হাজীগঞ্জে দুই দিনে পৃথক ঘটনায় বৈদ্যুতিক সট-সার্কিটেন আগুনে ৬টি বসতঘর ও ৩টি রান্নাঘর’সহ ঘরে থাকা মালামাল’সহ পুড়ে ছাই হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাউড়া গ্রামে এবং সোমবার দিবাগত রাতে দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের নাসিরকোট গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুনে বাউড়া গ্রামের পশ্চিম পাড়া সুলতান হাজী বাড়ির মিজানুর রহমানের বসতঘর’সহ একটি রান্নাঘর এবং নাসিরকোট গ্রামের মিজি বাড়ির মৌসুমী আক্তারের ৩টি বসতঘর’সহ একটি রান্নাঘর ও জোৎস্না বেগমের ২টি বসতঘর’সহ একটি রান্নাঘর এবং ঘরে থাকা সকল মালামাল পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নাসিরকোট গ্রামের মিজি বাড়ির রাব্বির স্ত্রী মৌসুমি আক্তারের বসতঘরে আগুন জ¦লতে দেখে এবং বাড়ির লোকজনের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ও এলাকাবাসী ছুটে আসেন। তারা হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে নিজেরা আগুন নেভানোরা চেষ্টা করেন। কিন্ত আগুনের ভয়াবহতার ফলে বসতঘরের ধারে-কাছেও কেউ যেতে পারেনি।
এসময় পাশে থাকা একই বাড়ির লাল মিয়ার স্ত্রী জোৎস্না বেগমের বসতঘরে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্থানীয় ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় প্রায় দেড়ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষনে মৌসুমি বেগমের ৫টি ও জোৎস্না বেগমের ৩টি ঘর, ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়।
এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাজী বাড়ির মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ¦লতে দেখে বাড়ির লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এসময় তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় একঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
এর মধ্যে দুইটি ঘরসহ স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় ওই দুইটি বাড়ির অন্যান্য বসতঘরগুলো রক্ষা পায়। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের ধারণা, বৈদ্যুতিক সট-সার্কিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম.এ রহিম পাটওয়ারী’সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ, হাজীগঞ্জ সদর ও দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য’সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য জহির কাজী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনিকভাবে সহায়তা করা হবে বলে আশ^স্ত করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউসুফ প্রধানীয়া সুমন জানান, তাৎখনিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হবে।
হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. বাহার উদ্দিন জানান, গ্রীষ্মকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। তাই, মানুষকে আরো বেশি সচেতন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরানো নিয়মিত বৈদ্যুতিক ক্যাবল, সুইচ, বোর্ড, গ্যাস লাইন পরিক্ষা-নিরিক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদেরকে প্রতি নজর দিতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশেকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, দুইটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক সহযোগিতা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের তালিকা জেলা প্রশাসন এবং জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।।
নিজস্ব প্রতিনিধি: 

















