ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে আস্ত যাত্রী ছাউনি গায়েব!

ছবি-ত্রিনদী

হাজীগঞ্জে বিএনপি নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে দিন-দুপুরে এবং প্রকাশ্যে জেলা পরিষদের আস্ত যাত্রী ছাউনি (পাকাভবন) ভেঙ্গে নিয়ে গেলেন, ইউসুফ বেপারী নামের এক ব্যক্তি। সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার বাকিলা বাজার গিয়ে এমনটি দেখা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পরিষদের প্রশাসক জানালেন, মালামাল ফেরৎ ও ব্যবস্থা নিবেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে সৌন্দয্যবর্ধনের অংশ হিসেবে সড়কের পাশে অবৈধ সকল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এর মধ্যে ইজারা না থাকায় বাকিলা বাজারের পুরাতন যাত্রী ছাউনিটির দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। এই সুযোগে পুরো যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলেন ইউসুফ বেপারী।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বাকিলা পশ্চিম বাজারস্থ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জেলা পরিষদ নির্মিত পুরাতন একতলা বিশিষ্ট পাকাভবনটির এক তৃতীয়াংশের বেশি নেই। ভেঙ্গে ফেলা বাকি যে অংশ রয়েছেন, তা ভাঙ্গছেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই কিছু ইট ও রড পড়ে আছে।

এ সময় কথা হয় শ্রমিক ও কয়েকজন স্থানীয় লোকের সাথে। তারা জানান, ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের বড় বাড়ির মৃত শামছুল হক বেপারির ছেলে ইউসুফ বেপারী (৫৫) যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে নিচ্ছেন। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকেরা ভাঙ্গার কাজ শুরু করেন এবং ভেঙ্গে ফেলা রড ও ইটগুলো ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে এবং টেন্ডার বা ক্রয় ছাড়াই যাত্রী ছাউনির আস্ত ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা এবং এর এক তৃতীয়াংশের বেশি সরিয়ে নেওয়ারর ঘটনায় স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, কিভাবে সম্ভব এবং কত দুঃসাহস হলে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে সরকারি একটি আস্ত ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেলো?

এ বিষয়ে ইউসুফ বেপারীর সাথে কথা হলে যাত্রী ছাউনিটি ভাঙ্গার কথা স্বীকার করেন এবং তিনি উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব স্থানীয় এক নেতার নাম উল্লেখ করেন। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, টেন্ডার পেয়ে ভবনটি (যাত্রী ছাউনি) ভাঙ্গা হচ্ছে। তবে টেন্ডারের কাগজপত্র তার কাছে নেই, ওই বিএনপি নেতার কাছে রয়েছে।

এদিকে যাত্রী ছাউনিটি বিক্রির টেন্ডার হয়নি উল্লেখ করে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সলিম উল্যাহ্ সেলিম জানান, ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। মালামাল ফেরৎ দিতে হবে এবং যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে এই কাজটি করেছে, তাকে পরিষদে আসতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পদাধিকার বলে জেলা পরিষদের সদস্য মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, সরকারি অফিস বন্ধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ কাজটি করা হয়েছে। বিষয়ে তিনি দেখছেন বলে জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জ পৌর ৭নং ওয়ার্ডে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া-মাহফিল

হাজীগঞ্জে প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে আস্ত যাত্রী ছাউনি গায়েব!

Update Time : ১০:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

হাজীগঞ্জে বিএনপি নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে দিন-দুপুরে এবং প্রকাশ্যে জেলা পরিষদের আস্ত যাত্রী ছাউনি (পাকাভবন) ভেঙ্গে নিয়ে গেলেন, ইউসুফ বেপারী নামের এক ব্যক্তি। সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার বাকিলা বাজার গিয়ে এমনটি দেখা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা পরিষদের প্রশাসক জানালেন, মালামাল ফেরৎ ও ব্যবস্থা নিবেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে সৌন্দয্যবর্ধনের অংশ হিসেবে সড়কের পাশে অবৈধ সকল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এর মধ্যে ইজারা না থাকায় বাকিলা বাজারের পুরাতন যাত্রী ছাউনিটির দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। এই সুযোগে পুরো যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলেন ইউসুফ বেপারী।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বাকিলা পশ্চিম বাজারস্থ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জেলা পরিষদ নির্মিত পুরাতন একতলা বিশিষ্ট পাকাভবনটির এক তৃতীয়াংশের বেশি নেই। ভেঙ্গে ফেলা বাকি যে অংশ রয়েছেন, তা ভাঙ্গছেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই কিছু ইট ও রড পড়ে আছে।

এ সময় কথা হয় শ্রমিক ও কয়েকজন স্থানীয় লোকের সাথে। তারা জানান, ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের বড় বাড়ির মৃত শামছুল হক বেপারির ছেলে ইউসুফ বেপারী (৫৫) যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে নিচ্ছেন। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকেরা ভাঙ্গার কাজ শুরু করেন এবং ভেঙ্গে ফেলা রড ও ইটগুলো ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে এবং টেন্ডার বা ক্রয় ছাড়াই যাত্রী ছাউনির আস্ত ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা এবং এর এক তৃতীয়াংশের বেশি সরিয়ে নেওয়ারর ঘটনায় স্থানীয়রা বিস্ময় প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, কিভাবে সম্ভব এবং কত দুঃসাহস হলে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে সরকারি একটি আস্ত ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেলো?

এ বিষয়ে ইউসুফ বেপারীর সাথে কথা হলে যাত্রী ছাউনিটি ভাঙ্গার কথা স্বীকার করেন এবং তিনি উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব স্থানীয় এক নেতার নাম উল্লেখ করেন। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, টেন্ডার পেয়ে ভবনটি (যাত্রী ছাউনি) ভাঙ্গা হচ্ছে। তবে টেন্ডারের কাগজপত্র তার কাছে নেই, ওই বিএনপি নেতার কাছে রয়েছে।

এদিকে যাত্রী ছাউনিটি বিক্রির টেন্ডার হয়নি উল্লেখ করে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সলিম উল্যাহ্ সেলিম জানান, ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। মালামাল ফেরৎ দিতে হবে এবং যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে এই কাজটি করেছে, তাকে পরিষদে আসতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পদাধিকার বলে জেলা পরিষদের সদস্য মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, সরকারি অফিস বন্ধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ কাজটি করা হয়েছে। বিষয়ে তিনি দেখছেন বলে জানান।