ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজ্জক্যাম্পে চুরি হওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধার, গ্রেফতার ২; মূলহোতা পলাতক

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

হজ্জক্যাম্প থেকে এক হজযাত্রীর চুরি হওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিটি এসবি ও জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতা এখনো পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে হজ্জক্যাম্প থেকে এক হজযাত্রীর ২২,০০০ (বাইশ হাজার) সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ঘটনার পর থেকেই সিটি এসবি জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ শুরু করে। ডিআইজি, সিটি এসবি মীর আশরাফ আলীর দেওয়া তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য এবং চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে মতলব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের শুরুতেই রেডিও লোকেশনের মাধ্যমে জানা যায়, হাবিবুর রহমান মতলব থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে দাউদকান্দি, কুমিল্লার পথে রওনা হয়েছেন। সিটি এসবির ধারাবাহিক তথ্যের ভিত্তিতে মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হসনাইন সানীব, অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান মানিক, এসআই জীবন, এসআই দেলোয়ার, এসআই সুজিত, এসআই সাকিব এবং কনস্টেবল তৃষার সমন্বয়ে গঠিত একটি আভিযানিক দল তাকে অনুসরণ করে।
পরবর্তীতে আভিযানিক দলটি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হয়ে ডেমরার সারুলিয়া পার হয়ে ৩০০ ফিট এলাকা অতিক্রম করে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় পৌঁছে। সেখানে বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটি এসবি উত্তর) মোঃ রেজাউল করিমের টিমের সাথে যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক ভবনে তল্লাশি চালিয়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়।
হাবিবুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে নাদিমকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে একই রাতে নাদিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চুরির ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড আব্দুল মান্নানের দুটি বাসায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মান্নানের বড় মেয়ে মুক্তার জামাইয়ের বাসা থেকে চুরি হওয়া ৫০০ (পাঁচশত) রিয়ালের ৩৫টি নোটসহ মোট ১৭,৫০০ (সতের হাজার পাঁচশত) সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, আসামিরা গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) সৌদি রিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ভাঙিয়ে ১,১৫,০০০ (এক লক্ষ পনের হাজার) টাকা উত্তোলন করে। এর মধ্যে ৯০,০০০ (নব্বই হাজার) টাকা আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে।
পলাতক আসামি আব্দুল মান্নানের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষকদের খুব শীঘ্রই নিয়োগ প্রদান শুরু হবে-শিক্ষামন্ত্রী

হজ্জক্যাম্পে চুরি হওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধার, গ্রেফতার ২; মূলহোতা পলাতক

Update Time : ১০:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
হজ্জক্যাম্প থেকে এক হজযাত্রীর চুরি হওয়া ২২ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিটি এসবি ও জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতা এখনো পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে হজ্জক্যাম্প থেকে এক হজযাত্রীর ২২,০০০ (বাইশ হাজার) সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ঘটনার পর থেকেই সিটি এসবি জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ শুরু করে। ডিআইজি, সিটি এসবি মীর আশরাফ আলীর দেওয়া তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য এবং চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে মতলব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের শুরুতেই রেডিও লোকেশনের মাধ্যমে জানা যায়, হাবিবুর রহমান মতলব থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে দাউদকান্দি, কুমিল্লার পথে রওনা হয়েছেন। সিটি এসবির ধারাবাহিক তথ্যের ভিত্তিতে মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হসনাইন সানীব, অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান মানিক, এসআই জীবন, এসআই দেলোয়ার, এসআই সুজিত, এসআই সাকিব এবং কনস্টেবল তৃষার সমন্বয়ে গঠিত একটি আভিযানিক দল তাকে অনুসরণ করে।
পরবর্তীতে আভিযানিক দলটি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হয়ে ডেমরার সারুলিয়া পার হয়ে ৩০০ ফিট এলাকা অতিক্রম করে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় পৌঁছে। সেখানে বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটি এসবি উত্তর) মোঃ রেজাউল করিমের টিমের সাথে যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক ভবনে তল্লাশি চালিয়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়।
হাবিবুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে নাদিমকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে একই রাতে নাদিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চুরির ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড আব্দুল মান্নানের দুটি বাসায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মান্নানের বড় মেয়ে মুক্তার জামাইয়ের বাসা থেকে চুরি হওয়া ৫০০ (পাঁচশত) রিয়ালের ৩৫টি নোটসহ মোট ১৭,৫০০ (সতের হাজার পাঁচশত) সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, আসামিরা গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) সৌদি রিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ভাঙিয়ে ১,১৫,০০০ (এক লক্ষ পনের হাজার) টাকা উত্তোলন করে। এর মধ্যে ৯০,০০০ (নব্বই হাজার) টাকা আব্দুল মান্নানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে।
পলাতক আসামি আব্দুল মান্নানের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।