ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মসজিদের মুয়াজ্জীনের জমিনের ধান কেটে সর্বনাশ করলো কারা

হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের মসজিদের মুয়াজ্জীনের কাঁচা ধান কেটে দেয় দূর্বত্তরা

মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে সামান্য ক’টাকা বেতন পান। তা দিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তানের ভরণ-পোষন ও পড়ালেখার খরচ বহন করেন। আর বর্গা জমিতে ধান চাষ করে ৪/৫ মাসের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেন। কিন্তু রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে তার মাথায় হাত। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

কারণ এছাড়া আর কিছুই করার ছিলোনা তাঁর। শনিবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে অপরিপক্ক ধান গাছ কেটে জমিতে ফেলে রাখে দুর্বত্তরা। এ ফসলী ধানের দোষ কোথায়, এ শত্রুতার বিচার করবে কে? এ ক্ষতি পুষিয়ে দিবে কে ? বলছি মো. আতিকুর রহমান মোল্লার (৬০) কথা।

তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর নিজস্ব কৃষি জমি না থাকায়, গত কয়েকবছর ধরে বাড়ির জেঠাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আসছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আতিক মোল্লা জানান, প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি বর্গা জমিতে ধান চাষ করেছেন। মাসখানেক সেই ধান পাকবে এবং পাকা ধান ঘরে তুলবেন। কিন্তু রোববার সকালে স্কীম ম্যানেজার মনির হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি তার জমিতে গিয়ে দেখেন, কে বা কারা পুরো জমির ধান গাছ কেটে ফেলে রেখেছে।

খবর পেয়ে জমির মালিক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, কে বা কারা অপরিপক্ক অবস্থায় ধান গাছ কেটেছে ফেলেছে, তা বলতে পারবেন না। তবে গত ২০ বছর ধরে একই বাড়ির জাহাঙ্গীর মোল্লার সাথে সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। এর আগে একাধিকবার তিনি তাঁর গাছপালা কেটে ফেলেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ছাত্রনেতা কবির হোসেন রাজু জানান, আতিক মোল্লা নিরিহ ও অসহায় মানুষ। তিনি ও তার ছেলে শারিরিকভাবে অসুস্থ। তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিনের চাকরি করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ এ নিরিহ লোকটির বড়ধরনের ক্ষতি করে ফেললো। সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, সম্পত্তিগত বিরোধের বিষয়টি সত্য। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। তবে ধান কাটা-তো দূরের কথা, গত ২০ বছরেও আমি জমির ধারে কাছে যাইনি। তারা আমার নামে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে। এটি অমানুষের কাজ। যে বা যারাই এ কাজটি করেছে, তার বিচার আল্লাহ করবে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শাহরাস্তিতে ২৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জন মাদক কারবারি আটক 

মসজিদের মুয়াজ্জীনের জমিনের ধান কেটে সর্বনাশ করলো কারা

Update Time : ১১:২২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে সামান্য ক’টাকা বেতন পান। তা দিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তানের ভরণ-পোষন ও পড়ালেখার খরচ বহন করেন। আর বর্গা জমিতে ধান চাষ করে ৪/৫ মাসের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেন। কিন্তু রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে তার মাথায় হাত। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

কারণ এছাড়া আর কিছুই করার ছিলোনা তাঁর। শনিবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে অপরিপক্ক ধান গাছ কেটে জমিতে ফেলে রাখে দুর্বত্তরা। এ ফসলী ধানের দোষ কোথায়, এ শত্রুতার বিচার করবে কে? এ ক্ষতি পুষিয়ে দিবে কে ? বলছি মো. আতিকুর রহমান মোল্লার (৬০) কথা।

তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর নিজস্ব কৃষি জমি না থাকায়, গত কয়েকবছর ধরে বাড়ির জেঠাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আসছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আতিক মোল্লা জানান, প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি বর্গা জমিতে ধান চাষ করেছেন। মাসখানেক সেই ধান পাকবে এবং পাকা ধান ঘরে তুলবেন। কিন্তু রোববার সকালে স্কীম ম্যানেজার মনির হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি তার জমিতে গিয়ে দেখেন, কে বা কারা পুরো জমির ধান গাছ কেটে ফেলে রেখেছে।

খবর পেয়ে জমির মালিক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, কে বা কারা অপরিপক্ক অবস্থায় ধান গাছ কেটেছে ফেলেছে, তা বলতে পারবেন না। তবে গত ২০ বছর ধরে একই বাড়ির জাহাঙ্গীর মোল্লার সাথে সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। এর আগে একাধিকবার তিনি তাঁর গাছপালা কেটে ফেলেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ছাত্রনেতা কবির হোসেন রাজু জানান, আতিক মোল্লা নিরিহ ও অসহায় মানুষ। তিনি ও তার ছেলে শারিরিকভাবে অসুস্থ। তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিনের চাকরি করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ এ নিরিহ লোকটির বড়ধরনের ক্ষতি করে ফেললো। সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, সম্পত্তিগত বিরোধের বিষয়টি সত্য। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। তবে ধান কাটা-তো দূরের কথা, গত ২০ বছরেও আমি জমির ধারে কাছে যাইনি। তারা আমার নামে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে। এটি অমানুষের কাজ। যে বা যারাই এ কাজটি করেছে, তার বিচার আল্লাহ করবে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।