কচুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থানার বর্তমান ওসি মোঃ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ ও নিয়মিত অভিযানের ফলে অপরাধের মাত্রা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত এক মাসে কিশোর গ্যাং দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
কচুয়া থানার ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে পাল্টে গেছে কচুয়া উপজেলার চিত্র। কমেছে মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, চুরি,ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া,বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধসহ নানা ধরনের অপরাধ। বেড়েছে সেবার মান। সেইসঙ্গে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে। বিশেষ করে মাদকের উপর জেহাদ ঘোষণা করেছেন ওসি। মাদকরোধে অভিযানের সঙ্গে বেড়েছে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেনভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা। অভিযানের কারণে গা ঢাকা দিয়েছে চিহ্নিত মাদক কারবারি । অনেকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। কারবারিরা নতুন কৌশলে মাদকদ্রব্যের কারবার শুরু করলেও কঠোর নজরদারিতে তা ধরা পড়ছে থানা পুলিশের কাছে।
এছাড়াও কিশোর গ্যাং নির্মূলের পরিকল্পনা নিয়েছেন ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম। কচুয়া উপজেলার পূর্বের থেকে বর্তমানে কিশোর গ্যাংদের আড্ডা আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে। সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে অনেকটা স্বস্তিবোধ করছে।
জানা যায়, কচুয়া উপজেলার মূল সমস্যা মাদক, কিশোর গ্যাং। স্থানীয় প্রশাসন, এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, সাধারণ বাসিন্দাসহ সবাই অতিষ্ঠ এই মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ে । সবাই একবাক্যে বলতেন, মাদক নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ। মাননীয় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী কচুয়ার সংসদ সদস্য ড.আনম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে এবং সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন ওসি আজিজুল ইসলাম। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় দিনের আলোয় বিক্রি হতো মাদক। তবে ওসি আজিজুল হক কঠোর । যোগদানের পর থেকে কমতে শুরু করেছে মাদক কারবারি।
সাচার এলাকার শিক্ষক মাহবুব আলম বলেন, আমি শুনেছি ওসি সাহেব মাদক, কিশোর গ্যাং ও জুয়া নির্মূলে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমরাতো এমন পুলিশেই চাই।
বরইগাঁও যুব উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার বলেন, পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায়ও মাদক বিক্রি হতো। মাদকসেবীদের জন্য সন্ধ্যার পর এর আশপাশের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও ছিল ভয়। তবে তা এখন অনেকটা কমে এসেছে। আগের তুলনায় থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে । তিনি আরও বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি, ডাকাতি ও জুয়া, বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড জড়িত ব্যক্তিদের দমনে আরও কঠোর হতে হবে।
ওসি আজিজুল ইসলাম বলেন,‘আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ মাদক ব্যবসা বন্ধ কিশোর গ্যাং নির্মূল করা। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে মাদকমুক্ত, কিশোর গ্যাং এর অস্তিত্ব নির্মূল, অপরাধমুক্ত শান্তিপ্রিয় সুন্দর একটি কচুয়া উপজেলা উপহার দেয়া। বলতে পারেন মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছি। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। নিজে অভিযানে যাচ্ছি। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, সময়ক্ষেপন না করে সেখানেই অপারেশন চালাচ্ছি। যদিও রিস্ক থেকে যাচ্ছে তবুও পিছু হটছি না। এখানে মাদকের অনেকগুলো স্পট রয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াতেই মূলত মাদক ব্যবসা হতো। নারী মাদক ব্যবসায়ীও জড়িত। গত এক মাসে সাঁড়াশি অভিযানে অনেকটাই কমে এসেছে। যতদিন এখানে থাকবো মাদকের ব্যাপারে কোনো আপসে যাবো না।
Reporter Name 
























