ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাল চাঁদপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি

ছবি-ত্রিনদী

দীর্ঘ ২২ বছর পর চাঁদপুর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর পূর্বে তিনি ২০০৪ সালে তৎকালিন ৪ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতা থাকা কালিন সময়ে চাঁদপুর সফর করেছিলেন। সে সময় হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল ও চাঁদপুরে জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন।

এর পর কেটে গেছে অনেক বছর। অনেক সংগ্রামের পর হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র ৩ মাসের মধ্যে তিনি চাঁদপুর সফর করছেন।

আগামীকাল ১৬ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সরকারি সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন এসএসএফ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন ও পরিদর্শন করবেন। এর মধ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নিয়ে আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীবেষ্টিত সম্ভাবনাময় জেলা চাঁদপুর। নদী, ইলিশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এ জেলা সম্ভাবনায় ভরপুর হলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নদীভাঙন চাঁদপুরবাসীর অন্যতম বড় দুর্ভোগ। শিক্ষাখাতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। বহু প্রত্যাশার চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া জেলায় একটি ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের।

এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন জেলার মানুষ। তাদের বিশ্বাস, তার হাত ধরেই পিছিয়ে পড়া চাঁদপুরে উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। নদীভাঙন রোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ আসবে বলেও আশা করছেন তারা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে সকালে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে দুপুর পৌনে ২টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সবশেষে বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন দলের প্রধান।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে জেলার তরুণদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, জেলাকে পর্যটন শিল্পে বিকশিত করা এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ বলেন, চাঁদপুরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, দুটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ৩৭০ জনের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। একইসঙ্গে চাঁদপুর থেকে দেশের ২২ জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশাবাদী, খুব ভালোভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন করতে পারব—এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, এত জেলার মধ্যে চাঁদপুরকে সময় দেওয়ায় আমরা গর্বিত। আশা করি, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে উপস্থিত হবেন। চাঁদপুর একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা; এখানে সড়ক, নৌ ও রেল—তিন ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত। চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। এখানে ইপিজেড হলে চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটিই আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীর পানি দূষণ: নদীপাড়ের মানুষের চরম দুর্ভোগ

কাল চাঁদপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি

Update Time : ১১:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দীর্ঘ ২২ বছর পর চাঁদপুর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর পূর্বে তিনি ২০০৪ সালে তৎকালিন ৪ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতা থাকা কালিন সময়ে চাঁদপুর সফর করেছিলেন। সে সময় হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল ও চাঁদপুরে জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন।

এর পর কেটে গেছে অনেক বছর। অনেক সংগ্রামের পর হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র ৩ মাসের মধ্যে তিনি চাঁদপুর সফর করছেন।

আগামীকাল ১৬ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ সরকারি সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন এসএসএফ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন ও পরিদর্শন করবেন। এর মধ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নিয়ে আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীবেষ্টিত সম্ভাবনাময় জেলা চাঁদপুর। নদী, ইলিশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এ জেলা সম্ভাবনায় ভরপুর হলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নদীভাঙন চাঁদপুরবাসীর অন্যতম বড় দুর্ভোগ। শিক্ষাখাতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। বহু প্রত্যাশার চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া জেলায় একটি ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের।

এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন জেলার মানুষ। তাদের বিশ্বাস, তার হাত ধরেই পিছিয়ে পড়া চাঁদপুরে উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। নদীভাঙন রোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ আসবে বলেও আশা করছেন তারা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে সকালে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে দুপুর পৌনে ২টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সবশেষে বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন দলের প্রধান।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে জেলার তরুণদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, জেলাকে পর্যটন শিল্পে বিকশিত করা এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ বলেন, চাঁদপুরে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়াতে ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, দুটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ৩৭০ জনের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। একইসঙ্গে চাঁদপুর থেকে দেশের ২২ জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশাবাদী, খুব ভালোভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন করতে পারব—এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, এত জেলার মধ্যে চাঁদপুরকে সময় দেওয়ায় আমরা গর্বিত। আশা করি, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে উপস্থিত হবেন। চাঁদপুর একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা; এখানে সড়ক, নৌ ও রেল—তিন ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত। চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। এখানে ইপিজেড হলে চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটিই আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি।