ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী বেদের মানবেতর জীবনযাপন

কচুয়ায় বেদের একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী পলিথিনের ছাউনী টেনে মানবেতর জীবন যাপন।

চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ-কচুয়ার সড়কের কড়‌ইয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি খোলা মাঠে অস্থায়ীভাবে বসতি ঘরে বসবাস করছে বেদের একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। তাদের নির্দিষ্ট ঘর বাড়ি না থাকায়,এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় এদের। এরা বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্র সব পেশা। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত তাদের চেহারা ও কথাবার্তা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ কচুয়া সড়কের কড়‌ইয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি খোলা মাঠে বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি ছাউনী বানিয়ে গত এক মাস ধরে বসবাস করে আসছে বেদের একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। এখানে ১৬টি বেদে পরিবার আছে। এই ১৬ পরিবারে ৫৫ জন সদস্য আছে। এদের কারো বাড়িঘর ও নিজস্ব জায়গা সম্পত্তি নেই,এদের মূল ঠিকানা বিক্রমপুর এলাকা। টানা দিন যাবত কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি ও বাড়ি বর্ষণে পানির নিচে থাকতে হচ্ছে তাদের। নেই কোন আয়-রোজগার, অনেকেই অনাহার আর মানবেতর জীবনযাপন। বর্তমানে তারা সাহায্য সহযোগিতার জন্য তাকিয়ে রয়েছে, কেউ তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য আসেনি।

বেদে নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের মানুষ বর্তমানে সাপ খেলা দেখতে চায় না। কেউ নেয় না ওদের চিকিৎসাও। কাউকে সাপে কাটলে এখন আর ডাক পড়ে না বেদেদের। আগের মতো ব্যবসা এখন আর হয় না। প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে বেদে সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

তারা আরো জানায়,এক সময় শুধুই নারীরা সাপ খেলা দেখিয়ে বা কবিরাজি করে অর্থ উপার্জন করতো। কিন্তু বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়েই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরেও আগের মতো উপার্জন করতে পারে না। এছাড়াও আগের মত এখন আর সাপ পাওয়া যায় না। আমাদের চিকিৎসাও গ্রাম্য লোকজন আগের মত নেয় না।

আলী হোসাইন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাতে বের হতে পারছি না। সন্তানদেরকে নিয়ে পানির নিচে থাকতে হচ্ছে। জমিনের উপর কোন শুকনা জায়গায়ও নেই, যেখানে সন্তানকে একটু সুরক্ষা রাখতে পারবো। সন্তানদেরকে কাঁধে নিয়ে পানির উপর বসে থাকতে হচ্ছে। আজ ৩ দিন ধরে আমাদের সাথে সবাই গ্রামগঞ্জে বের হতে পারছি না। আমাদের কোন ব্যবসা-বাণিজ নেই এখন। একদিকে নেই কোন উপার্জন, অন্যদিকে রান্নাবান্না করতে পারছি না। সন্তানদেরকে কি খাওয়াবো, কেউ আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে আসেনি। খাবারের ক্ষুধার্ত জ্বালায় মাটির নিচে তাকি ও সন্তানদের কান্না শুনতে হচ্ছে ।

অস্থায়ীভাবে বসবাস করা বেদে সম্প্রদায়ের বাসিন্দা মর্জিনা বেগম বলেন, খোলা আকাশের নিচে এভাবেই চলছে আমাদের জীবন-জীবিকা। সিংগা লাগাই, পোকা উটাই ও মাচা কমর টানি। এভাবেই চলতে হয়, খুব কষ্ট আমাদের। বাড়ি নাই ঘর নাই এভাবেই পলিথিন দিয়ে তাঁবু খাটিয়ে থাকি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাতে পারিনি অনেক কষ্ট আছি ভাই।

কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নোমান হোসেন বলেন, ‘দরিদ্রতার চরম সীমায় আছে এ বেদে সম্প্রদায়। মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক, চিত্তবিনোদন – কিছুই নেই। তাদের ভবিষ্যৎ কী তা-ও অজানা। আমরা চাই তাদের স্থায়ী একটা ঠিকানা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শাহরাস্তিতে ১৫জন কিশোরগ্যাংয়ের সদস্য আটক করেছে পুলিশ

কচুয়ায় ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী বেদের মানবেতর জীবনযাপন

Update Time : ০৮:৫১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ-কচুয়ার সড়কের কড়‌ইয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি খোলা মাঠে অস্থায়ীভাবে বসতি ঘরে বসবাস করছে বেদের একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। তাদের নির্দিষ্ট ঘর বাড়ি না থাকায়,এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় এদের। এরা বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্র সব পেশা। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত তাদের চেহারা ও কথাবার্তা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ কচুয়া সড়কের কড়‌ইয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি খোলা মাঠে বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি ছাউনী বানিয়ে গত এক মাস ধরে বসবাস করে আসছে বেদের একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। এখানে ১৬টি বেদে পরিবার আছে। এই ১৬ পরিবারে ৫৫ জন সদস্য আছে। এদের কারো বাড়িঘর ও নিজস্ব জায়গা সম্পত্তি নেই,এদের মূল ঠিকানা বিক্রমপুর এলাকা। টানা দিন যাবত কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি ও বাড়ি বর্ষণে পানির নিচে থাকতে হচ্ছে তাদের। নেই কোন আয়-রোজগার, অনেকেই অনাহার আর মানবেতর জীবনযাপন। বর্তমানে তারা সাহায্য সহযোগিতার জন্য তাকিয়ে রয়েছে, কেউ তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য আসেনি।

বেদে নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের মানুষ বর্তমানে সাপ খেলা দেখতে চায় না। কেউ নেয় না ওদের চিকিৎসাও। কাউকে সাপে কাটলে এখন আর ডাক পড়ে না বেদেদের। আগের মতো ব্যবসা এখন আর হয় না। প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে বেদে সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

তারা আরো জানায়,এক সময় শুধুই নারীরা সাপ খেলা দেখিয়ে বা কবিরাজি করে অর্থ উপার্জন করতো। কিন্তু বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়েই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরেও আগের মতো উপার্জন করতে পারে না। এছাড়াও আগের মত এখন আর সাপ পাওয়া যায় না। আমাদের চিকিৎসাও গ্রাম্য লোকজন আগের মত নেয় না।

আলী হোসাইন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাতে বের হতে পারছি না। সন্তানদেরকে নিয়ে পানির নিচে থাকতে হচ্ছে। জমিনের উপর কোন শুকনা জায়গায়ও নেই, যেখানে সন্তানকে একটু সুরক্ষা রাখতে পারবো। সন্তানদেরকে কাঁধে নিয়ে পানির উপর বসে থাকতে হচ্ছে। আজ ৩ দিন ধরে আমাদের সাথে সবাই গ্রামগঞ্জে বের হতে পারছি না। আমাদের কোন ব্যবসা-বাণিজ নেই এখন। একদিকে নেই কোন উপার্জন, অন্যদিকে রান্নাবান্না করতে পারছি না। সন্তানদেরকে কি খাওয়াবো, কেউ আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে আসেনি। খাবারের ক্ষুধার্ত জ্বালায় মাটির নিচে তাকি ও সন্তানদের কান্না শুনতে হচ্ছে ।

অস্থায়ীভাবে বসবাস করা বেদে সম্প্রদায়ের বাসিন্দা মর্জিনা বেগম বলেন, খোলা আকাশের নিচে এভাবেই চলছে আমাদের জীবন-জীবিকা। সিংগা লাগাই, পোকা উটাই ও মাচা কমর টানি। এভাবেই চলতে হয়, খুব কষ্ট আমাদের। বাড়ি নাই ঘর নাই এভাবেই পলিথিন দিয়ে তাঁবু খাটিয়ে থাকি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাতে পারিনি অনেক কষ্ট আছি ভাই।

কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নোমান হোসেন বলেন, ‘দরিদ্রতার চরম সীমায় আছে এ বেদে সম্প্রদায়। মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক, চিত্তবিনোদন – কিছুই নেই। তাদের ভবিষ্যৎ কী তা-ও অজানা। আমরা চাই তাদের স্থায়ী একটা ঠিকানা হোক।