শাহরাস্তিতে গুগল ও ইন্টারপোলের তথ্যে সাইবার অপরাধে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ।
শাহরাস্তি থানা পুলিশ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম ও নিলুফা বেগমের পুত্র ইমন হোসেনকে (১৯) গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত ইমন স্থানীয় মোহল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করা ও জনগণের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টির মতো নাশকতামূলক কার্যক্রমে ইমন জড়িত ছিল। নিজের মোবাইল ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন উসকানিমূলক বার্তা ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে গুগল থেকে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো একটি সতর্কতা মেইলের মাধ্যমে। মেইলে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার যে কোনো স্কুলে সম্ভাব্য আক্রমণ এবং শিশু পর্নোগ্রাফি বিক্রির চেষ্টা হতে পারে। সতর্কতাটি দ্রুত বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে এনসিবি শাখা চাঁদপুর পুলিশ সুপারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর শাহরাস্তি থানার ওসি মোঃ আবুল বাশারের তত্ত্বাবধানে এসআই শফিকুল ইসলাম ও তার টিম মোবাইল আইডি ও সিডিআর বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হন যে সন্দেহজনক ইমেইলটি পরিচালনা করছিলেন ইমন হোসেন। পরে ২৬ নভেম্বর রাতে খেড়িহর বগের কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করে তাতে নাশকতামূলক বার্তা ও ভিডিওর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইমন জেনেশুনেই দেশের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা এবং শিশুদের অসামাজিক ও অশ্লীল কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত ছিল। এ ঘটনায় শাহরাস্তি থানায় মামলা নং-১৬ দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ৮-এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেশের অনলাইন নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে সতর্কসংকেত দিল। পাশাপাশি এটি প্রমাণ করে, কিশোর বয়সের তরুণরাও প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।
শাহরাস্তি থানা পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার দেশ ও সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি-এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানানো হয়েছে।
আবু মুছা আল শিহাব: 






















