ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় নিখোঁজ স্কুল ছাত্রকে হত্যা করে হাত-পা কেটে নির্জন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়: হত্যাকাণ্ড জড়িত গ্ৰেফতার-২

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ১৯০ Time View

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি।

চাঁদপুরের কচুয়ায় নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্র শাকিব হাসান (১৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে কচুয়া থানা পুলিশ।  গত ৮ মে সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জয়নগর এলাকার আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭) নামে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১০ মে) গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, শাকিবকে পুকুরে গোসলের সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে নির্জন ডোবায় ইট বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে লাশ ভেসে উঠতে না পারে।
(১০ মে) রবিবার সন্ধ্যায় কচুয়া থানার পুলিশ  সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রেস বিফ্রিং করে বলেন, নিহত শাকিব হাসান কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ী) এলাকার প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শাকিবের দাদা কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি নং ৪৮৩।
কচুয়া থানার পুলিশ আরো জানান,গত বছরের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজের জমিতে ঘাস পরিষ্কার করতে গিয়ে ডোবার ভেতরে মানুষের মাথার খুলি ও হাড় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ উদ্ধারকৃত আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির মালিবাগ ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া হাড় ও মাথার খুলি নিখোঁজ স্কুলছাত্র শাকিব হাসানেরই।
ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রবাস থেকে এসে শাকিবের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান পিপিএম-এর সার্বিক নির্দেশনায় কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই এবং কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময়ে অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ সক্ষম হয়।
এদিকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শাহরাস্তিতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মাসুদ আটক

কচুয়ায় নিখোঁজ স্কুল ছাত্রকে হত্যা করে হাত-পা কেটে নির্জন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়: হত্যাকাণ্ড জড়িত গ্ৰেফতার-২

Update Time : ১০:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
চাঁদপুরের কচুয়ায় নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্র শাকিব হাসান (১৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে কচুয়া থানা পুলিশ।  গত ৮ মে সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জয়নগর এলাকার আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭) নামে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১০ মে) গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, শাকিবকে পুকুরে গোসলের সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে নির্জন ডোবায় ইট বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে লাশ ভেসে উঠতে না পারে।
(১০ মে) রবিবার সন্ধ্যায় কচুয়া থানার পুলিশ  সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রেস বিফ্রিং করে বলেন, নিহত শাকিব হাসান কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ী) এলাকার প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শাকিবের দাদা কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি নং ৪৮৩।
কচুয়া থানার পুলিশ আরো জানান,গত বছরের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজের জমিতে ঘাস পরিষ্কার করতে গিয়ে ডোবার ভেতরে মানুষের মাথার খুলি ও হাড় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ উদ্ধারকৃত আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির মালিবাগ ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া হাড় ও মাথার খুলি নিখোঁজ স্কুলছাত্র শাকিব হাসানেরই।
ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রবাস থেকে এসে শাকিবের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান পিপিএম-এর সার্বিক নির্দেশনায় কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই এবং কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময়ে অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ সক্ষম হয়।
এদিকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।