ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে ইজারাদারের উদারতায় ৩’শ টাকার খাজনা ১’শ টাকা, মাছ বিক্রেতাদের উচ্ছ্বাস

ছবি-ত্রিনদী

হাজীগঞ্জ বাজারস্থ তরকারি পট্টি, হকার্স মার্কেট ও বালুর মাঠ (গাজীর খাদা) সহ তিনটি স্থানে মাছ বাজার রয়েছে। এর মধ্যে তরকারি পট্টিতে কাক ডাকা ভোর থেকে ১১টা পর্যন্ত, হকার্স মার্কেটে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বালুর মাঠে মাছ বিক্রি করা হয়।

এ তিনটি বাজারে প্রায় শতাধিক লোক মাছ বিক্রি করে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এদিকে তিনটি বাজারে মিলেই হাজীগঞ্জ পৌরসভা থেকে প্রতিবছর একটি ডাক (ইজারা) হয়ে থাকে। অথচ তিনটি বাজারেই আলাদা আলাদা খাজনা দিতে হতো মাছ বিক্রেতাদের।

জানা গেছে, প্রতিটি স্থানে বসার জন্য জনপ্রতি বিক্রেতাকে ১’শ টাকা করে খাজনা দিতে হতো। অর্থ্যাৎ তিনটি স্থানে বসার জন্য একজন বিক্রেতা প্রতিদিন ৩’শ টাকা খাজনা দিতেন। এছাড়াও বাজারে যে ক’জন মাছ কেঁটে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাদেরকেও অস্বাভাবিক হারে খাজনার টাকা দিতে হতো।

যার ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে তারাও বাড়তি টাকা আদায় করতেন। বড় মাছ কাটার জন্য প্রতি কেজি ৩০ টাকা করে নিতেন। যারা মাছ কাটতেন তাদের কাছ থেকে অস্বাভাবি হারে টাকার নেওয়ার বিষয়টি কয়েক মাস পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যাতে সমালোচিত হন, তৎকালিন ইজারাদার।

এদিকে সম্প্রতি হাজীগঞ্জ পৌরসভা থেকে ১৪৩৩ বাংলা সনে মাছ বাজারটি ইজারা নেন, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মো. ইমাম হোসেন। তিনি তিনটি বাজার থেকে ইজারা না নিয়ে একটি বাজারের একটি চটি (স্থান) থেকে মাত্র ১’শ টাকা করে নেন। অর্থ্যাৎ মাছ বিক্রেতাদের তিন বাজারে খাজনা দিতে হয়না, এক বাজারেই খাজনা দেন।

এছাড়া আড়ৎদারকের কাছ থেকে কোন খাজনা নেওয়া হয়না। আবার যারা মাছ কাটেন, তাদেরকে তিনভাগের একভাগ খাজনা মওকুফ করে দিয়েছেন। যেমন, জহির নামের একজন মাছ কাটাকুটি করার জন্য আগে তিনি প্রতিদিন আড়াই হাজার টাকা দিতেন, এখন তিনি দিচ্ছেন ১৭’শ টাকা।

আবার হকার্স মার্কেটে যিনি মাছ কাটাকুটি করেন তিনি আগে প্রতিদিনি খাজনা দিতেন ১৩’শ টাকা, তিনি এখন দিচ্ছেন এক হাজার টাকা। যার ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে তারাও টাকা কম নিচ্ছেন। প্রতি কেজি মাছ কাটার জন্য ৩০ টাকার পরিবর্তে এখন তারা নিচ্ছেন ২০ টাকা। এতে দুই পক্ষই খুশি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাছ বিক্রেতা সুকু, আক্কাছ, সুকুমার, সুলতান বেপারী, হাসানাত, শরবত আলী, পরিমল, হোসেন, সফিক, কবির, তাজুল ইসলাম’সহ অন্যান্য বিক্রেতারা জানান, ইমাম ভাই ইজারা নেওয়ার পর থেকে যে কোন এক বাজারে খাজনা দিলেই হয়, অপর বাজারে খাজনা তাদের দেওয়া লাগে না।

তারা উচ্ছ্বাস (খুশি) প্রকাশ করে বলেন, আগে আমরা একটি চটির (একটি স্থান) জন্য ১’শ টাকা এবং তিন বাজারে দোকানদারি করলে ৩’শ টাকা খাজনা দিতাম (দিতেন)। এখন যে কোন এক বাজারে ১’শ টাকা খাজনা দিলে, অন্য দুইটি বাজারে বসলে আর আমাদের বাড়তি খাজনা দিতে হয় না। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।

কাশেম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, আগে আমি এক চটিতে বসে খাজনা দিতাম ১’শ টাকা এবং ভ্যান গাড়িতে বিক্রি করলে দিতাম ৫০ টাকা’সহ মোট ১৫০ টাকা। এখন সবমিলিয়ে ১’শ টাকা খাজনা দিলেই হয়।

এরশাদ হোসেন কালু মিয়া নামের অপর মাছ বিক্রেতা জানান, বেচা-বিক্রি খারাপ হলে আমরা খাজনার টাকা দেই না। এতে ইজারাদার আমাদেরকে কিছুই বলেন না।

আড়ৎদার তফু জানান, আমরা যারা আড়ৎদার রয়েছি, তাদেরকে খাজনা দিতে হয় না। ইমাম হোসেন মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে ১’শ টাকা খাজনা নিচ্ছেন। যেখানে আগে তিন বাজারে বসলে দিতে হতো ৩’শ টাকা। তার (ইজারাদার) এই উদারতায় মাছ বিক্রেতারা খুশি।

ইজারাদার উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মো. ইমাম হোসেন বলেন, আমি ব্যবসার জন্য মাছ বাজারটি ইজারা নেইনি। মাছ বিক্রেতাদের দিকে তাকিয়ে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। কারণ, প্রায় দুই দশকের বেশি সময় মাছের আড়ৎদারি ব্যবসা করে আসছি। এর আগেও এই পেশায় জড়িত ছিলাম। তাদের (মাছ বিক্রেতা) কষ্টের দিকটা অনুভব করে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। বাজারটিতে আমার লস (ক্ষতি) হবে জেনেও খাজনা কম নিচ্ছি।

বিষয়টি জানতে পেরে হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, এটি একটি প্রশংসনীয় কার্যক্রম। তিনি (ইজারাদার) মানবিকতা ও উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শাহরাস্তিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আমিন উল্যাহ বাচ্চুর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা

হাজীগঞ্জে ইজারাদারের উদারতায় ৩’শ টাকার খাজনা ১’শ টাকা, মাছ বিক্রেতাদের উচ্ছ্বাস

Update Time : ১০:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

হাজীগঞ্জ বাজারস্থ তরকারি পট্টি, হকার্স মার্কেট ও বালুর মাঠ (গাজীর খাদা) সহ তিনটি স্থানে মাছ বাজার রয়েছে। এর মধ্যে তরকারি পট্টিতে কাক ডাকা ভোর থেকে ১১টা পর্যন্ত, হকার্স মার্কেটে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বালুর মাঠে মাছ বিক্রি করা হয়।

এ তিনটি বাজারে প্রায় শতাধিক লোক মাছ বিক্রি করে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এদিকে তিনটি বাজারে মিলেই হাজীগঞ্জ পৌরসভা থেকে প্রতিবছর একটি ডাক (ইজারা) হয়ে থাকে। অথচ তিনটি বাজারেই আলাদা আলাদা খাজনা দিতে হতো মাছ বিক্রেতাদের।

জানা গেছে, প্রতিটি স্থানে বসার জন্য জনপ্রতি বিক্রেতাকে ১’শ টাকা করে খাজনা দিতে হতো। অর্থ্যাৎ তিনটি স্থানে বসার জন্য একজন বিক্রেতা প্রতিদিন ৩’শ টাকা খাজনা দিতেন। এছাড়াও বাজারে যে ক’জন মাছ কেঁটে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাদেরকেও অস্বাভাবিক হারে খাজনার টাকা দিতে হতো।

যার ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে তারাও বাড়তি টাকা আদায় করতেন। বড় মাছ কাটার জন্য প্রতি কেজি ৩০ টাকা করে নিতেন। যারা মাছ কাটতেন তাদের কাছ থেকে অস্বাভাবি হারে টাকার নেওয়ার বিষয়টি কয়েক মাস পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যাতে সমালোচিত হন, তৎকালিন ইজারাদার।

এদিকে সম্প্রতি হাজীগঞ্জ পৌরসভা থেকে ১৪৩৩ বাংলা সনে মাছ বাজারটি ইজারা নেন, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মো. ইমাম হোসেন। তিনি তিনটি বাজার থেকে ইজারা না নিয়ে একটি বাজারের একটি চটি (স্থান) থেকে মাত্র ১’শ টাকা করে নেন। অর্থ্যাৎ মাছ বিক্রেতাদের তিন বাজারে খাজনা দিতে হয়না, এক বাজারেই খাজনা দেন।

এছাড়া আড়ৎদারকের কাছ থেকে কোন খাজনা নেওয়া হয়না। আবার যারা মাছ কাটেন, তাদেরকে তিনভাগের একভাগ খাজনা মওকুফ করে দিয়েছেন। যেমন, জহির নামের একজন মাছ কাটাকুটি করার জন্য আগে তিনি প্রতিদিন আড়াই হাজার টাকা দিতেন, এখন তিনি দিচ্ছেন ১৭’শ টাকা।

আবার হকার্স মার্কেটে যিনি মাছ কাটাকুটি করেন তিনি আগে প্রতিদিনি খাজনা দিতেন ১৩’শ টাকা, তিনি এখন দিচ্ছেন এক হাজার টাকা। যার ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে তারাও টাকা কম নিচ্ছেন। প্রতি কেজি মাছ কাটার জন্য ৩০ টাকার পরিবর্তে এখন তারা নিচ্ছেন ২০ টাকা। এতে দুই পক্ষই খুশি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাছ বিক্রেতা সুকু, আক্কাছ, সুকুমার, সুলতান বেপারী, হাসানাত, শরবত আলী, পরিমল, হোসেন, সফিক, কবির, তাজুল ইসলাম’সহ অন্যান্য বিক্রেতারা জানান, ইমাম ভাই ইজারা নেওয়ার পর থেকে যে কোন এক বাজারে খাজনা দিলেই হয়, অপর বাজারে খাজনা তাদের দেওয়া লাগে না।

তারা উচ্ছ্বাস (খুশি) প্রকাশ করে বলেন, আগে আমরা একটি চটির (একটি স্থান) জন্য ১’শ টাকা এবং তিন বাজারে দোকানদারি করলে ৩’শ টাকা খাজনা দিতাম (দিতেন)। এখন যে কোন এক বাজারে ১’শ টাকা খাজনা দিলে, অন্য দুইটি বাজারে বসলে আর আমাদের বাড়তি খাজনা দিতে হয় না। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।

কাশেম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, আগে আমি এক চটিতে বসে খাজনা দিতাম ১’শ টাকা এবং ভ্যান গাড়িতে বিক্রি করলে দিতাম ৫০ টাকা’সহ মোট ১৫০ টাকা। এখন সবমিলিয়ে ১’শ টাকা খাজনা দিলেই হয়।

এরশাদ হোসেন কালু মিয়া নামের অপর মাছ বিক্রেতা জানান, বেচা-বিক্রি খারাপ হলে আমরা খাজনার টাকা দেই না। এতে ইজারাদার আমাদেরকে কিছুই বলেন না।

আড়ৎদার তফু জানান, আমরা যারা আড়ৎদার রয়েছি, তাদেরকে খাজনা দিতে হয় না। ইমাম হোসেন মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে ১’শ টাকা খাজনা নিচ্ছেন। যেখানে আগে তিন বাজারে বসলে দিতে হতো ৩’শ টাকা। তার (ইজারাদার) এই উদারতায় মাছ বিক্রেতারা খুশি।

ইজারাদার উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মো. ইমাম হোসেন বলেন, আমি ব্যবসার জন্য মাছ বাজারটি ইজারা নেইনি। মাছ বিক্রেতাদের দিকে তাকিয়ে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। কারণ, প্রায় দুই দশকের বেশি সময় মাছের আড়ৎদারি ব্যবসা করে আসছি। এর আগেও এই পেশায় জড়িত ছিলাম। তাদের (মাছ বিক্রেতা) কষ্টের দিকটা অনুভব করে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। বাজারটিতে আমার লস (ক্ষতি) হবে জেনেও খাজনা কম নিচ্ছি।

বিষয়টি জানতে পেরে হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, এটি একটি প্রশংসনীয় কার্যক্রম। তিনি (ইজারাদার) মানবিকতা ও উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।