ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে ৪৮৮ কেন্দ্রে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টার্গেট ৭২ হাজারের বেশি শিশু

ছবি-ত্রিনদী

সারাদেশের অন্যান্য জেলার মতো চাঁদপুরেও হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় একযোগে ৪৮৮টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন। তারা টিকাদান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি, স্বাস্থ্যবিধি ও শিশুদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৭২ হাজার ৮৭৪ জন শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

জেলা ইপিআই (Expanded Programme on Immunization) সেন্টার জানায়, চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৩৩০টি, হাইমচরে ১২৮টি এবং পৌরসভা এলাকায় ৪০টি অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ধাপে ধাপে শিশুদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু টিকার বাইরে না থাকে।

এদিকে জেলায় হামের প্রকোপ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যখাতে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ১৫০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষা চলছে। দুঃখজনকভাবে, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণই এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল অভিভাবককে তাদের সন্তানদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে শুধু টিকাদানই নয়, পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে অভিভাবকদের মধ্যে টিকা গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে ইসরাইলের ভয়াবহ হামলা

চাঁদপুরে ৪৮৮ কেন্দ্রে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু, টার্গেট ৭২ হাজারের বেশি শিশু

Update Time : ০৭:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশের অন্যান্য জেলার মতো চাঁদপুরেও হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় একযোগে ৪৮৮টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন। তারা টিকাদান কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি, স্বাস্থ্যবিধি ও শিশুদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৭২ হাজার ৮৭৪ জন শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

জেলা ইপিআই (Expanded Programme on Immunization) সেন্টার জানায়, চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৩৩০টি, হাইমচরে ১২৮টি এবং পৌরসভা এলাকায় ৪০টি অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ধাপে ধাপে শিশুদের টিকা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু টিকার বাইরে না থাকে।

এদিকে জেলায় হামের প্রকোপ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যখাতে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ১৫০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষা চলছে। দুঃখজনকভাবে, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণই এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল অভিভাবককে তাদের সন্তানদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে শুধু টিকাদানই নয়, পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে অভিভাবকদের মধ্যে টিকা গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ে।