ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুতুড়ে বিলে দিশেহারা হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি-কচুয়া উপজেলার গ্রাহকরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • ১৫২ Time View

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলায় জুন মাসে গ্রাহকদের ওপর হঠাৎ করেই ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ বিল পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক।

জানা গেছে, এই সমিতির আওতায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ ৬০ হাজার ৫১২ জন। নিয়মিত যেসব গ্রাহকের মাসিক বিল সাধারণত ৩০০-৪০০ টাকার মধ্যে থাকে, তাদের হাতে সম্প্রতি পৌঁছে গেছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকার বিল। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা।

পৌর এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বলেন, “প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ৫০০-৮০০ টাকা। কিন্তু এবার জুন মাসে বিল এসেছে ১৫০০ টাকারও বেশি। বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করতে গেলে বলেছে, গরমে ফ্যান বেশি চালালে নাকি এমন হয়!”

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, অনেক সময় বিদ্যুৎ মিটার রিডিংয়ের জন্য কর্মকর্তা ঠিকভাবে আসেন না। অনুমানভিত্তিক বিল তৈরি করে তা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অনেকে অভিযোগ করেছেন, প্রথম সংযোগ নেওয়ার সময় মিটারের জন্য টাকা দেওয়া হলেও প্রতিমাসে অতিরিক্ত চার্জ রাখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতি বছর জুন মাসে ক্লোজিংয়ের কারণে অন্য মাসের তুলনায় বিল একটু বেশি আসে। তবে আগের মাসে বিল কম হলে সেটিও জুনে যোগ হয়। গ্রাহক চাইলে মিটারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।”

এদিকে সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অঃদাঃ) গোবিন্দ আগরওয়ালা বলেন, “ভুতুরে বিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মিটারের রিডিং অনুযায়ীই বিল করা হয়েছে। তবে কোনো গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিক মনে হলে তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা মিটার পরীক্ষা করে, ব্যবহৃত ইউনিট যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আসন্ন ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুতুড়ে বিলে দিশেহারা হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি-কচুয়া উপজেলার গ্রাহকরা

Update Time : ০৯:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলায় জুন মাসে গ্রাহকদের ওপর হঠাৎ করেই ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ বিল পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক।

জানা গেছে, এই সমিতির আওতায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ ৬০ হাজার ৫১২ জন। নিয়মিত যেসব গ্রাহকের মাসিক বিল সাধারণত ৩০০-৪০০ টাকার মধ্যে থাকে, তাদের হাতে সম্প্রতি পৌঁছে গেছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকার বিল। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা।

পৌর এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বলেন, “প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ৫০০-৮০০ টাকা। কিন্তু এবার জুন মাসে বিল এসেছে ১৫০০ টাকারও বেশি। বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করতে গেলে বলেছে, গরমে ফ্যান বেশি চালালে নাকি এমন হয়!”

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, অনেক সময় বিদ্যুৎ মিটার রিডিংয়ের জন্য কর্মকর্তা ঠিকভাবে আসেন না। অনুমানভিত্তিক বিল তৈরি করে তা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অনেকে অভিযোগ করেছেন, প্রথম সংযোগ নেওয়ার সময় মিটারের জন্য টাকা দেওয়া হলেও প্রতিমাসে অতিরিক্ত চার্জ রাখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতি বছর জুন মাসে ক্লোজিংয়ের কারণে অন্য মাসের তুলনায় বিল একটু বেশি আসে। তবে আগের মাসে বিল কম হলে সেটিও জুনে যোগ হয়। গ্রাহক চাইলে মিটারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।”

এদিকে সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অঃদাঃ) গোবিন্দ আগরওয়ালা বলেন, “ভুতুরে বিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মিটারের রিডিং অনুযায়ীই বিল করা হয়েছে। তবে কোনো গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিক মনে হলে তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা মিটার পরীক্ষা করে, ব্যবহৃত ইউনিট যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।