চাঁদপুরের কচুয়ায় হামের উপসর্গ ও পূর্ববর্তী মৃগীরোগের জটিলতা নিয়ে ফাইজা ইসলাম নামের ১৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরের দিকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। মৃত ফাইজা ইসলাম উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের কাদলা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির আল আমিনের ছোট কন্যা।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে শিশু ফাইজা তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দানা (র্যাশ) নিয়ে ভুগছিল। গত ১৫ মে (শুক্রবার) তাকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ মে তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৩০ শে মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সর্বমোট ১৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. জাহিদ হোসাইন বলেন, হামের সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে ফাইজা ইসলাম নামের শিশুটি গত ১৫ মে হাসপাতালে জ্বর ও শরীরে র্যাশ (Rash) নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। ১৮ মে রাত পর্যন্ত হাসপাতালে থাকা অন্যান্য হামের রোগীদের মতোই তার অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং কোনো বাড়তি জটিলতা দেখা দেয়নি। তবে ১৯ মে ভোরের দিকে হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে মারা যায়।
ডা. জাহিদ হোসাইন আরও জানান, শিশুটি জন্মগতভাবেই ইপিলিপসি (Epilepsy) বা মৃগীরোগ এবং খিঁচুনিজনিত সমস্যায় ভুগছিল এবং এর জন্য নিয়মিত ওষুধ খেত। হামের (Measles) সংক্রমণের কারণে হয়তো তার মস্তিষ্কে নতুন কোনো স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যা তার আগের খিঁচুনি রোগটিকে আরও তীব্র ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। মূলত এই দুইয়ের পারস্পরিক জটিলতাতেই শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি।
এদিকে এলাকায় হঠাৎ হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের সার্বিক নজরদারি রয়েছে বলে জানা গেছে।
কচুয়া প্রতিনিধি ॥ 






















