ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামেনি পরিবারকে নির্মূলের যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা !

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩ Time View

ছবি-ত্রিনদী

রানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি ছেলে মোজতাবা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনাসহ তেহরানের বিরুদ্ধে চরম সামরিক পদক্ষেপের একাধিক বিকল্প ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে জমা দিয়েছে পেন্টাগন। এসব নথি ফাঁস করেছে একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক অনলাইন প্রতিষ্ঠান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর শর্ত মেনে না নেয়, তবে ট্রাম্প এই চরম পথ বেছে নিতে পারেন।

ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, পেন্টাগন প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে, যার মধ্যে একটি হলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রভাবশালী মোল্লাতন্ত্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার অনুমতি দিতে পারে, তবে শর্ত থাকবে যে পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পথ খোলা রাখা যাবে না।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব না আসলে ট্রাম্পের ধৈর্য দ্রুত ফুরিয়ে আসতে পারে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতে রাজি হবেন যা তিনি নিজের দেশে রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

অন্যদিকে, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আলোচনার চেয়ে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি দেখছে। ইসরাইলি সরকার ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহান্তেই হামলার আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছিল, তবে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মতে, প্রেসিডেন্ট সব পথ খোলা রাখছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, তারা একটি লিখিত প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পেশ করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি যে কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত।

তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বল এখন ইরানের কোর্টে; তেহরানের প্রস্তাব কতটা বিস্তারিত এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে কতটা আন্তরিক, তার ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।

সূত্র: এনডিটিভি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শরিয়তপুরের মমিন দিদারের কাছে জিম্মি চাঁদপুরের কৃষক

খামেনি পরিবারকে নির্মূলের যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা !

Update Time : ০৬:৫২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি ছেলে মোজতাবা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনাসহ তেহরানের বিরুদ্ধে চরম সামরিক পদক্ষেপের একাধিক বিকল্প ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে জমা দিয়েছে পেন্টাগন। এসব নথি ফাঁস করেছে একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক অনলাইন প্রতিষ্ঠান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর শর্ত মেনে না নেয়, তবে ট্রাম্প এই চরম পথ বেছে নিতে পারেন।

ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, পেন্টাগন প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে, যার মধ্যে একটি হলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রভাবশালী মোল্লাতন্ত্রের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার অনুমতি দিতে পারে, তবে শর্ত থাকবে যে পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পথ খোলা রাখা যাবে না।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব না আসলে ট্রাম্পের ধৈর্য দ্রুত ফুরিয়ে আসতে পারে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতে রাজি হবেন যা তিনি নিজের দেশে রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

অন্যদিকে, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আলোচনার চেয়ে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি দেখছে। ইসরাইলি সরকার ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহান্তেই হামলার আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছিল, তবে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মতে, প্রেসিডেন্ট সব পথ খোলা রাখছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, তারা একটি লিখিত প্রস্তাব তৈরির কাজ করছেন যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পেশ করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি যে কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত।

তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বল এখন ইরানের কোর্টে; তেহরানের প্রস্তাব কতটা বিস্তারিত এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে কতটা আন্তরিক, তার ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।

সূত্র: এনডিটিভি।