ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কচুয়ার আলোচিত মমতাজ বেগমের হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছরে রহস্য উদঘাটন হয়নি

কচুয়ায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী মমতাজ বেগমকে হত্যা করে বাড়ির পাশে ঝোপের মধ্যে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

কচুয়া উপজেলার ১১নং গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের চাপাতলী গ্ৰামের ব্যবসায়ী বাচ্ছু মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগমের হত্যাকাণ্ড ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন হয়নি। এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে বর্তমানে পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,গত বছরের (২৫ জুন) বুধবার রাতে বসতঘরে বাথরুমের পেছনের বেলকনি ভেঙে রুমে প্রবেশ করে মমতাজ বেগম (৬৫) নামে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ির পাশে ঝোপের মধ্যে লাশ পেলে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, মমতাজ বেগমের ছেলে সোহেলকে হত্যা করতে আসে দুর্বৃত্তরা, মমতাজ বেগমকে একা পেয়ে তাকে হত্যা করে। ঘর থেকে নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্রিকফিল্ড ও জমিজমার সকল কাগজপত্র নিয়ে যায়। মমতাজ বেগমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত মমতাজ বেগমের ভাই এনায়েত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, আমার বোনকে রাতের আধাঁরে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। থানায় মামলা করার পরেও এখনো ঘটনার কোন কুলকিনারা হচ্ছে না। আসামী তো দুরের কথা কোন তথ্যই আমরা পাচ্ছি না। আমার বোনের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে করার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানাই।

আবু তাহের খোকন প্রধান বলেন, এমন চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়েছে,প্রশাসন কিভাবে এখনো নীরবতা পালন করছে আমরা বোধগম্য নই। একটি মোবাইল ফোন সূত্রে একজনকে গ্রেফতার হয়েছে। বর্তমানে সে এখন জামিনে রয়েছেন। আমরা গ্রামবাসী মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট দাবী জানাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

প্রতিবেশি এমরান হোসেন বলেন, মামলা হলো ১ বছর পার হলেও পুলিশের কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না। কেন এই নীরবতা বুঝতে পারছিনা। থানা ও পিবিআই কার্যালয়ে গেলে বলে আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। আমরা দ্রুত এই হত্যার রহস্যের জট খুলতে প্রশাসনের প্রতি জোরদাবী জানাই।

নিহতের ছেলে সোহেল হোসেন বলেন, প্রায়১ বছর হয়ে গেলো এখনো পর্যন্ত আমার মাকে কে বা কারা খুন করলো তা জানতে পারলাম না। আমরা কি বিচার পাবো না। কতোবার যে থানায় গেছি কিন্তু কোন আশ্বাসও পেলাম না। আমার মায়ের হত্যার কি কোন বিচার হবে না?

তিনি আরো জানান, আমার মায়ের হত্যাকাণ্ড মামলাটি প্রথমে ৮ মাস ধরে কচুয়া থানার পুলিশ ও চাঁদপুর ডিবি পুলিশ তদন্ত করেছে, কোন কিছু ফলাফল দিতে পারেননি তারা। পরবর্তীতে হতাশা নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুর সহযোগিতা নেই । বর্তমানে ৪ মাস ধরে বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। আমার মায়ের হত্যাকান্ডের বিচার পাবো কিনা? তদন্ত করতে আর কতদিন সময় লাগবে।

মমতাজ বেগমের হত্যা মামলার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান কবির জানান, মমতাজ বেগম হত্যা মামলাটি তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলাটির শীঘ্রই একটি ফলাফল দিতে পারবো।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান এই হত্যার ঘটনায় আমরা তদন্ত করছে সিবিআই ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জ পৌর ৭নং ওয়ার্ডে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল

কচুয়ার আলোচিত মমতাজ বেগমের হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছরে রহস্য উদঘাটন হয়নি

Update Time : ১০:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

কচুয়া উপজেলার ১১নং গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের চাপাতলী গ্ৰামের ব্যবসায়ী বাচ্ছু মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগমের হত্যাকাণ্ড ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন হয়নি। এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন নিয়ে বর্তমানে পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,গত বছরের (২৫ জুন) বুধবার রাতে বসতঘরে বাথরুমের পেছনের বেলকনি ভেঙে রুমে প্রবেশ করে মমতাজ বেগম (৬৫) নামে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ির পাশে ঝোপের মধ্যে লাশ পেলে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, মমতাজ বেগমের ছেলে সোহেলকে হত্যা করতে আসে দুর্বৃত্তরা, মমতাজ বেগমকে একা পেয়ে তাকে হত্যা করে। ঘর থেকে নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্রিকফিল্ড ও জমিজমার সকল কাগজপত্র নিয়ে যায়। মমতাজ বেগমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত মমতাজ বেগমের ভাই এনায়েত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, আমার বোনকে রাতের আধাঁরে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। থানায় মামলা করার পরেও এখনো ঘটনার কোন কুলকিনারা হচ্ছে না। আসামী তো দুরের কথা কোন তথ্যই আমরা পাচ্ছি না। আমার বোনের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে করার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানাই।

আবু তাহের খোকন প্রধান বলেন, এমন চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়েছে,প্রশাসন কিভাবে এখনো নীরবতা পালন করছে আমরা বোধগম্য নই। একটি মোবাইল ফোন সূত্রে একজনকে গ্রেফতার হয়েছে। বর্তমানে সে এখন জামিনে রয়েছেন। আমরা গ্রামবাসী মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট দাবী জানাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

প্রতিবেশি এমরান হোসেন বলেন, মামলা হলো ১ বছর পার হলেও পুলিশের কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না। কেন এই নীরবতা বুঝতে পারছিনা। থানা ও পিবিআই কার্যালয়ে গেলে বলে আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। আমরা দ্রুত এই হত্যার রহস্যের জট খুলতে প্রশাসনের প্রতি জোরদাবী জানাই।

নিহতের ছেলে সোহেল হোসেন বলেন, প্রায়১ বছর হয়ে গেলো এখনো পর্যন্ত আমার মাকে কে বা কারা খুন করলো তা জানতে পারলাম না। আমরা কি বিচার পাবো না। কতোবার যে থানায় গেছি কিন্তু কোন আশ্বাসও পেলাম না। আমার মায়ের হত্যার কি কোন বিচার হবে না?

তিনি আরো জানান, আমার মায়ের হত্যাকাণ্ড মামলাটি প্রথমে ৮ মাস ধরে কচুয়া থানার পুলিশ ও চাঁদপুর ডিবি পুলিশ তদন্ত করেছে, কোন কিছু ফলাফল দিতে পারেননি তারা। পরবর্তীতে হতাশা নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুর সহযোগিতা নেই । বর্তমানে ৪ মাস ধরে বর্তমানে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। আমার মায়ের হত্যাকান্ডের বিচার পাবো কিনা? তদন্ত করতে আর কতদিন সময় লাগবে।

মমতাজ বেগমের হত্যা মামলার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান কবির জানান, মমতাজ বেগম হত্যা মামলাটি তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলাটির শীঘ্রই একটি ফলাফল দিতে পারবো।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান এই হত্যার ঘটনায় আমরা তদন্ত করছে সিবিআই ।