ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রীর কোলে নবজাতক, পিতৃপরিচয় দিতে নারাজ অভিযুক্ত চাচাতো ভাই

ছবি-ত্রিনদী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর আখন্দ বাড়িতে বিয়ে ছাড়াই নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী সন্তান প্রসব করেছেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পিতৃপরিচয় দিতে নারাজ একই বাড়ীর অভিযুক্ত চাচাতো ভাই জুয়েল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোরীটি একজন অটোচালকের কন্যা। মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক অবস্থার খারাপ হওয়া লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সকালে অবস্থার আরও অবনতি হলে তার মা তাকে উয়ারুক বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিকেলে সন্তান প্রসব করেন কিশোরী।

হঠাৎ এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কিশোরী অভিযোগ করেন, একই বাড়ির বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে জুয়েলই তার সন্তানের পিতা।

কিশোরী জানান, প্রেম ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জুয়েল বিভিন্ন সময় তাকে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। কিশোরীর ভাষায়, সে আমাকে বিয়ের কথা বলেছিল। আমি বিশ্বাস করেছিলাম। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বামীর স্বীকৃতি চাই।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার দাবি, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। সত্য উদঘাটনের জন্য যা করার দরকার, আমি করব।

অভিযুক্ত জুয়েলের বড় ভাই জাহিদ হাসান টিপু বলেন, এটি আমাদের পারিবারিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি।

স্কুলছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করে, জুয়েল সুকৌশলে তাদের মেয়ের সাথে মেলামেশা করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তারা জানান, ইতিপূর্বে সতর্ক করার পরেও জুয়েল মেয়ের পেছন ছাড়েনি। এখন তারা প্রশাসন ও সমাজের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি কিশোরীর জীবনে এমন ঘটনা সামাজিক বাস্তবতা ও সুরক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রীর কোলে নবজাতক, পিতৃপরিচয় দিতে নারাজ অভিযুক্ত চাচাতো ভাই

হাজীগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রীর কোলে নবজাতক, পিতৃপরিচয় দিতে নারাজ অভিযুক্ত চাচাতো ভাই

Update Time : ০৬:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর আখন্দ বাড়িতে বিয়ে ছাড়াই নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী সন্তান প্রসব করেছেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পিতৃপরিচয় দিতে নারাজ একই বাড়ীর অভিযুক্ত চাচাতো ভাই জুয়েল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোরীটি একজন অটোচালকের কন্যা। মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক অবস্থার খারাপ হওয়া লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সকালে অবস্থার আরও অবনতি হলে তার মা তাকে উয়ারুক বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিকেলে সন্তান প্রসব করেন কিশোরী।

হঠাৎ এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কিশোরী অভিযোগ করেন, একই বাড়ির বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে জুয়েলই তার সন্তানের পিতা।

কিশোরী জানান, প্রেম ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জুয়েল বিভিন্ন সময় তাকে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। কিশোরীর ভাষায়, সে আমাকে বিয়ের কথা বলেছিল। আমি বিশ্বাস করেছিলাম। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এখন আমি শুধু আমার সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বামীর স্বীকৃতি চাই।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার দাবি, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। সত্য উদঘাটনের জন্য যা করার দরকার, আমি করব।

অভিযুক্ত জুয়েলের বড় ভাই জাহিদ হাসান টিপু বলেন, এটি আমাদের পারিবারিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি।

স্কুলছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করে, জুয়েল সুকৌশলে তাদের মেয়ের সাথে মেলামেশা করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তারা জানান, ইতিপূর্বে সতর্ক করার পরেও জুয়েল মেয়ের পেছন ছাড়েনি। এখন তারা প্রশাসন ও সমাজের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি কিশোরীর জীবনে এমন ঘটনা সামাজিক বাস্তবতা ও সুরক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।