ব্র্যাক-এর জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির উদ্যোগে চাঁদপুরে ‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারকরণে এক অ্যাডভোকেসি ডায়লগ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ব্র্যাকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত এ ডায়লগে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা।
তিনি বক্তব্যে বলেন, সমাজের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা অশিক্ষিত, এছাড়াও অনেক বয়োবৃদ্ধ আছেন, যারা পূর্বের ধারণা নিয়ে চলছেন। তাদের ওইসব ধারনা থাকার কারনেই এখনো কিছু কিছু পরিবারে নারী বা কন্যা শিশুদের অবজ্ঞা বা অবহেলা করে থাকেন। আবার অনেকেই আছেন যারা বিত্তশালী হয়ে যাওয়ার কারনে সামাজিকতা থেকে দূরে চলে যায়, তখনই বিভিন্ন ধরণের অপ্রীতিকর সামাজিক অবক্ষয়ের মত ঘটনা ঘটে। অনেকসময় আমরা উন্নত জীবন-যাপনে এতবেশী ঝুঁকে পড়েছি যে নিজের ভিত্তি হারিয়ে ফেলছি।
ইউএনও আরো বলেন, অনেক পিতা মাতাই আছেন যারা হয়তো নিজের সন্তানদের ঠিকমত সময় দেয় না বা সমাজের মধ্যে আত্মীয়তার বিষয়ের তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করেন না। তখনই সেসব সন্তানেরা বিপদগ্রস্ত হয়ে পরে। কিশোর গ্যাং সহ বিভিন্ন খারাপ কর্মকান্ডে জরিয়ে পড়ে। সেসব দিক থেকে নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
ইউএনও আরো বলেন, নারী ও শিশুকন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের অনেকগুলো দপ্তরই কাজ করছেন। আমাদের উচিত নির্যাতনের শিকার কেন হচ্ছে, সেসব কারন বের করে তার যথাযথ ব্যবস্থা করা।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক জেলা সমন্বয়ক মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হুমায়ূন কবীর এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসিমা আক্তার। এতে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ব্র্যাক জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সেলিম মোল্লা।
এছাড়াও চাঁদপুর জেলায় ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিভাগ ও এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ সমমনা এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।
ডায়লগে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন। প্রতি তিনজন বিবাহিত নারীর মধ্যে একজন যৌন হয়রানির শিকার এবং ৪৯ শতাংশ নারী শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া ৬৭ শতাংশ নারী সহিংসতার ঘটনার শিকার হলেও কাউকে জানান না এবং ৫০ শতাংশ নারী জানেন না নির্যাতনের শিকার হলে কোথায় ও কীভাবে অভিযোগ করতে হয়।
বক্তারা আরও বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মকৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অ্যাডভোকেসি ডায়লগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে।
শাহরিয়া বিন ইয়াহিয়া 
























