ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ছবি-সংগৃহিত।

ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরিয়ে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গোপন পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তবে পরিকল্পনায় ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি নয়, বিবেচনায় ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের নাম।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম দফার বিমান হামলার পরপরই সরকার পরিবর্তনের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মূল পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিল ইসরাইল আর এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের অভ্যন্তর থেকেই কেউ নেতৃত্বে এলে তা বেশি কার্যকর হতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় আসে সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের নাম। তবে বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা আহমাদিনেজাদ বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কড়া সমালোচক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জোরালো সমর্থকও ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরাইলি হামলা চালানো হয়। দাবি করা হয়েছে, তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে হামলায় তিনি গুরুত্বর আহত হন এবং এরপর পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়।

পরে আহমাদিনেজাদ ও মার্কিন প্রশাসন, দুই পক্ষই এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে আহমাদিনেজাদকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই সেখানে নিজেদের পছন্দের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব বসাতে সক্ষম হয়েছিল। সেই সফলতার সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের সরকার পরিবর্তনের এই বহুধাপ বিশিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ সরাসরি এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তাদের সামরিক শক্তি দুর্বল করা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মতলব দক্ষিণে ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেফতার, পৃথক অভিযানে আরও দুই আসামি আটক

আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

Update Time : ১০:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরিয়ে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গোপন পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তবে পরিকল্পনায় ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি নয়, বিবেচনায় ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের নাম।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে প্রথম দফার বিমান হামলার পরপরই সরকার পরিবর্তনের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মূল পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিল ইসরাইল আর এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের অভ্যন্তর থেকেই কেউ নেতৃত্বে এলে তা বেশি কার্যকর হতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় আসে সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের নাম। তবে বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা আহমাদিনেজাদ বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কড়া সমালোচক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জোরালো সমর্থকও ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরাইলি হামলা চালানো হয়। দাবি করা হয়েছে, তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে হামলায় তিনি গুরুত্বর আহত হন এবং এরপর পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়।

পরে আহমাদিনেজাদ ও মার্কিন প্রশাসন, দুই পক্ষই এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে আহমাদিনেজাদকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই সেখানে নিজেদের পছন্দের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব বসাতে সক্ষম হয়েছিল। সেই সফলতার সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের সরকার পরিবর্তনের এই বহুধাপ বিশিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ সরাসরি এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তাদের সামরিক শক্তি দুর্বল করা।’