ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: প্রস্তুতি সম্পন্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ Time View

অনলাইন ডেক্স:

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বাসস’কে জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে।’

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ভোট নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কার কারণ নেই। এ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বিচ্ছিন্ন দু’টি দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ পাশাপাশি তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

ইসি’র এক পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর নির্বাচনি পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোট প্রদানের হারের প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে ফল প্রকাশ করা হবে। এ কেন্দ্রের কার্যক্রম ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন পুরুষ এবং ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন নারী ভোটার রয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

ইসি জানায়, নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না।

পাশাপাশি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: প্রস্তুতি সম্পন্ন

Update Time : ১২:২৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেক্স:

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বাসস’কে জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে।’

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ভোট নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কার কারণ নেই। এ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বিচ্ছিন্ন দু’টি দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ পাশাপাশি তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

ইসি’র এক পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর নির্বাচনি পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোট প্রদানের হারের প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে ফল প্রকাশ করা হবে। এ কেন্দ্রের কার্যক্রম ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন পুরুষ এবং ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন নারী ভোটার রয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

ইসি জানায়, নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না।

পাশাপাশি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।