আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কারানির্যাতিত যুব নেতা, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সাইফুল ইসলাম মীর। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম মীর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলাখাল চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সদস্য। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক পথচলার কথা তুলে ধরে সাইফুল ইসলাম মীর বলেন, “দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম। নানা বাধা-বিপত্তি ও নির্যাতনের মধ্যেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। এখন ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দল আমার ত্যাগ-অবদান মূল্যায়ন করবে—এটাই প্রত্যাশা।”
প্রার্থীতা ঘোষণার পর থেকে তিনি প্রতিদিনই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। স্থানীয়দের সমস্যা, চাহিদা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন। নির্বাচিত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্থানীয়দের মতামত
সাইফুল ইসলাম মীরের প্রার্থীতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সামাজিক কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সুবিদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল করিম বলেন, “সাইফুল ইসলাম মীরকে আমরা ছোটবেলা থেকেই চিনি। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কাজে তাকে পাওয়া যায়। নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, এটা ভালো দিক।”
একই ইউনিয়নের আরেক বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, “আমরা চাই একজন সৎ ও কর্মঠ জনপ্রতিনিধি। তিনি যদি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করেন, তাহলে মানুষ তাকে সমর্থন দেবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, “নির্বাচন যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তত ভালো নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। সাইফুল ইসলাম মীর নতুন প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।”
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, “শুধু প্রার্থী হওয়া নয়, অতীতের কর্মকাণ্ড ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। ভোটাররা এবার অনেক হিসাব-নিকাশ করে সিদ্ধান্ত নেবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সাইফুল ইসলাম মীরও তাদের মধ্যে একজন।
একজন উপজেলা বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দল ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
গণসংযোগে ব্যস্ত সময়-
প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই সাইফুল ইসলাম মীর দিন-রাত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক, পথসভা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, “ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের সহায়তা এবং শিক্ষা খাতে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে রাজনৈতিক তৎপরতা ইতোমধ্যে বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপে জমে উঠছে মাঠের রাজনীতি। স্থানীয়রা বলছেন, শেষ পর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পান এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেন, সেটিই হবে মূল নির্ধারক।
Reporter Name 




















