চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে পুরষ্কার বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। অভিযোগটি ওঠেছে হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তপদারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম ইশমাম।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেন।পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে বুধ,বৃহস্পতি ও শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) শোক ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রীপরিষদ সচীব ড.শেখ আব্দুর রশীদ গত ৩০ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারী করা হয়। তন্মধ্যে শোক পালনের কর্মসূচী হিসেবে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয়।
সরকারের এ নির্দেশনী উপেক্ষা করে হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটির দিন ( বুধবার) বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যেখানে সারা দেশ ও দেশের মানুষ শোকাহত এবং শোক পালন করছে, তা না করে বিদ্যালয় খোলা রেখে পুরষ্কার বিতরণ ও ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে উৎসব করায় স্থানীয় এলাকাবাসী এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বৃহস্পতিবার ( ১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দলমতের উর্ধে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ গভীরভাবে শোকাহত। রাষ্ট্র সাধারণ ছুটিসহ ৩ দিনের শোক কর্মসূচীর ঘোষনা করেন। অথচ এ হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তপদার স্কুল খোলা রেখে আনন্দে পুরস্কার বিতরণ ও ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি হচ্ছেন আওয়ামী লীগের দোষর। তার পদত্যাগ দাবী করছে এলাকাবাসী।
অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নোয়াব খান বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ রাখার জন্য সরকার বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছেন তা অমান্য করা ঠিক হয়নি। আমিও বিদ্যালয়ে ওইদিন ছাত্র ছাত্রী আসতে দেখেছি।
প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন তপদার স্বীকার করে বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে। ওইদিন বিদ্যালয় খোলা রাখার কারনে আমাকে শোকজ করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউসুল আজম পাটোয়ারী বলেন, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর তিব্র প্রতিবাদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশক্রমে প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন তপদারকে শোকজ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে নিজের ইচ্ছে মত সাধারণ ছুটির দিন বিদ্যালয় খোলা রেখে ফলাফল প্রকাশ করা ও পুরস্কার বিতরণ করায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেছে। বিষয়টি যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার সাথে সাথে ওই প্রধান শিক্ষককে শোকজ করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিলে তিনি ওই প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন।তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সফিকুল ইসলাম রিংকু 
















