ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি সেবায় গতি, স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ Time View

সুজন দাস :
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় ভূমি সেবা কার্যক্রমে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও জটিলতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সময়ে উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রমে গতি, স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল সেবার প্রসার সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। সরকারের “ভূমি সেবা মানুষের দোরগোড়ায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ, জমির পর্চা সংগ্রহ, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে ভূমি সংক্রান্ত কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে আগের মতো দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে না।উপজেলা ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ সেবা নিতে আসছেন। অনেকে অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন। ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের বসার জন্য অপেক্ষাকক্ষ, তথ্য বোর্ড, নির্ধারিত সেবা সময়সূচি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন স্পষ্টভাবে টানানো রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের জানান, “আগে নামজারি করতে গেলে দালাল ধরতে হতো। এখন অনলাইনে আবেদন করে নিজেই কাজ করতে পারছি। নির্দিষ্ট সময়ে অফিস থেকে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়।” একই কথা জানান হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা রীনা বেগম। তিনি বলেন, “ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে দেওয়ার সুবিধা হওয়ায় সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে।”হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে সতর্কতামূলক ব্যানার ও নোটিশ টানানো হয়েছে। এছাড়া কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ বাক্স ও হটলাইন নম্বরও চালু রয়েছে।উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, “ই-নামজারি” কার্যক্রম চালুর ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। আবেদনকারী ঘরে বসেই আবেদন করতে পারছেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে এসেছে।ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ক্ষেত্রেও হাজীগঞ্জ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধের সুযোগ থাকায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে আর ব্যাংক বা ভূমি অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না।উপজেলা ভূমি অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ভূমি সংক্রান্ত সেবা মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেবা দিতে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি সেবাকে শতভাগ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।”তবে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগের ধীরগতি, গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা এবং পুরোনো রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কখনো কখনো সেবা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান কর্মকর্তারা।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে। তারা ভূমি সেবায় আরও জনবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত গণশুনানি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।সব মিলিয়ে বলা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস বর্তমানে ভূমি সেবা ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ এই সেবাকে আরও কার্যকর করে তুলছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে হাজীগঞ্জ উপজেলায় ভূমি সেবা হবে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শরিয়তপুরের মমিন দিদারের কাছে জিম্মি চাঁদপুরের কৃষক

হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি সেবায় গতি, স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত

Update Time : ০৭:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুজন দাস :
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় ভূমি সেবা কার্যক্রমে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও জটিলতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমান সময়ে উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রমে গতি, স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল সেবার প্রসার সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। সরকারের “ভূমি সেবা মানুষের দোরগোড়ায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ, জমির পর্চা সংগ্রহ, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে ভূমি সংক্রান্ত কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে আগের মতো দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে না।উপজেলা ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ সেবা নিতে আসছেন। অনেকে অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন। ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের বসার জন্য অপেক্ষাকক্ষ, তথ্য বোর্ড, নির্ধারিত সেবা সময়সূচি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন স্পষ্টভাবে টানানো রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের জানান, “আগে নামজারি করতে গেলে দালাল ধরতে হতো। এখন অনলাইনে আবেদন করে নিজেই কাজ করতে পারছি। নির্দিষ্ট সময়ে অফিস থেকে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়।” একই কথা জানান হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা রীনা বেগম। তিনি বলেন, “ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনে দেওয়ার সুবিধা হওয়ায় সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে।”হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে সতর্কতামূলক ব্যানার ও নোটিশ টানানো হয়েছে। এছাড়া কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ বাক্স ও হটলাইন নম্বরও চালু রয়েছে।উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, “ই-নামজারি” কার্যক্রম চালুর ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। আবেদনকারী ঘরে বসেই আবেদন করতে পারছেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে এসেছে।ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ক্ষেত্রেও হাজীগঞ্জ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধের সুযোগ থাকায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে আর ব্যাংক বা ভূমি অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না।উপজেলা ভূমি অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ভূমি সংক্রান্ত সেবা মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেবা দিতে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি সেবাকে শতভাগ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।”তবে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগের ধীরগতি, গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা এবং পুরোনো রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কখনো কখনো সেবা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান কর্মকর্তারা।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে। তারা ভূমি সেবায় আরও জনবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত গণশুনানি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।সব মিলিয়ে বলা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস বর্তমানে ভূমি সেবা ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ এই সেবাকে আরও কার্যকর করে তুলছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে হাজীগঞ্জ উপজেলায় ভূমি সেবা হবে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।