চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক নেছার আহমেদ চৌধুরী। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নেছার আহমেদ চৌধুরী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থিত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে অতীতে তিনি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন এবং কিছু সময় কারাভোগ করেছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও তিনি এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। সে সময় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য—এমনটাই দাবি তাঁর সমর্থকদের।
গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন শিক্ষা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। এখানে একটি কলেজ, একটি উচ্চবিদ্যালয় ও একটি আলিম পর্যায়ের মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি হেফজখানা রয়েছে। ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশাপাশি এখানে দুইজন অলিয়ে কামিল পীরের মাজার থাকায় ধর্মীয় পরিবেশও দৃঢ়।
স্থানীয়দের মতামত-
ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
মালিগাঁও গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা জামালউদ্দিন বলেন, “নেছার ভালো ছেলে। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতে দেখেছি। চেয়ারম্যান হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে বলে আশা করি।”
জগন্নাথপুর গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি সহজে পাওয়া যায়। নেছারকে এলাকায় নিয়মিত দেখা যায়, এটা একটা ভালো দিক।”
তারালিয়া গ্রামের তরুণ ভোটার ইমরান হোসেন বলেন, “তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তার আছে। খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাকে সক্রিয় দেখি।”
তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। কাকৈরতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “নির্বাচন হলে সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়। কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে—কেউ এগিয়ে, কেউ পিছিয়ে সেটা তখনই বোঝা যাবে।”
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততায় নেছার আহমেদ এগিয়ে আছেন বলে তাঁদের ধারণা।
হরিপুর, জগন্নাথপুর, কাকৈরতলা, তারালিয়া, মৈশামুড়া, মালিগাঁও, মোহাম্মদপুর, আহাম্মদপুর ও সর্বতারা—ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, সম্ভাব্য এই প্রার্থীকে ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন দেখার বিষয়, দলীয় সমর্থন ও ভোটারদের আস্থা কতটা সংগঠিত করতে পারেন নেছার আহমেদ চৌধুরী।
নিজস্ব প্রতিনিধি: 





















