ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র! উদ্বিগ্ন ভারত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৭ Time View

ছবি-ত্রিনদী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নীরবে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ওয়াশিংটন এই পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটনপোস্ট। সম্প্রতি তাদের হাতে একটি অডিও এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক ঢাকায় কয়েকজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে ‘বন্ধুত্ব’ বাড়ানোর কথা জানান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তাদের এ কথোপকথনের একটি অডিও পায় ওয়াশিংটন পোস্ট।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক আগামী মাসের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য শক্তিশালী ফলাফলের প্রেক্ষাপটে দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও তাদের শক্তিশালী ছাত্রসংগঠনকে (ছাত্রশিবির) মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিল। দলটি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ। অতীতে নারীদের কর্মঘণ্টা সীমিত করা এবং ধর্মীয় আইন জোরদারের মতো প্রস্তাবও দিয়েছিল দলটি।

তবে বর্তমানে জামায়াত নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তারা দুর্নীতিবিরোধী, সংস্কারমুখী এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত সেই পুনর্ব্র্যান্ডিং প্রক্রিয়ায় সহমত পোষণ করছে বলে মনে হচ্ছে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক ইসলামপন্থি শাসন নিয়ে উদ্বেগ ইস্যুতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার। জামায়াত আদর্শিক সীমা অতিক্রম করলে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপের মাধ্যমে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে; যা বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কোনো অর্ডার না থাকে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।’ তিনি জানান, জামায়াত নির্বাচিত হতে পারলে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন চালু করবে না। এই কূটনীতিক জানান, আর শরিয়াহ আইন চালু করলে পরদিনই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, তারা শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও হয়তো যোগাযোগ করবেন। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক। কারণ আমরা চাই- আমাদের কাছে এমন সুযোগ থাকবে আমরা ফোন দিয়ে বলব ‘আমরা কিন্তু যা বলেছি, সেভাবে ব্যবস্থা নেব।’

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ভারত। দিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতকে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে দেখে আসছে। দলটির সঙ্গে পাকিস্তানের আদর্শিক সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র! উদ্বিগ্ন ভারত

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র! উদ্বিগ্ন ভারত

Update Time : ১১:০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নীরবে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ওয়াশিংটন এই পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটনপোস্ট। সম্প্রতি তাদের হাতে একটি অডিও এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিক ঢাকায় কয়েকজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে ‘বন্ধুত্ব’ বাড়ানোর কথা জানান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তাদের এ কথোপকথনের একটি অডিও পায় ওয়াশিংটন পোস্ট।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক আগামী মাসের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য শক্তিশালী ফলাফলের প্রেক্ষাপটে দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও তাদের শক্তিশালী ছাত্রসংগঠনকে (ছাত্রশিবির) মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে।

এটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ছিল। দলটি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শাসনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ। অতীতে নারীদের কর্মঘণ্টা সীমিত করা এবং ধর্মীয় আইন জোরদারের মতো প্রস্তাবও দিয়েছিল দলটি।

তবে বর্তমানে জামায়াত নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। তারা দুর্নীতিবিরোধী, সংস্কারমুখী এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত সেই পুনর্ব্র্যান্ডিং প্রক্রিয়ায় সহমত পোষণ করছে বলে মনে হচ্ছে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক ইসলামপন্থি শাসন নিয়ে উদ্বেগ ইস্যুতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার। জামায়াত আদর্শিক সীমা অতিক্রম করলে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপের মাধ্যমে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে; যা বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কোনো অর্ডার না থাকে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।’ তিনি জানান, জামায়াত নির্বাচিত হতে পারলে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন চালু করবে না। এই কূটনীতিক জানান, আর শরিয়াহ আইন চালু করলে পরদিনই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, তারা শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও হয়তো যোগাযোগ করবেন। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক। কারণ আমরা চাই- আমাদের কাছে এমন সুযোগ থাকবে আমরা ফোন দিয়ে বলব ‘আমরা কিন্তু যা বলেছি, সেভাবে ব্যবস্থা নেব।’

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ভারত। দিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতকে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে দেখে আসছে। দলটির সঙ্গে পাকিস্তানের আদর্শিক সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।