ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা॥একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ পিতা

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরব। কিন্তু সবার মুখ মলিন করে চলে গেলেন না পেরার দেশে। মাত্র ১৪ মাসের মাথায় সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের প্রবাসী হাফেজ মো. সোহেল হোসেন (৩৬)। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ পিতা হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সোহেল। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার খবরটি সহকর্মীদের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পৌঁছায়। এ সংবাদ শুনেই স্ত্রী, মা-বাবা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। নিহত সোহেল হোসেন তিন সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স ১১ বছর, ছেলের ৭ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স মাত্র আড়াই বছর। চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র ভরসাকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা ভেঙে পড়েছেন।
সোহেলের বোন সুমি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “অনেক কষ্ট করে, ধার-দেনা করে ভাইকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম কয়েক মাস কাজ না পেয়ে খুব কষ্টে ছিল। পরে আরও টাকা খরচ করে অন্যের মাধ্যমে কাজ নেয়। সবসময় টেনশনে থাকতো ঋণের ভোজা আর পরিবারের দায়িত্ব তাকে ভীষণ চাপের মধ্যে রেখেছিল। এখন আমরা কাকে নিয়ে বাঁচবো?”
এদিকে, এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন- দ্রুত সময়ের মধ্যে সোহেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। নিহত প্রবাসীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।”
একজন স্বপ্নবাজ প্রবাসীর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল একটি সংগ্রামী জীবনের গল্প।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান খোলা রাখায় ৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা॥একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ পিতা

Update Time : ১১:১৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরব। কিন্তু সবার মুখ মলিন করে চলে গেলেন না পেরার দেশে। মাত্র ১৪ মাসের মাথায় সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের প্রবাসী হাফেজ মো. সোহেল হোসেন (৩৬)। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ পিতা হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সোহেল। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার খবরটি সহকর্মীদের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পৌঁছায়। এ সংবাদ শুনেই স্ত্রী, মা-বাবা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। নিহত সোহেল হোসেন তিন সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স ১১ বছর, ছেলের ৭ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স মাত্র আড়াই বছর। চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র ভরসাকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা ভেঙে পড়েছেন।
সোহেলের বোন সুমি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “অনেক কষ্ট করে, ধার-দেনা করে ভাইকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম কয়েক মাস কাজ না পেয়ে খুব কষ্টে ছিল। পরে আরও টাকা খরচ করে অন্যের মাধ্যমে কাজ নেয়। সবসময় টেনশনে থাকতো ঋণের ভোজা আর পরিবারের দায়িত্ব তাকে ভীষণ চাপের মধ্যে রেখেছিল। এখন আমরা কাকে নিয়ে বাঁচবো?”
এদিকে, এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন- দ্রুত সময়ের মধ্যে সোহেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। নিহত প্রবাসীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।”
একজন স্বপ্নবাজ প্রবাসীর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল একটি সংগ্রামী জীবনের গল্প।