চাঁদপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমে তিন দিনব্যাপী শ্রীরামকৃষ্ণদেবের শুভ কল্পতরু ও বার্ষিক উৎসব শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শহরের মিশন রোডস্থ রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে আয়োজিত ধর্মালোচনা সভায় অমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
তিনি বক্তব্যের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। এই শোক এখনো আমরা মেনে নিতে পারছি না। গত রাতও আমার জন্য খুব কষ্টের ছিল—বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই পৃথিবীতে কেউ স্থায়ী নয়। একদিন সবাইকেই চলে যেতে হবে। দেশনেত্রী আমাকে সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। শুধু আমাকে নয়, তাঁর পাশে থাকা সকল নেতাকর্মীকেই তিনি সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাই—প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করবেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আপনারা প্রার্থনার মাধ্যমে দোয়া করবেন, আমরা যেন সবাই চাঁদপুরে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারি। চাঁদপুর যেন যানজটমুক্ত একটি আদর্শ শহর হিসেবে সারাদেশে পরিচিতি লাভ করে। এই জেলায় যেন কোনো ধরনের মাদক না থাকে।
তিনি আরও বলেন, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান—সবাই নিজ নিজ ধর্মীয় অবস্থান থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন পরিকল্পনা করবো। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই চেতনায় আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আপনাদের যেকোনো ন্যায্য ও মানবিক প্রয়োজনে আমাকে স্মরণ করলে, আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। তিনি আবারও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী বিশ্বেশ্বরানন্দীজ মহারাজ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ বালিয়াটী রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী আদিরূপানন্দী মহারাজ এবং ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সম্পাদক স্বামী হরিদাসানন্দী মহারাজ।
ধর্মালোচনা সভায় আশ্রমের ভক্তবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
স্টাফ রিপোর্টার॥ 











