ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় ২জনকে পিটিয়ে হত্যা

চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় ২জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে  চাঁদপুর শহরের যমুনা রোডে গাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধে মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে মুসা প্রধানিয়া (১৭) নামের অপর কিশোরের বাঁশের লাঠির আঘাতে মো. ইয়াছিন (১৪) নামে কিশোরের মৃত্যু হয়।নিহত ইয়াছিন ওই এলাকার মো. ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে।

অপর দিকে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ইজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারধরের এক পর্যায়ে চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওমর ফারুক (২২) নামে যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর সদরের যমুনা রোড এলাকায় অভিযুক্ত কিশোর মুসা একই এলাকার প্রধানিয়া বাড়ির সাদেক প্রধানিয়ার ছেলে। সকালে এলাকার একটি জামগাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে মুসা প্রধানিয়া ও একই এলাকার শাহজাহান মালের ছেলে মো. মেহেদী হাসান এর সাথে বাকবিতন্ডা হয় এবং মেহেদীকে মুসা মারধর করে। ওই সময় ইয়াছিন এগিয়ে এসে মারার কারণ জানতে চাইলে তাকে মুসার হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলে ইয়াছিন লুটিয়ে পড়লে মুসা আরো কয়েকটি আঘাত করে। পরে লোকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

মেহেদী হাসানের মা ইনুন নেছা বলেন, মূলত আমার ছেলের সাথে মুসার বিবাদ হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ইয়াছিন মারধরের শিকার হয়। তার আরেক ভাই পানিতে ডুমে মারা যায়। খুবই নিরীহ পরিবারের ছেলে সে। ইয়াছিনের মৃত্যুর পরে তাকে এ্যাম্বুলেন্স করে বাড়িতে আনা হয়। বিকেলে পুলিশ এসে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। মূলত জামপাড়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা হয়। জড়িত সবাই কিশোর বয়সের। ইয়াছিনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপর দিকে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ইজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারধরের এক পর্যায়ে চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওমর ফারুক (২২) নামে যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা (ঢালী বাড়ি) গ্রামের খালেক ঢালীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হত্যার শিকার ওমর ফারুক ছোট লক্ষীপুর গ্রামে তার নানা হাসমত উল্যাহ মৃধার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আজ (মঙ্গলবার) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হাসমত উল্যাহর পরিবারের সাথে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মৃধা (৩০), বিল্লাল মৃধা (২৫), হাসান মৃধা (২৮) ও হাবিব মৃধাসহ (২১) কয়েকজনের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাকবিতন্ডা ও ঝগড়া বিবাদ দেখা দেয়।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বৃদ্ধ হাসমত উল্যাহকে মারধর করতে উদ্যত হলে নাতি ওমর ফারুক ঝগড়া থামাতে এবং বিরোধ মীমাংসা করতে এগিয়ে যান। এ সময় বিবাদীপক্ষের লোকজন হঠাৎ ওমর ফারুক ও তার নানার পরিবারের লোকজনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়লে, প্রতিপক্ষের মধ্য থেকে একজন ধারালো দা দিয়ে ওমর ফারুকের গলায় কোপ মারে। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওমর ফারুককে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর হাইমচর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফারুকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত হাবিবসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। এই বিষয়ে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জে ৫২ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় ২জনকে পিটিয়ে হত্যা

Update Time : ১২:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় ২জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে  চাঁদপুর শহরের যমুনা রোডে গাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধে মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে মুসা প্রধানিয়া (১৭) নামের অপর কিশোরের বাঁশের লাঠির আঘাতে মো. ইয়াছিন (১৪) নামে কিশোরের মৃত্যু হয়।নিহত ইয়াছিন ওই এলাকার মো. ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে।

অপর দিকে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ইজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারধরের এক পর্যায়ে চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওমর ফারুক (২২) নামে যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর সদরের যমুনা রোড এলাকায় অভিযুক্ত কিশোর মুসা একই এলাকার প্রধানিয়া বাড়ির সাদেক প্রধানিয়ার ছেলে। সকালে এলাকার একটি জামগাছ থেকে জাম পাড়াকে কেন্দ্র করে মুসা প্রধানিয়া ও একই এলাকার শাহজাহান মালের ছেলে মো. মেহেদী হাসান এর সাথে বাকবিতন্ডা হয় এবং মেহেদীকে মুসা মারধর করে। ওই সময় ইয়াছিন এগিয়ে এসে মারার কারণ জানতে চাইলে তাকে মুসার হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলে ইয়াছিন লুটিয়ে পড়লে মুসা আরো কয়েকটি আঘাত করে। পরে লোকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

মেহেদী হাসানের মা ইনুন নেছা বলেন, মূলত আমার ছেলের সাথে মুসার বিবাদ হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ইয়াছিন মারধরের শিকার হয়। তার আরেক ভাই পানিতে ডুমে মারা যায়। খুবই নিরীহ পরিবারের ছেলে সে। ইয়াছিনের মৃত্যুর পরে তাকে এ্যাম্বুলেন্স করে বাড়িতে আনা হয়। বিকেলে পুলিশ এসে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। মূলত জামপাড়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা হয়। জড়িত সবাই কিশোর বয়সের। ইয়াছিনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপর দিকে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ইজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারধরের এক পর্যায়ে চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ওমর ফারুক (২২) নামে যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা (ঢালী বাড়ি) গ্রামের খালেক ঢালীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হত্যার শিকার ওমর ফারুক ছোট লক্ষীপুর গ্রামে তার নানা হাসমত উল্যাহ মৃধার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আজ (মঙ্গলবার) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হাসমত উল্যাহর পরিবারের সাথে একই বাড়ির প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মৃধা (৩০), বিল্লাল মৃধা (২৫), হাসান মৃধা (২৮) ও হাবিব মৃধাসহ (২১) কয়েকজনের এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে বাকবিতন্ডা ও ঝগড়া বিবাদ দেখা দেয়।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বৃদ্ধ হাসমত উল্যাহকে মারধর করতে উদ্যত হলে নাতি ওমর ফারুক ঝগড়া থামাতে এবং বিরোধ মীমাংসা করতে এগিয়ে যান। এ সময় বিবাদীপক্ষের লোকজন হঠাৎ ওমর ফারুক ও তার নানার পরিবারের লোকজনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়লে, প্রতিপক্ষের মধ্য থেকে একজন ধারালো দা দিয়ে ওমর ফারুকের গলায় কোপ মারে। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওমর ফারুককে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর হাইমচর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফারুকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত হাবিবসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে। এই বিষয়ে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।