ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আমাদের ফসলি জমি জোর করে দখল করতে এসেছিলো আনোয়ার হোসেন বাবুল অভিযোগ ভূক্তভোগীদের

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে সালিশদারদের উপর হামলায় আহত বেশ কয়েকজন

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে সালিশদারদের উপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের সাতবাড়িভাঙ্গা গ্রামের করম উদ্দিন প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় সালিশদার আব্দুল মান্নান, কাপাইকাপ এলাকার শাওন, আরাফাত, সালাউদ্দিন, নাছির মিজি, র্কীত্তনখোলা গ্রামের ফয়সাল ও নাসিরকোর্ট এলাকার লিমন’সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার সকালে হাজীগঞ্জে কর্মরত সংবাদকর্মীদের কাছে সাতবাড়িভাঙ্গা করম উদ্দিন প্রধানীয়া বাড়ির মৃত ইকবাল হোসেন লাল মিয়ার ছেলে মহসিন প্রধানীয়া ও মুযাম্মেল হোসেন, মহসিন প্রধানীয়ার স্ত্রী মনি বেগম, ছেলে ইমন হোসেন ও মেয়ে মুক্তা’সহ তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হামলা ও মারধরের অভিযোগ করেন।

বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে এদিন সকালে স্থানীয় আনন্দ বাজারে কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাসহ ওই গ্রামের শতাধিক লোকজন একত্রিত হয়ে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মুখলেছুর রহমান (৬০) ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মহসিন প্রধানীয়ার মেয়ের জামাই ছাত্রলীগ নেতা, ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, আত্মীয় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারি শিক্ষক রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ ও সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পতি জোরপূর্বক ভোগ-দখল করে আছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

মিমাংসার অংশ হিসেবে শনিবার বিকালে ওই বাড়িতে যান আনোয়ার হোসেন বাবুল ও আব্দুল মান্নান’সহ একাধিক সালিশদার। ওই সময় মহসিন প্রধানীয়া বাড়িতে না থাকায় পরের দিন রবিবার সকাল ১০টায় বসার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রবিবার সকালে ওই বাড়িতে গেলে তারা সালিশদারদের উপর দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন। খবর পেয়ে মানুষ ওই বাড়িতে উপস্থিত হলে তাদের হামলায় সালিশদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

কুদরত (৫৯) নামের অপর এক ভুক্তভোগী জানান, মহসিন প্রধানীয়া ও তার পরিবারের লোকজন খুব খারাপ প্রকৃতির মানুষ। আমার জায়গাও জোরপূর্বক দখল করে আছে। কিছু বলতে গেলে তারা হামলা ও মারধর শুরু করেন। এমনকি তাদের মহিলার পর্যন্ত মানুষকে মারধর করতে আসে। এরপর তারাই আবার মানুষকে ফাঁসানোর জন্য শরীরের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে, ঘর-দুয়ার ভাংচুর করে, নিজেদের শরীরে আঘাত করে।

স্থানীয় ফারুক বকাউল ও আব্দুল কাদের বাবুল জানান, মহসিন প্রধানীয়া ও তার পরিবারের লোকজন এমন কোনো অপকর্ম নেই যে, তারা করে নাই। তারা অন্যায় ও অত্যাচারকারী। তাদের বাড়িতে পুলিশের বড় কর্মকর্তা আছে, অধ্যাপক আছে। এদের বিরুদ্ধে তারা কোন ব্যবস্থা নেয়না। তাই আমরা মনে করি, তাদের ছত্রছায়ায় মহসিন প্রধানীয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা মানুষের সাথে এমন খারাপ কাজ করে যাচ্ছে।

আনোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, তারা এমপি মহোদয়ের কাছে আমার নামে মিথ্যা কথা রটায়। বিষয়টি প্রমাণের জন্য আমি ও সালিশদাররা সহ ওই বাড়িতে গেলে তারা আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করে। পরে তারাই আবার তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর এবং নিজেদের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ও শরীরে আঘাত করে মানুষকে ফাঁসায়।

আহত সালিশদার আব্দুল মান্নান বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করার উদ্দেশ্যে আমরা ওই বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আমি’সহ কয়েকজনকে কাটা স্থানে সেলাই দিতে হয়। আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা এর প্রতিকার চাই। এখানে অনেক ভুক্তভোগী উপস্থিত আছেন, সবাই এর প্রতিকার চায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহআলম বলেন, আমি আর কখনোই তাদের সালিশি বৈঠক কিংবা দরবারে যাবো না। কারণ, সেখানে আমাদের নিরাপত্তা নেই। তারা দরবারি’সহ (সালিশদার) মানুষের উপর হামলা ও মারধর করে। আবার তারাই শরীর থেকে জামাকাপড় খুলে ফেলে, ছিঁড়ে ফেলে। খুব বিব্রতকর একটা অবস্থা।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মহসিন প্রধানীয়া ও তার মেয়ে মুক্তা জানান, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও আমাদের চাষকৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল দিতে আসে আনোয়ার হোসেন বাবুল ও আব্দুল মান্নানসহ ২/৩’শ লোক। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

তারা বলেন, বিষয়টি এমপি স্যারের কাছে জানানোর পর তারা আমাদের উপর আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতা ভুগছি। আমরা থানায় ও সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

কচুয়ায় কোমরকাশা জমিজামা বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চড়ম উত্তেজনা

আমাদের ফসলি জমি জোর করে দখল করতে এসেছিলো আনোয়ার হোসেন বাবুল অভিযোগ ভূক্তভোগীদের

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে সালিশদারদের উপর হামলায় আহত বেশ কয়েকজন

Update Time : ১০:৫৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে সালিশদারদের উপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের সাতবাড়িভাঙ্গা গ্রামের করম উদ্দিন প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় সালিশদার আব্দুল মান্নান, কাপাইকাপ এলাকার শাওন, আরাফাত, সালাউদ্দিন, নাছির মিজি, র্কীত্তনখোলা গ্রামের ফয়সাল ও নাসিরকোর্ট এলাকার লিমন’সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার সকালে হাজীগঞ্জে কর্মরত সংবাদকর্মীদের কাছে সাতবাড়িভাঙ্গা করম উদ্দিন প্রধানীয়া বাড়ির মৃত ইকবাল হোসেন লাল মিয়ার ছেলে মহসিন প্রধানীয়া ও মুযাম্মেল হোসেন, মহসিন প্রধানীয়ার স্ত্রী মনি বেগম, ছেলে ইমন হোসেন ও মেয়ে মুক্তা’সহ তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হামলা ও মারধরের অভিযোগ করেন।

বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে এদিন সকালে স্থানীয় আনন্দ বাজারে কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাসহ ওই গ্রামের শতাধিক লোকজন একত্রিত হয়ে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মুখলেছুর রহমান (৬০) ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মহসিন প্রধানীয়ার মেয়ের জামাই ছাত্রলীগ নেতা, ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, আত্মীয় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারি শিক্ষক রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ ও সরকারি কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পতি জোরপূর্বক ভোগ-দখল করে আছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

মিমাংসার অংশ হিসেবে শনিবার বিকালে ওই বাড়িতে যান আনোয়ার হোসেন বাবুল ও আব্দুল মান্নান’সহ একাধিক সালিশদার। ওই সময় মহসিন প্রধানীয়া বাড়িতে না থাকায় পরের দিন রবিবার সকাল ১০টায় বসার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রবিবার সকালে ওই বাড়িতে গেলে তারা সালিশদারদের উপর দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন। খবর পেয়ে মানুষ ওই বাড়িতে উপস্থিত হলে তাদের হামলায় সালিশদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

কুদরত (৫৯) নামের অপর এক ভুক্তভোগী জানান, মহসিন প্রধানীয়া ও তার পরিবারের লোকজন খুব খারাপ প্রকৃতির মানুষ। আমার জায়গাও জোরপূর্বক দখল করে আছে। কিছু বলতে গেলে তারা হামলা ও মারধর শুরু করেন। এমনকি তাদের মহিলার পর্যন্ত মানুষকে মারধর করতে আসে। এরপর তারাই আবার মানুষকে ফাঁসানোর জন্য শরীরের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে, ঘর-দুয়ার ভাংচুর করে, নিজেদের শরীরে আঘাত করে।

স্থানীয় ফারুক বকাউল ও আব্দুল কাদের বাবুল জানান, মহসিন প্রধানীয়া ও তার পরিবারের লোকজন এমন কোনো অপকর্ম নেই যে, তারা করে নাই। তারা অন্যায় ও অত্যাচারকারী। তাদের বাড়িতে পুলিশের বড় কর্মকর্তা আছে, অধ্যাপক আছে। এদের বিরুদ্ধে তারা কোন ব্যবস্থা নেয়না। তাই আমরা মনে করি, তাদের ছত্রছায়ায় মহসিন প্রধানীয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা মানুষের সাথে এমন খারাপ কাজ করে যাচ্ছে।

আনোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, তারা এমপি মহোদয়ের কাছে আমার নামে মিথ্যা কথা রটায়। বিষয়টি প্রমাণের জন্য আমি ও সালিশদাররা সহ ওই বাড়িতে গেলে তারা আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করে। পরে তারাই আবার তাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর এবং নিজেদের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ও শরীরে আঘাত করে মানুষকে ফাঁসায়।

আহত সালিশদার আব্দুল মান্নান বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করার উদ্দেশ্যে আমরা ওই বাড়িতে গিয়েছি। কিন্তু তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আমি’সহ কয়েকজনকে কাটা স্থানে সেলাই দিতে হয়। আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা এর প্রতিকার চাই। এখানে অনেক ভুক্তভোগী উপস্থিত আছেন, সবাই এর প্রতিকার চায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহআলম বলেন, আমি আর কখনোই তাদের সালিশি বৈঠক কিংবা দরবারে যাবো না। কারণ, সেখানে আমাদের নিরাপত্তা নেই। তারা দরবারি’সহ (সালিশদার) মানুষের উপর হামলা ও মারধর করে। আবার তারাই শরীর থেকে জামাকাপড় খুলে ফেলে, ছিঁড়ে ফেলে। খুব বিব্রতকর একটা অবস্থা।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মহসিন প্রধানীয়া ও তার মেয়ে মুক্তা জানান, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও আমাদের চাষকৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল দিতে আসে আনোয়ার হোসেন বাবুল ও আব্দুল মান্নানসহ ২/৩’শ লোক। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

তারা বলেন, বিষয়টি এমপি স্যারের কাছে জানানোর পর তারা আমাদের উপর আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতা ভুগছি। আমরা থানায় ও সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।