চাঁদপুরে এক চাকরিজীবীকে কৌশলে ডেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ৩জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার (২৪ মার্চ) রাতে জেলা ডিবি পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান শহরের আদর্শ মুসলিম পাড়া ও স্ট্যান্ড রোড এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করেন।
ভুক্তভোগীর দেয়া ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর একটি অচেনা নাম্বার থেকে চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা মহসিন মাতাব্বরের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি কল আসে। কল রিসিভ করতেই অপরিচিত একটি মেয়ে মহসিন মাতাব্বরের পূর্ব পরিচিত বলে জানায়।
সে আরো জানায়, ভুক্তভোগী মহসিন যে শ্রীমঙ্গল মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে অস্থায়ী চাকুরী করে তা স্থায়ী করে দিতে সহযোগিতা করবেন। এজন্য তাকে ছুটিতে বাড়িতে এসে যেন মেয়েটির সাথে দেখা করে। সেই আশ্বাসে ২ দিন পরেই মহসিন মাতাব্বর বাড়িতে এসে মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করে শহরের বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোড এলাকার হাজী আক্তার হোসেন খানের মালিকানাধীন মনোয়ারা ম্যানশন নামক বাসায় নিয়ে যান।
ভিতরে ঢুকতেই দেখেন আগে থেকে সেখানে ৫-৬ জন যুবকের উপস্থিতি। যুবকরা তখন মহসিনকে বিভিন্ন প্রশ্ন শুরু করার এক পর্যায়ে মারধর শুরু করে এবং জোর পূর্বক তার পড়নের জামা কাপড় খুলে নগ্ন করে ভিডিও ধারন করেন। এসময় তাদেরকে বাঁধা দিলে তারা আরো প্রচণ্ড মারধর করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী মহসিনকে আটকে রেখে ১০ লক্ষ টাকা দাবী করে। তা না হলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক মহসিন তার স্ত্রীকে ফোনে জানালে ২ ঘন্টা পর স্বজনদের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা জোগাড় করে উক্ত এলাকায় এসে তাদের কাছে পৌঁছে দিলে মহসিনকে ছেড়ে দেন। এমনকি আইনগত ব্যবস্থা নিলে তার নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ারও হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের গত ৭ ফেব্রুয়ারি আরেকটি অচেনা নাম্বার থেকে রাসেল নামে একজন কল দিয়ে আরো টাকা দাবী করেন। অন্যথায় সে ভিডিওটি আত্মীয় স্বজনের কাছে পাঠাবে বলে হুমকি দেয়। এর কয়েকদিন পর শহরের কোড়ালিয়ার ভুক্তভোগীর পাশের বাড়ির হাবিব গাজী তাকে কথা আছে বলে তার বাড়ীতে আসে এবং তাকে সেই নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে বলে এই ভিডিও আমাকে একজন দিয়েছে। আপনি যদি আমাকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা না দেন তাহলে আমি এটি এলাকায় ছড়িয়ে দিবো। তখন তাকে পূর্বের ঘটনা বলে তাকে কোনো টাকা দেয়ার সামর্থ্য নাই বলেও জানান। তারপরও ১৫ দিন সময়ের মধ্যে না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দেন।
এ ঘটনাটি ভুক্তভোগী মহসিন মাতাব্বর পুলিশকে জানালে চাঁদপুর জেলা ডিবি পুলিশ সোমবার (২৪ মার্চ) রাতে কৌশলে মাহমুদা ইসলাম সাথি, মো. ইউসুফ ও শাহাদাত হোসেন নামে তিনজনকে আটক করেন।
আটককৃতদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায়। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৮৩/২৫০। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবির) এসআই মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা আছে মর্মে স্বীকার করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।