ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মতলবের ৬ যুবদল এবং ছাত্রদল নেতার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই জামিন লাভ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার যুবদল ও ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী আটকের একদিন পরেই আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জামিন লাভ করেছেন। তারা হলেন -মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু, মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান এবং হাসান, জুয়েল ও আদর।
গত ১ এপ্রিল চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা জজকোর্ট -২ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর মিরাজ মাহমুদ জিসানকে প্রধান আসামী করে ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে বাইশপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে শরীফ হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি মারামারির মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপক দ্রুত সময়ের মধ্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসানকে প্রধান করে মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য-সচিব রেহান উদ্দিন রাজন, হাসান, জুয়েল, আদরসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জসীট) দাখিল করেন। বিভিন্ন সময়ে তারা আদালতে হাজিরা দিলেও গত কয়েকটি তারিখে হাজিরা না দেওয়ায় অধিকাংশ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
গত ১ এপ্রিল দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু, মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান এবং হাসান,জুয়েল ও আদর চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা জর্জকোট -২ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার আটক হওয়া ৬ জনের জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত পর্যালোচনা করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪ টায় বাবুরহাট কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন আটককৃত যুবদল ও ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী।
জামিনে বেরিয়ে এসে মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, বিগত ১৭ টি বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে। বিগত ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর যে মামলায় আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে সে মামলাটি করার কথা আমাদের। ওইদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মতলব বাজারস্থ সিঙ্গাপুর প্লাজার নিকট হরতালে পিকেটিং করার সময় আমরা যারা আসামী হয়েছি প্রত্যেকের উপর হামলা করেছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তাদের মধ্যে ছিল শরীফ ওরফে লাল শরীফ, আক্তার, হুসাইন মোহাম্মদ কচি, শরীফ পাটোয়ারী, সৈকত, মামুন হোসেন, আকাশসহ অনেকে।
আমরা রক্তাক্ত জখম হওয়ার পরও থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে তারা মামলা না নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শরীফ হোসেন।
মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমি এবং আমার পরিবারের অনেকেই অসংখ্য মিথ্যা মামলার শিকার হই এবং কারাবরণ করতে হয়।যে মামলায় গতকাল হাজিরা দিতে এসে জেল হাজতে যেতে হয়েছে সেটিও একটি মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা।
এদিকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাবুরহাট জেলগেট থেকে ফুলের মালা পড়িয়ে বরণ করে নেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালালে কোন সৈন্যই বেঁচে ফিরবেনা-ইরানি সেনাপ্রধান

মতলবের ৬ যুবদল এবং ছাত্রদল নেতার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই জামিন লাভ

Update Time : ০৩:১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার যুবদল ও ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী আটকের একদিন পরেই আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জামিন লাভ করেছেন। তারা হলেন -মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু, মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান এবং হাসান, জুয়েল ও আদর।
গত ১ এপ্রিল চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা জজকোর্ট -২ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর মিরাজ মাহমুদ জিসানকে প্রধান আসামী করে ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে বাইশপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে শরীফ হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি মারামারির মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপক দ্রুত সময়ের মধ্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসানকে প্রধান করে মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য-সচিব রেহান উদ্দিন রাজন, হাসান, জুয়েল, আদরসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জসীট) দাখিল করেন। বিভিন্ন সময়ে তারা আদালতে হাজিরা দিলেও গত কয়েকটি তারিখে হাজিরা না দেওয়ায় অধিকাংশ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
গত ১ এপ্রিল দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু, মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান এবং হাসান,জুয়েল ও আদর চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা জর্জকোট -২ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার আটক হওয়া ৬ জনের জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত পর্যালোচনা করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪ টায় বাবুরহাট কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন আটককৃত যুবদল ও ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী।
জামিনে বেরিয়ে এসে মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, বিগত ১৭ টি বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে। বিগত ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর যে মামলায় আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে সে মামলাটি করার কথা আমাদের। ওইদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মতলব বাজারস্থ সিঙ্গাপুর প্লাজার নিকট হরতালে পিকেটিং করার সময় আমরা যারা আসামী হয়েছি প্রত্যেকের উপর হামলা করেছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তাদের মধ্যে ছিল শরীফ ওরফে লাল শরীফ, আক্তার, হুসাইন মোহাম্মদ কচি, শরীফ পাটোয়ারী, সৈকত, মামুন হোসেন, আকাশসহ অনেকে।
আমরা রক্তাক্ত জখম হওয়ার পরও থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে তারা মামলা না নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শরীফ হোসেন।
মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমি এবং আমার পরিবারের অনেকেই অসংখ্য মিথ্যা মামলার শিকার হই এবং কারাবরণ করতে হয়।যে মামলায় গতকাল হাজিরা দিতে এসে জেল হাজতে যেতে হয়েছে সেটিও একটি মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা।
এদিকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাবুরহাট জেলগেট থেকে ফুলের মালা পড়িয়ে বরণ করে নেন।