ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যেকোনো অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় দাঁড় করা যাবে না-শিক্ষামন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলন

বাংলাদেশ শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের রোদে বা সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করতে পারবে না। শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানোর দৃশ্য দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাকে একজন সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতে হবে। আমার জন্য কোনো ছাত্রছাত্রীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। কোনো শিক্ষক কখনো আমার জন্য শিক্ষার্থীদের দাঁড় করাবেন না। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় এসে শুভেচ্ছা জানানোর দরকার নেই। আমি নিজেই স্কুলে স্কুলে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে দেখা করবো।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের কোনো রকম প্রশ্নই ওঠে না। বরং শিক্ষাগত যোগ্যতা ধাপে ধাপে ঠিক আছে কি না, এটা দেখার জন্য প্রথম যাচাই বাছাই করবে ইউএনও, তারপর করবে ডিসি, তারপর তিনটি নাম পাঠাবে স্বস্ব বোর্ডে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক ধাপে যাচাই বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষিত, সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী কি না, সেটা আমরা চিন্তা করছি। অনেক ক্ষেত্রে যারা শিক্ষানুরাগী তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। এই অবদান যাদের রয়েছে বা যারা ডিপ্লোমাধারী ইঞ্জিনিয়ার, তারা তো ডিগ্রি পাস না। এই ধরনের যারা শিক্ষানুরাগী শিক্ষিত, তাদের কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, সেই আলোচনা করেছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আলোচনা শেষে আমরা বলেছি, এমপি, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আমরা আলোচনা করব। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নে ম্যানেজিং কমিটির গুরুত্ব আরও বাড়ে। কোথাও বলা হয় নাই শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হবে। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদিন স্বপন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি একই দিনে উপজেলা সমাজসেবা ও উপজেলা রোগী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার ও উপজেলার নিবন্ধিত বিভিন্ন এতিমখানায় অনুদানের চেক বিতরণ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষা পরিবারের ইফতার মাহফিল এবং কচুয়া বাজার ব্যবসায়ীদের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসে মশক নিধন, সচেতনতামূলক র‌্যালী ও লিফলেট বিতরণ

যেকোনো অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় দাঁড় করা যাবে না-শিক্ষামন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলন

Update Time : ০৫:১৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের রোদে বা সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করতে পারবে না। শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানোর দৃশ্য দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাকে একজন সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতে হবে। আমার জন্য কোনো ছাত্রছাত্রীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। কোনো শিক্ষক কখনো আমার জন্য শিক্ষার্থীদের দাঁড় করাবেন না। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় এসে শুভেচ্ছা জানানোর দরকার নেই। আমি নিজেই স্কুলে স্কুলে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে দেখা করবো।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের কোনো রকম প্রশ্নই ওঠে না। বরং শিক্ষাগত যোগ্যতা ধাপে ধাপে ঠিক আছে কি না, এটা দেখার জন্য প্রথম যাচাই বাছাই করবে ইউএনও, তারপর করবে ডিসি, তারপর তিনটি নাম পাঠাবে স্বস্ব বোর্ডে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক ধাপে যাচাই বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষিত, সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী কি না, সেটা আমরা চিন্তা করছি। অনেক ক্ষেত্রে যারা শিক্ষানুরাগী তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। এই অবদান যাদের রয়েছে বা যারা ডিপ্লোমাধারী ইঞ্জিনিয়ার, তারা তো ডিগ্রি পাস না। এই ধরনের যারা শিক্ষানুরাগী শিক্ষিত, তাদের কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, সেই আলোচনা করেছি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আলোচনা শেষে আমরা বলেছি, এমপি, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আমরা আলোচনা করব। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নে ম্যানেজিং কমিটির গুরুত্ব আরও বাড়ে। কোথাও বলা হয় নাই শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হবে। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদিন স্বপন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি একই দিনে উপজেলা সমাজসেবা ও উপজেলা রোগী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার ও উপজেলার নিবন্ধিত বিভিন্ন এতিমখানায় অনুদানের চেক বিতরণ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষা পরিবারের ইফতার মাহফিল এবং কচুয়া বাজার ব্যবসায়ীদের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।