হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে দায়িত্ব পালনকালে ওসি এলএসডি মনির হোসেনের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (খাদ্য কর্মকর্তা) ফারজানা আক্তার মিলি। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার সকালে। নিয়মিত রুটিন কাজের অংশ হিসেবে পাক্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের লক্ষ্যে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি ওসি এলএসডি মনির হোসেনের কাছে বিভিন্ন খাদ্য গুদামের মজুদ তালিকা, খাদ্যশস্যের আগমন-নিগমন, ডিউরেশন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চান।
অভিযোগ রয়েছে, তথ্য প্রদানে গড়িমসি করার একপর্যায়ে ওসি এলএসডি মনির হোসেন উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং প্রকাশ্যে মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেন। এতে গুদাম এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় খাদ্য গুদামের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী জানান, “একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আমরা সবাই হতবাক হয়ে যাই।”
ঘটনার একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি। তিনি গুদাম ত্যাগ করে বাইরে বের হয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি বলেন, “আমি সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য গুদামে গিয়েছিলাম। পরিদর্শনের সময় অনিয়মের বিষয় উঠে আসলে আমার সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ করা হয়। একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে এই ঘটনা আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এই ঘটনার বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে ওসি এলএসডি মনির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে একজন নারী কর্মকর্তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নারীর মর্যাদার চরম লঙ্ঘন। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন জানান, তাদের দু’জনের মধ্যে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব গড়মিল থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে।
কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন হাজীগঞ্জের খাদ্য কর্মকর্তা খুবই খারাপ এবং চরম সীমা লঙ্গনকারী। সে টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেনা।
Reporter Name 

















