ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভূত্থানে শহীদদের আর্থিক অনুদান নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • ১০২ Time View

ছবি-ত্রিনদী

সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের টাকা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৩০ শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ৫৯ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের সময় এমন চিত্র দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে অনুদানের এ টাকা প্রদান করা হয়। এসময় ওই টাকা পেতে নিজেদের হকদার দাবি করেন বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা, মামা, নানিসহ পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, শহীদের পেছনে তাদের অবদান রয়েছে।

গত বছরের ৪ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয় শাহাদাত হোসেন (১৬)। শহীদদের তালিকায় উঠে আসে তার নাম। কিন্তু বিপত্তি বাধে যখন শহীদ শাহাদাত হোসেনের মা শিরতাজ বেগম এবং তার নানি মমতাজ বেগমের মধ্যে অনুদানের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। উভয়ই অনুদানের টাকা পাওয়ার হকদার দাবি করেন।

শহীদ শাহাদাত হোসেনের মা শিরতাজ বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ছোট থাকতে তার নানির কাছে দিয়ে দেই। আমি কষ্ট করে টাকা-পয়সা দিয়েছি। আন্দোলনে আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। এখন সরকার টাকা দেয়, আমার মা নিয়ে যায়। এই টাকা আমার পাওয়ার কথা।’

এ বিষয়ে নানি মমতাজ বেগমের ভাষ্য, ‘আমার নাতিকে আমি কোলেপিঠে মানুষ করেছি। আমার কাছেই শাহাদাত থাকতো। আন্দোলনে মারা যাওয়ার পর আমার ঠিকানাই দেওয়া হয়েছে। এখন আমাকে টাকা দিলে আমার মেয়ে আপত্তি করে। যে কারণে সরকার দুজনকেই ডেকেছে।’

অনুদানের টাকা নিয়ে একইভাবে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার হটুনি গ্রামের শহীদ হান্নানের পরিবারে। হান্নান ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তার স্ত্রী বিবি হাওয়া মুক্তা চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আর্থিক অনুদান নিতে এসে এমন অভিযোগই করেন।

শহীদ হান্নানের স্ত্রী বিবি হাওয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছি। আমার স্বামীর ভাই-বোনরা টাকা নিয়ে সমস্যা করছে। তারা এই টাকা থেকে ভাগ-বাটোয়ারা চান। এ নিয়ে পরিবারে সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মা তার সন্তান হারিয়েছে, স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছে, বোন তার ভাই হারিয়েছে। আপনাদের বিভিন্নভাবে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে কিন্তু সেই অনুদানের মাধ্যমে আপনাদের মন জয় করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন অনেক অভিযোগ আছে, অনুদানের টাকা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। আজও অনুদান দিতে এসে তাই দেখলাম। আপনারা এমনটা করবেন না। পরিবারের মধ্যে যিনি অনুদান পাওয়ার প্রাপ্য, তিনি শুধু আর্থিক অনুদান পাবেন। তালিকায় স্বামীর নাম থাকলে স্ত্রী-সন্তান অনুদান পাবে, পরিবারের অন্য কেউ পাবে না। ছেলের নাম থাকলে মা পাবে। কিন্তু তাকে ভরণপোষণ যদি অন্য কেউ করেন, তাহলে অনুদান বিবেচনা করে বণ্টন করে দেওয়া হবে। এটা নিয়ে দ্বন্দ্ব কিংবা ঝামেলা করার কোনো অবকাশ নেই।’

মঙ্গলবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুরের ৩০ শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ৫৯ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জের মাড়কীতে বিশিষ্ট শিল্পপতি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ধানের শীষের জনসংযোগ ও মিছিল অনুষ্ঠিত

জুলাই অভূত্থানে শহীদদের আর্থিক অনুদান নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব

Update Time : ১০:২৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের টাকা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৩০ শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ৫৯ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের সময় এমন চিত্র দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে অনুদানের এ টাকা প্রদান করা হয়। এসময় ওই টাকা পেতে নিজেদের হকদার দাবি করেন বাবা-মা, ভাই-বোন, চাচা, মামা, নানিসহ পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, শহীদের পেছনে তাদের অবদান রয়েছে।

গত বছরের ৪ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয় শাহাদাত হোসেন (১৬)। শহীদদের তালিকায় উঠে আসে তার নাম। কিন্তু বিপত্তি বাধে যখন শহীদ শাহাদাত হোসেনের মা শিরতাজ বেগম এবং তার নানি মমতাজ বেগমের মধ্যে অনুদানের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। উভয়ই অনুদানের টাকা পাওয়ার হকদার দাবি করেন।

শহীদ শাহাদাত হোসেনের মা শিরতাজ বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ছোট থাকতে তার নানির কাছে দিয়ে দেই। আমি কষ্ট করে টাকা-পয়সা দিয়েছি। আন্দোলনে আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। এখন সরকার টাকা দেয়, আমার মা নিয়ে যায়। এই টাকা আমার পাওয়ার কথা।’

এ বিষয়ে নানি মমতাজ বেগমের ভাষ্য, ‘আমার নাতিকে আমি কোলেপিঠে মানুষ করেছি। আমার কাছেই শাহাদাত থাকতো। আন্দোলনে মারা যাওয়ার পর আমার ঠিকানাই দেওয়া হয়েছে। এখন আমাকে টাকা দিলে আমার মেয়ে আপত্তি করে। যে কারণে সরকার দুজনকেই ডেকেছে।’

অনুদানের টাকা নিয়ে একইভাবে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার হটুনি গ্রামের শহীদ হান্নানের পরিবারে। হান্নান ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তার স্ত্রী বিবি হাওয়া মুক্তা চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আর্থিক অনুদান নিতে এসে এমন অভিযোগই করেন।

শহীদ হান্নানের স্ত্রী বিবি হাওয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা পেয়েছি। আমার স্বামীর ভাই-বোনরা টাকা নিয়ে সমস্যা করছে। তারা এই টাকা থেকে ভাগ-বাটোয়ারা চান। এ নিয়ে পরিবারে সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মা তার সন্তান হারিয়েছে, স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছে, বোন তার ভাই হারিয়েছে। আপনাদের বিভিন্নভাবে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে কিন্তু সেই অনুদানের মাধ্যমে আপনাদের মন জয় করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন অনেক অভিযোগ আছে, অনুদানের টাকা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। আজও অনুদান দিতে এসে তাই দেখলাম। আপনারা এমনটা করবেন না। পরিবারের মধ্যে যিনি অনুদান পাওয়ার প্রাপ্য, তিনি শুধু আর্থিক অনুদান পাবেন। তালিকায় স্বামীর নাম থাকলে স্ত্রী-সন্তান অনুদান পাবে, পরিবারের অন্য কেউ পাবে না। ছেলের নাম থাকলে মা পাবে। কিন্তু তাকে ভরণপোষণ যদি অন্য কেউ করেন, তাহলে অনুদান বিবেচনা করে বণ্টন করে দেওয়া হবে। এটা নিয়ে দ্বন্দ্ব কিংবা ঝামেলা করার কোনো অবকাশ নেই।’

মঙ্গলবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুরের ৩০ শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে ৫৯ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।