প্রায় ২৭ মাস পর দেশে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার। গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্যহার গত ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। গ্রাহকশ্রেণিভেদে বিদ্যুতের দাম ১০ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম এবং সঞ্চালন মাশুলও বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ, আর বিভিন্ন ধাপে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ে নতুন চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৫ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে, যার মধ্যে ৪ কোটিরও বেশি আবাসিক গ্রাহক। এদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ গ্রাহক লাইফলাইন সুবিধার আওতায় রয়েছেন। সীমিত আয় ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এসব পরিবারের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন দর অনুযায়ী কৃষি সেচ, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারি চার্জিংসহ প্রায় সব শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যয় বেড়েছে। কৃষি সেচে ইউনিটপ্রতি ৭৯ পয়সা এবং হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। পাশাপাশি সঞ্চালন মাশুল গড়ে ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৯ পয়সা দাম বাড়ানোর ফলে বছরে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় হবে। তবে এরপরও বিদ্যুৎ খাতে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
Reporter Name 




















