নিজস্ব প্রতিনিধি:
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার আষ্টা বাজারে অবস্থিত প্রায় ১৫০ বছর পুরনো ঐতিহ্যবাহী মা মহামায়া মন্দিরে বিশ্ব শান্তি ও মানব কল্যাণ কামনায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের আগমন শুরু হয় এবং দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত কয়েক হাজার ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
প্রাচীন এই মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ এই পূজায় ভক্তরা মা মহামায়ার চরণে নতশির হয়ে নিজেদের, পরিবারের এবং সমগ্র মানবজাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। পূজার প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শাস্ত্রবিধি মেনে সম্পন্ন হয়। মন্দির প্রাঙ্গণের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মন্দিরের একনিষ্ঠ সারথি বাবুল সাহা, যার দক্ষ তত্ত্বাবধানে পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
পূজাকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে বসে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা, যা এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। মেলায় বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী, শিশুদের খেলনা, মিষ্টান্ন, হস্তশিল্প এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের দোকান বসে। গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় সাজানো এসব দোকান দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। দিনব্যাপী এই আয়োজন এলাকায় সৃষ্টি করে এক আনন্দঘন পরিবেশ, যা বৈশাখের প্রাণচাঞ্চল্যকে আরও বেগবান করে।
এছাড়াও, শ্রী শ্রী গিরিধারী যুব সংঘের উদ্যোগে মেলায় আগত ভক্তবৃন্দের জন্য বিনামূল্যে ঠান্ডা পানীয় ও শরবত বিতরণ করা হয়। বৈশাখের তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ সবার নজর কেড়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবতার সেবাই তাদের মূল লক্ষ্য এবং এই ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এই মহতী উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি দুর্জয় কিশোর বর্ধন। তাঁর উপস্থিতি ও আশীর্বাদে সংগঠনের সদস্যরা আরও অনুপ্রাণিত হন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি নিত্য গোপাল অধিকারী, সহ-সভাপতি কানাই সাহা, সাধারণ সম্পাদক হৃদয় চন্দ্র দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুন চৌধুরী, সদস্য সচিব অনেক দে, কোষাধ্যক্ষ ঋত্বিক সাহা, দপ্তর সম্পাদক তনয় সাহা এবং অনলাইন বিষয়ক সম্পাদক সীমান্ত কুড়িসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই এই উদ্যোগকে সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, “সেবা পরম ধর্ম”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই তারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। সামান্য এই উদ্যোগ হলেও এটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়েছে বলেই তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এ ধরনের আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুভূতিই জাগ্রত করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে এই বৈশাখী উৎসবকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে, “জয় গিরিধারী যুব সংঘ” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। মানবতার সেবায় এই ক্ষুদ্র কিন্তু মহতী উদ্যোগ ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।





























