প্রবাহমান স্রতোধারায় বেড়া বা বাঁধ দিয়ে যেকোন মাছ শিকার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, চলতি বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কম্বিং অপারেশনের মাধ্যমে কাজির বাজার এলাকাসহ প্রায় ২৮টি অবৈধ জাগ উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ এসব জাগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় বিশেষ কম্বিং অপারেশনের সময়ে এসব কাজ করতে হয়। সেই সাথে বর্তমানে জাটকা ইলিশ রক্ষায় অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।