ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির শোক বইতে স্বাক্ষরসহ নানা কর্মসূচি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৩ Time View

সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুর জেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর ইন্তেকালের খবরে চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয় ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি; বরং সর্বত্র ছিল নীরবতা, দীর্ঘশ্বাস, স্মৃতিচারণ আর গভীর শ্রদ্ধার আবহ।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে শোকের পরিবেশ নেমে আসে। সকালেই জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। দোয়া মাহফিলে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি জেলা বিএনপির কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া মাহফিল এবং শোকবইয়ে স্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। শোকবইয়ে স্বাক্ষরের সময় নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীর সংগ্রামী জীবনের নানা স্মৃতি আবেগভরে স্মরণ করেন।

এ সময় জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এক শোকবার্তায় বলেন, আমাদের নেত্রী ছিলেন একজন আপোষহীন, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিক। তাঁকে হারিয়ে আমরা সত্যিই কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তাঁর চলে যাওয়ায় দেশ একজন অভিভাবককে হারালো। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি আরও বলেন, এ দেশের এমন একজন অভিভাবক, যিনি দেশের মানুষকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন, তিনি আজ আমাদের ছেড়ে পরকালে চলে গেছেন। আমরা সকলের কাছে দোয়া চাই—আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সন্তানের স্নেহে দেখতেন, আর আমরা তাঁকে মায়ের চোখেই দেখে এসেছি। তাঁর আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতেও বিভিন্ন শোক কর্মসূচি পালন করা হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে—এমনটাই মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাড়ির উঠানে মিলল দাদির রক্তাক্ত মরদেহ পাশে সরিষাক্ষেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চাঁদপুর জেলা বিএনপির শোক বইতে স্বাক্ষরসহ নানা কর্মসূচি

Update Time : ০৮:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুর জেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর ইন্তেকালের খবরে চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয় ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি; বরং সর্বত্র ছিল নীরবতা, দীর্ঘশ্বাস, স্মৃতিচারণ আর গভীর শ্রদ্ধার আবহ।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে শোকের পরিবেশ নেমে আসে। সকালেই জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। দোয়া মাহফিলে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি জেলা বিএনপির কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া মাহফিল এবং শোকবইয়ে স্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। শোকবইয়ে স্বাক্ষরের সময় নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীর সংগ্রামী জীবনের নানা স্মৃতি আবেগভরে স্মরণ করেন।

এ সময় জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এক শোকবার্তায় বলেন, আমাদের নেত্রী ছিলেন একজন আপোষহীন, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিক। তাঁকে হারিয়ে আমরা সত্যিই কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তাঁর চলে যাওয়ায় দেশ একজন অভিভাবককে হারালো। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি আরও বলেন, এ দেশের এমন একজন অভিভাবক, যিনি দেশের মানুষকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন, তিনি আজ আমাদের ছেড়ে পরকালে চলে গেছেন। আমরা সকলের কাছে দোয়া চাই—আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সন্তানের স্নেহে দেখতেন, আর আমরা তাঁকে মায়ের চোখেই দেখে এসেছি। তাঁর আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতেও বিভিন্ন শোক কর্মসূচি পালন করা হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে—এমনটাই মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।