ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে দুই যুগেও বিক্রিত ভূমি ক্রেতাকে রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগ!

ছবি-ত্রিনদী

হাজীগঞ্জে বিক্রিত ভূমি দখলে থাকা সত্ত্বেও ক্রেতাকে রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই যুগ সময় পার ও সবশেষ গত দুই বছর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি এবং মামলা দিয়ে হয়রানির করার অভিযোগ করেন তাছলিমা বেগম নামের এক নারী। তিনি উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের সন্না গ্রামের ডাক্তার বাড়ির সহিদ উল্লাহ’র স্ত্রী।

শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী তাছলিমা বেগম হাজীগঞ্জে কর্মরত সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ ও তাদের মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। তিনি ওই বাড়ির মনীন্দ্র কুমার দাসের ছেলে অসীম কুমার দাস ও ডাক্তার গৌতম কুমার দাসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বক্তব্য দেন, সংবাদকর্মীদের বক্তব্য দেন ডাক্তার গৌতম কুমার দাস।

তিনি জানান, ২০০২ সালে অসীম কুমার দাস ও গৌতম কুমার দাসের কাছ থেকে বাকিলা ইউনিয়নের সাবেক ১৯৫নং বিএস ৩৮নং সন্না মৌজাভুক্ত সিএস ১২৭, আরএস ১২৪নং খতিয়ান, বিএস চূড়ান্ত ৬৯৩নং খতিয়ানের সাবেক ৯৯৩, বিএস ২২৪২ দাগের মধ্যে ১৮ শতক ভূমির অন্দরে ১৩ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত মূল্যের সম্পূর্ন টাকা পরিশোধ করে ওই ভূমির দখল বুঝে নেন।

এর আগে বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৪৮ শতাংশ ভূমি ক্রয় ও পারিবারিক সম্পর্ক ভালো থাকায় এবং অসীম কুমার দাস সরকারি চাকরি করার করণে সময়মতো বাড়িতে আসতে না পারায় তাৎক্ষনিক লেনদেনের কোন ডকুমেন্ট (বায়নাপত্র) করা হয়নি। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যস্থতাকারী ও এলাকার লোকজন স্বাক্ষী রয়েছেন এবং বিষয়টি সবাই জানেন। এরপর থেকে নানা কারণ দেখিয়ে ওই সম্পত্তি আর রেজিস্ট্রি করে দেয়নি বিক্রেতারা।

তাছলিমা বেগম বলেন, অসীম কুমার দাস ও গৌতম কুমার দাসের কাছ থেকে সম্পত্তি (ভূমি) ক্রয় এবং একই বাড়িতে বসবাসের কারণে তাদের সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সম্পর্কের জেরে তারা দেই-দিচ্ছি বলে আমাদের পরবর্তীতে ক্রয়কৃত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। কিন্তু ওই সময়েই (২০০২) সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আমরা পুকুর কাটি এবং পুকুর পাড়ে গাছ-পালা রোপন করি।

তিনি বলেন, গতবছর (২০২৫) আমাদের দখলীয় সম্পত্তিতে বাউন্ডারি দেয়াল করতে গেলে তারা অন্য লোকজনদের দিয়ে আমাদেরকে বাধা দেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এছাড়াও তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। আমরা আপনাদের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাই। বিষয়টি নিয়ে এর আগে ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয় ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

মধ্যস্থতাকারী মাওলানা আবু তাহের সংবাদকর্মীদের বলেন, আমার মাধ্যমেই ১৩ শতক ভূমির দরদাম নির্ধারণ এবং লেনদেন করা হয়েছে। তারা (অসীম ও গৌতম) দেই-দিচ্ছি বলে এতোবছর রেজিস্ট্রি করে দেয় নাই। পরে তারা বলেছে, তাদের বাড়িতে ভিপি জায়গা আছে। বিষয়টি সমাধান করে রেজিস্ট্রি করে দিবে, কিন্তু আজও দেয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময়ে স্ট্র্যাম্প (বায়নাদলিল) হয়েছে। কিন্তু তারা মূলকপি রেখে সহিদ উল্লাহকে ফটোকপি দিয়েছে। তারা যে এমন কাজ করবে, তা কল্পনায়ও ভাবতে পারিনি। আমি আশাকরি, তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। সহিদ উল্লাহকে জায়গা রেজিস্ট্রি করে দিবে।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ডাক্তার গৌতম কুমার দাস বলেন, আমাদের বাড়িতে ১৫/১৬টি পরিবার রয়েছে। সবাই আমাদের কাছ থেকে সম্পত্তি ক্রয় করে বসবাস করছেন। তারাও (তাছলিমা বেগম) আমাদের কাছ থেকে দুই ভাগে ৩৬ ও ১২ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে। আমরা তাদেরকে এক দলিলে ৪৮ শতাংশ ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেই। এছাড়া আমরা আর কোন সম্পত্তি তাদের কাছে বিক্রি করিনি।

তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, তাছলিমা বেগম আমাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আমাদের দখলীয় সম্পত্তিতে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেন। তাৎখনিক আমরা বাধা দেই এবং ১৪৫ ধারায় আদালতে অভিযোগ করি। পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়ে তাদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এখন তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে বিভ্রান্তিমূলক কথা রটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাকিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিলন জানান, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন সহিদ উল্লাহর পরিবার। পরবর্তীতে তারা উভয় পক্ষ থানা ও আদালতের শরনাপন্ন হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের লিখিত কোন অভিযোগ না আসায় এবং থানা ও আদালতে অভিযোগ থাকায় কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে গ্রাম আদালতের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জে দুই যুগেও বিক্রিত ভূমি ক্রেতাকে রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগ!

হাজীগঞ্জে দুই যুগেও বিক্রিত ভূমি ক্রেতাকে রেজিস্ট্রি না দেওয়ার অভিযোগ!

Update Time : ১২:২৭:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

হাজীগঞ্জে বিক্রিত ভূমি দখলে থাকা সত্ত্বেও ক্রেতাকে রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই যুগ সময় পার ও সবশেষ গত দুই বছর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি এবং মামলা দিয়ে হয়রানির করার অভিযোগ করেন তাছলিমা বেগম নামের এক নারী। তিনি উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের সন্না গ্রামের ডাক্তার বাড়ির সহিদ উল্লাহ’র স্ত্রী।

শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী তাছলিমা বেগম হাজীগঞ্জে কর্মরত সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ ও তাদের মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। তিনি ওই বাড়ির মনীন্দ্র কুমার দাসের ছেলে অসীম কুমার দাস ও ডাক্তার গৌতম কুমার দাসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বক্তব্য দেন, সংবাদকর্মীদের বক্তব্য দেন ডাক্তার গৌতম কুমার দাস।

তিনি জানান, ২০০২ সালে অসীম কুমার দাস ও গৌতম কুমার দাসের কাছ থেকে বাকিলা ইউনিয়নের সাবেক ১৯৫নং বিএস ৩৮নং সন্না মৌজাভুক্ত সিএস ১২৭, আরএস ১২৪নং খতিয়ান, বিএস চূড়ান্ত ৬৯৩নং খতিয়ানের সাবেক ৯৯৩, বিএস ২২৪২ দাগের মধ্যে ১৮ শতক ভূমির অন্দরে ১৩ শতাংশ ভূমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত মূল্যের সম্পূর্ন টাকা পরিশোধ করে ওই ভূমির দখল বুঝে নেন।

এর আগে বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৪৮ শতাংশ ভূমি ক্রয় ও পারিবারিক সম্পর্ক ভালো থাকায় এবং অসীম কুমার দাস সরকারি চাকরি করার করণে সময়মতো বাড়িতে আসতে না পারায় তাৎক্ষনিক লেনদেনের কোন ডকুমেন্ট (বায়নাপত্র) করা হয়নি। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যস্থতাকারী ও এলাকার লোকজন স্বাক্ষী রয়েছেন এবং বিষয়টি সবাই জানেন। এরপর থেকে নানা কারণ দেখিয়ে ওই সম্পত্তি আর রেজিস্ট্রি করে দেয়নি বিক্রেতারা।

তাছলিমা বেগম বলেন, অসীম কুমার দাস ও গৌতম কুমার দাসের কাছ থেকে সম্পত্তি (ভূমি) ক্রয় এবং একই বাড়িতে বসবাসের কারণে তাদের সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সম্পর্কের জেরে তারা দেই-দিচ্ছি বলে আমাদের পরবর্তীতে ক্রয়কৃত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। কিন্তু ওই সময়েই (২০০২) সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আমরা পুকুর কাটি এবং পুকুর পাড়ে গাছ-পালা রোপন করি।

তিনি বলেন, গতবছর (২০২৫) আমাদের দখলীয় সম্পত্তিতে বাউন্ডারি দেয়াল করতে গেলে তারা অন্য লোকজনদের দিয়ে আমাদেরকে বাধা দেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। এছাড়াও তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। আমরা আপনাদের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাই। বিষয়টি নিয়ে এর আগে ইউপি চেয়ারম্যান কার্যালয় ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

মধ্যস্থতাকারী মাওলানা আবু তাহের সংবাদকর্মীদের বলেন, আমার মাধ্যমেই ১৩ শতক ভূমির দরদাম নির্ধারণ এবং লেনদেন করা হয়েছে। তারা (অসীম ও গৌতম) দেই-দিচ্ছি বলে এতোবছর রেজিস্ট্রি করে দেয় নাই। পরে তারা বলেছে, তাদের বাড়িতে ভিপি জায়গা আছে। বিষয়টি সমাধান করে রেজিস্ট্রি করে দিবে, কিন্তু আজও দেয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময়ে স্ট্র্যাম্প (বায়নাদলিল) হয়েছে। কিন্তু তারা মূলকপি রেখে সহিদ উল্লাহকে ফটোকপি দিয়েছে। তারা যে এমন কাজ করবে, তা কল্পনায়ও ভাবতে পারিনি। আমি আশাকরি, তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। সহিদ উল্লাহকে জায়গা রেজিস্ট্রি করে দিবে।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ডাক্তার গৌতম কুমার দাস বলেন, আমাদের বাড়িতে ১৫/১৬টি পরিবার রয়েছে। সবাই আমাদের কাছ থেকে সম্পত্তি ক্রয় করে বসবাস করছেন। তারাও (তাছলিমা বেগম) আমাদের কাছ থেকে দুই ভাগে ৩৬ ও ১২ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে। আমরা তাদেরকে এক দলিলে ৪৮ শতাংশ ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেই। এছাড়া আমরা আর কোন সম্পত্তি তাদের কাছে বিক্রি করিনি।

তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, তাছলিমা বেগম আমাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আমাদের দখলীয় সম্পত্তিতে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেন। তাৎখনিক আমরা বাধা দেই এবং ১৪৫ ধারায় আদালতে অভিযোগ করি। পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়ে তাদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এখন তারা আমাদের বিরুদ্ধে নানাভাবে বিভ্রান্তিমূলক কথা রটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাকিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিলন জানান, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন সহিদ উল্লাহর পরিবার। পরবর্তীতে তারা উভয় পক্ষ থানা ও আদালতের শরনাপন্ন হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের লিখিত কোন অভিযোগ না আসায় এবং থানা ও আদালতে অভিযোগ থাকায় কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে গ্রাম আদালতের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।