ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল-অকটেন সংকট

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ২১ Time View

চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ জ্বালানি বিক্রি হয় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা ফিলিং স্টেশনগুলোতে। তবে বৈশ্বিক জ¦ালানি পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ পাম্পে গত ১০ থেকে ১২ দিন অকটেন সরবরাহ বন্ধ। এই সড়কের মাত্র দুটি পাম্পে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল। যার ফলে মোটর সাইকেল চালকরা চরম বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন কোম্পানীতে বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা সদর থেকে কচুয়া উপজেলার খাজুরিয়া পর্যন্ত সরেজমিন ফিলিং স্টেশনগুলোর সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

চাঁদপুর সদরের আমির হোসেন কোং, শহরের ওয়াবদা গেট মেসার্স ফয়সাল পেট্রোল পাম্প, জেলা পরিষদ সংলগ্ন শারমিন পেট্রোল পাম্প, হাজীগঞ্জ বলাখাল এইচ.বি সিএনজি এণ্ড ফিলিং স্টেশন, আলীগঞ্জ মেসার্স মনিরা ফিলিং স্টেশন, শাহরাস্তি ওয়ারুক কাজী ফিলিং স্টেশন, সুয়াপাড়া হান্নান ফিলিং স্টেশন-খাজা ফিলিং স্টেশন ও কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের কচুয়া বাজার সংলগ্ন সুলতানা ফিলিং স্টেশন, ফরিদগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে মেসার্স হাজী আব্দুল আলী ফিলিং স্টেশন, মতলব উত্তর ঠেটালিয়া হযরত শাহ্ সোলেমান লেংটা ফিলিং স্টেশনের মধ্যে গত ১০-১২ দিন অকেটন সরবরাহ বন্ধ।

এর মধ্যে পেট্রোল-অকটেন বিক্রি হয় সদরের তিনটি, মতলব উত্তরের একটি এবং ফরিদগঞ্জের একটিতে। বাকিগুলোতে অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়।

হাজীগঞ্জ বলাখাল এইচ.বি সিএনজি এন্ড ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, তিনি আধাঘন্টা আগে এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু পেট্রোল ও অকটেন কিছুই নেই। যে কারণে তাকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

মোশারফ নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার প্রয়োজনে ২০০টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি করুক। তারপরেও আমাদের জ¦ালানি প্রয়োজন। গত ১০দিন আমরা চরম ভোগান্তিতে।

একই ফিলিং স্টেশনে আসা ব্রাকের সিডে কাজ করেন আবু আহমেদ ও রবিতে কাজ করেন মো. ওয়াসি। এই দুই বিক্রয় কর্মী বলেন, পেশাগত কারণে তাদের জ¦ালানি ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যাওয়ার তাদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

ফরিদগঞ্জ মেসার্স হাজী আব্দুল আলী ফিলিং স্টেশন এর পরিচালক মো. ইব্রাহীম জানান, তিনি গত ১০দিন পেট্রোল-অকটেন কোনটাই পাননি। সরবরাহ না থাকায় তিনি বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

মতলব উত্তর সুজাতপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন জানান, তাদের উপজেলায় একটি মাত্র পেট্রোল পাম্প। এটিতে জ্বালানি না থাকায় বাহিরে খুচরা দোকান থেকে ১৮০-১৯০টাকা দরে প্রতি লিটার পেট্রোল ক্রয় করতে হচ্ছে।

বিকেলে সদরের আমির হোসেন এবং ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে দেখাগেছে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। তারা জ্বালানি দিলেও ৩০০টাকার বেশি জ¦ালানি দিচ্ছেনা কোন ক্রেতাকে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, পাম্পগুলোতে মজুদ থাকলে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেকটি পাম্পে আমরা টেগ অফিসার সহ কঠোর নজরদারি রেখেছি। যেন কোন ব্যবসায়ী যাতে গোপনে জ¦ালানি মজুদ রাখতে না পারে।

এদিকে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোয় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিদিন এই ডিপোগুলো থেকে লরি ও ব্যারেলের মাধ্যমে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিপো ইনচার্জরা জানান, বর্তমানে তিনটি ডিপোয় ডিজেল মজুত রয়েছে ৭৬ লাখ ৬৫ হাজার লিটার, অকটেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার লিটার, পেট্রল ১৭ লাখ ২০ হাজার লিটার এবং কেরোসিন ১৯ লাখ ৩২ হাজার লিটার। যা দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের চাহিদা মিটবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কচুয়ায় কোমরকাশা জমিজামা বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চড়ম উত্তেজনা

চাঁদপুরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল-অকটেন সংকট

Update Time : ১১:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ জ্বালানি বিক্রি হয় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা ফিলিং স্টেশনগুলোতে। তবে বৈশ্বিক জ¦ালানি পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ পাম্পে গত ১০ থেকে ১২ দিন অকটেন সরবরাহ বন্ধ। এই সড়কের মাত্র দুটি পাম্পে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল। যার ফলে মোটর সাইকেল চালকরা চরম বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন কোম্পানীতে বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা সদর থেকে কচুয়া উপজেলার খাজুরিয়া পর্যন্ত সরেজমিন ফিলিং স্টেশনগুলোর সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।

চাঁদপুর সদরের আমির হোসেন কোং, শহরের ওয়াবদা গেট মেসার্স ফয়সাল পেট্রোল পাম্প, জেলা পরিষদ সংলগ্ন শারমিন পেট্রোল পাম্প, হাজীগঞ্জ বলাখাল এইচ.বি সিএনজি এণ্ড ফিলিং স্টেশন, আলীগঞ্জ মেসার্স মনিরা ফিলিং স্টেশন, শাহরাস্তি ওয়ারুক কাজী ফিলিং স্টেশন, সুয়াপাড়া হান্নান ফিলিং স্টেশন-খাজা ফিলিং স্টেশন ও কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের কচুয়া বাজার সংলগ্ন সুলতানা ফিলিং স্টেশন, ফরিদগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে মেসার্স হাজী আব্দুল আলী ফিলিং স্টেশন, মতলব উত্তর ঠেটালিয়া হযরত শাহ্ সোলেমান লেংটা ফিলিং স্টেশনের মধ্যে গত ১০-১২ দিন অকেটন সরবরাহ বন্ধ।

এর মধ্যে পেট্রোল-অকটেন বিক্রি হয় সদরের তিনটি, মতলব উত্তরের একটি এবং ফরিদগঞ্জের একটিতে। বাকিগুলোতে অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়।

হাজীগঞ্জ বলাখাল এইচ.বি সিএনজি এন্ড ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, তিনি আধাঘন্টা আগে এসে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু পেট্রোল ও অকটেন কিছুই নেই। যে কারণে তাকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

মোশারফ নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার প্রয়োজনে ২০০টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি করুক। তারপরেও আমাদের জ¦ালানি প্রয়োজন। গত ১০দিন আমরা চরম ভোগান্তিতে।

একই ফিলিং স্টেশনে আসা ব্রাকের সিডে কাজ করেন আবু আহমেদ ও রবিতে কাজ করেন মো. ওয়াসি। এই দুই বিক্রয় কর্মী বলেন, পেশাগত কারণে তাদের জ¦ালানি ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যাওয়ার তাদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

ফরিদগঞ্জ মেসার্স হাজী আব্দুল আলী ফিলিং স্টেশন এর পরিচালক মো. ইব্রাহীম জানান, তিনি গত ১০দিন পেট্রোল-অকটেন কোনটাই পাননি। সরবরাহ না থাকায় তিনি বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

মতলব উত্তর সুজাতপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন জানান, তাদের উপজেলায় একটি মাত্র পেট্রোল পাম্প। এটিতে জ্বালানি না থাকায় বাহিরে খুচরা দোকান থেকে ১৮০-১৯০টাকা দরে প্রতি লিটার পেট্রোল ক্রয় করতে হচ্ছে।

বিকেলে সদরের আমির হোসেন এবং ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে দেখাগেছে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। তারা জ্বালানি দিলেও ৩০০টাকার বেশি জ¦ালানি দিচ্ছেনা কোন ক্রেতাকে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, পাম্পগুলোতে মজুদ থাকলে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেকটি পাম্পে আমরা টেগ অফিসার সহ কঠোর নজরদারি রেখেছি। যেন কোন ব্যবসায়ী যাতে গোপনে জ¦ালানি মজুদ রাখতে না পারে।

এদিকে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোয় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিদিন এই ডিপোগুলো থেকে লরি ও ব্যারেলের মাধ্যমে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিপো ইনচার্জরা জানান, বর্তমানে তিনটি ডিপোয় ডিজেল মজুত রয়েছে ৭৬ লাখ ৬৫ হাজার লিটার, অকটেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার লিটার, পেট্রল ১৭ লাখ ২০ হাজার লিটার এবং কেরোসিন ১৯ লাখ ৩২ হাজার লিটার। যা দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের চাহিদা মিটবে।