সুজন দাস:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় এই প্রথমবারের মতো ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রীশ্রী রাম নবমী উৎসব পালিত হতে যাচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয় ভক্তবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১১ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মার্চ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় ঢাক, কাঁসর, দেবারতির শঙ্খ, ঘন্টা ও উলুধ্বনির মাঙ্গলিক ছন্দে মঙ্গল ঘট ও বিগ্রহ স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শুভ অধিবাস পূজার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। এই আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মূলত উৎসবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।পরদিন ১২ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মার্চ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, শুক্রবার দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার ও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৭টায় বাল্য পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ৮টায় মূল পূজা শুরু হবে, যেখানে ভক্তরা গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করা হবে, যাতে বিপুল সংখ্যক ভক্তের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে হোমযজ্ঞ, যা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এরপর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শান্তি আশীর্বাদ প্রদান করা হবে। দুপুর ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গুণীজন সংবর্ধনা এবং মানব জীবনে প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে শ্রীরামের জীবনাদর্শ, ন্যায়নীতি, সত্যবাদিতা ও আদর্শিক জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন স্থানীয় শিল্পীরা। এতে ভক্তিমূলক গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন পরিবেশনা থাকছে, যা দর্শনার্থীদের মাঝে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করবে।সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা আরতি। এর পর রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাম বন্দনা পরিবেশন করবেন স্বনামধন্য সনাতনী ব্যান্ড “ভৈরব”, যা উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এই মহতী আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে হাজীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাজা লক্ষ্মী-নারায়ণ জিউর আখড়া প্রাঙ্গণ। আয়োজনে রয়েছে রাম নবমী উদযাপন কমিটি, হাজীগঞ্জ।আয়োজকরা জানান, হাজীগঞ্জে এই প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে রাম নবমী উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসবের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের জীবনাদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা সম্ভব হবে।এছাড়াও উৎসবকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা ও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই প্রথম আয়োজনে ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং হাজীগঞ্জকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করবে।সব মিলিয়ে, হাজীগঞ্জে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য শ্রীশ্রী রাম নবমী উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে, যা এলাকায় এক আনন্দঘন ও ধর্মীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
Reporter Name 























