ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রয়টার্সের প্রতিবেদন

আড়াল থেকে শীর্ষ ক্ষমতার লড়াইয়ে জামায়াত আমির

ছবি-ত্রিনদী

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা শফিকুর রহমান এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাদা পোশাক ও দাড়িওয়ালা মুখে তার ছবি ঢাকার বিভিন্ন পোস্টার ও বিলবোর্ডে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ভোটারদের আহ্বান জানানো হচ্ছে আসন্ন বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে দেশের প্রথম ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পক্ষে ভোট দিতে। ৬৭ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও জামায়াতে ইসলামীর আমির অল্প সময়ের মধ্যেই তুলনামূলক অচেনা এক ব্যক্তি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছেন।

দশকের পর দশক মূলত ইসলামপন্থি রাজনীতির ভেতরেই পরিচিত থাকা শফিকুর রহমান এখন জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চে। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট এবারের নির্বাচনে তাদের সাবেক মিত্র ও বর্তমান ফ্রন্টরানার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই গড়ে তুলতে পারে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালে জেন জি নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এটি দেশের প্রথম নির্বাচন। প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার বাংলাদেশে আনুমানিক ৯১ শতাংশ মানুষ মুসলিম। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিও সংরক্ষিত রয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার অভিযোগে সমালোচিত জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী নির্বাচনী ফলাফলের পথে এগোচ্ছে। এই সম্ভাবনা মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামপন্থি দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি অনুসরণ করা হয়। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কারাবন্দি করা হয়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং দলটিকে নিষিদ্ধ করে কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে ঠেলে দেওয়া হয়। শফিকুর রহমান নিজেও ২০২২ সালে নিষিদ্ধ একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৫ মাস কারাভোগ করেন।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরিস্থিতি বদলে দেয়। ওই বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করে। পরের বছর আদালতের রায়ে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, ফলে দীর্ঘদিন গোপনে কার্যক্রম চালানো দলটি আবার প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফিরে আসে।

এরপর দ্রুত সংগঠিত হয় জামায়াত। দাতব্য কার্যক্রম ও বন্যা ত্রাণ তৎপরতার মাধ্যমে দলটি মাঠে সক্রিয় হয়। এসব কার্যক্রমে শফিকুর রহমানের উপস্থিতি তাকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানের পর আবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক
১৯৫৮ সালে মৌলভীবাজার জেলায় জন্ম নেওয়া শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় একটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে। পরে তিনি জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি জয়ী হননি। ২০২০ সালে তিনি দলের আমির নির্বাচিত হন।

তার স্ত্রী আমিনা বেগম ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তিনিও একজন চিকিৎসক। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলেও চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত। শফিকুর রহমান সিলেট অঞ্চলে একটি পারিবারিক মালিকানাধীন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

ঢাকার অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে তার নাম খুব একটা পরিচিত ছিল না। এটি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে একটি বড় পার্থক্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে শীর্ষ পদে লড়াই করছেন। উল্লেখ্য, দুই ‘রহমান’-এর মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।

জামায়াত শফিকুর রহমানকে বিনয়ী ও সৎ একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে, যিনি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংযত জীবনযাপন করেন।

রাজনৈতিক শূন্যতা ও উত্থান
বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন শফিকুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, অভ্যুত্থানের পর প্রথম দিকে দেশে কোনো দৃশ্যমান নেতৃত্ব ছিল না। ওই সময় তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করছিলেন, আর শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে দ্রুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি জামায়াতকে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, নৈতিক ও দুর্নীতিবিরোধী বিকল্প শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। গত ডিসেম্বরে দলটি জেন জি-সমর্থিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি)-এর সঙ্গে জোট গঠন করে, যা তরুণ ও তুলনামূলক কম রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

এদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘গেম অব থ্রোনস’ থেকে অনুপ্রাণিত পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যেখানে শফিকুর রহমানের ছবির পাশে লেখা—“দাদু আসছে”। অনেকের কাছে তিনি জামায়াতের তুলনামূলক মধ্যপন্থি মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তবে নারীদের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াত এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। শফিকুর রহমানের মন্তব্য অনুযায়ী, নারীদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, যাতে তারা পারিবারিক দায়িত্বে বেশি সময় দিতে পারেন। সম্প্রতি তার নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হয়। জামায়াতের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা যুক্তিসঙ্গত ও নমনীয় নীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষায়, ইসলামী মূল্যবোধ শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য।

সূত্র: রয়টার্স

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

রয়টার্সের প্রতিবেদন

আড়াল থেকে শীর্ষ ক্ষমতার লড়াইয়ে জামায়াত আমির

Update Time : ০৭:৩২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা শফিকুর রহমান এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাদা পোশাক ও দাড়িওয়ালা মুখে তার ছবি ঢাকার বিভিন্ন পোস্টার ও বিলবোর্ডে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ভোটারদের আহ্বান জানানো হচ্ছে আসন্ন বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে দেশের প্রথম ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পক্ষে ভোট দিতে। ৬৭ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও জামায়াতে ইসলামীর আমির অল্প সময়ের মধ্যেই তুলনামূলক অচেনা এক ব্যক্তি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছেন।

দশকের পর দশক মূলত ইসলামপন্থি রাজনীতির ভেতরেই পরিচিত থাকা শফিকুর রহমান এখন জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চে। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট এবারের নির্বাচনে তাদের সাবেক মিত্র ও বর্তমান ফ্রন্টরানার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই গড়ে তুলতে পারে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০২৪ সালে জেন জি নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর এটি দেশের প্রথম নির্বাচন। প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার বাংলাদেশে আনুমানিক ৯১ শতাংশ মানুষ মুসলিম। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিও সংরক্ষিত রয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার অভিযোগে সমালোচিত জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী নির্বাচনী ফলাফলের পথে এগোচ্ছে। এই সম্ভাবনা মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামপন্থি দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি অনুসরণ করা হয়। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কারাবন্দি করা হয়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং দলটিকে নিষিদ্ধ করে কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে ঠেলে দেওয়া হয়। শফিকুর রহমান নিজেও ২০২২ সালে নিষিদ্ধ একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৫ মাস কারাভোগ করেন।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরিস্থিতি বদলে দেয়। ওই বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করে। পরের বছর আদালতের রায়ে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, ফলে দীর্ঘদিন গোপনে কার্যক্রম চালানো দলটি আবার প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফিরে আসে।

এরপর দ্রুত সংগঠিত হয় জামায়াত। দাতব্য কার্যক্রম ও বন্যা ত্রাণ তৎপরতার মাধ্যমে দলটি মাঠে সক্রিয় হয়। এসব কার্যক্রমে শফিকুর রহমানের উপস্থিতি তাকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানের পর আবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক
১৯৫৮ সালে মৌলভীবাজার জেলায় জন্ম নেওয়া শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় একটি বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে। পরে তিনি জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি জয়ী হননি। ২০২০ সালে তিনি দলের আমির নির্বাচিত হন।

তার স্ত্রী আমিনা বেগম ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তিনিও একজন চিকিৎসক। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলেও চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত। শফিকুর রহমান সিলেট অঞ্চলে একটি পারিবারিক মালিকানাধীন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

ঢাকার অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে তার নাম খুব একটা পরিচিত ছিল না। এটি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে একটি বড় পার্থক্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে শীর্ষ পদে লড়াই করছেন। উল্লেখ্য, দুই ‘রহমান’-এর মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।

জামায়াত শফিকুর রহমানকে বিনয়ী ও সৎ একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে, যিনি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংযত জীবনযাপন করেন।

রাজনৈতিক শূন্যতা ও উত্থান
বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন শফিকুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, অভ্যুত্থানের পর প্রথম দিকে দেশে কোনো দৃশ্যমান নেতৃত্ব ছিল না। ওই সময় তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করছিলেন, আর শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে দ্রুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি জামায়াতকে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক, নৈতিক ও দুর্নীতিবিরোধী বিকল্প শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। গত ডিসেম্বরে দলটি জেন জি-সমর্থিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি)-এর সঙ্গে জোট গঠন করে, যা তরুণ ও তুলনামূলক কম রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

এদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘গেম অব থ্রোনস’ থেকে অনুপ্রাণিত পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যেখানে শফিকুর রহমানের ছবির পাশে লেখা—“দাদু আসছে”। অনেকের কাছে তিনি জামায়াতের তুলনামূলক মধ্যপন্থি মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তবে নারীদের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াত এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। শফিকুর রহমানের মন্তব্য অনুযায়ী, নারীদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, যাতে তারা পারিবারিক দায়িত্বে বেশি সময় দিতে পারেন। সম্প্রতি তার নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হয়। জামায়াতের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা যুক্তিসঙ্গত ও নমনীয় নীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষায়, ইসলামী মূল্যবোধ শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য।

সূত্র: রয়টার্স