ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে চেতনানাশক ঔষধ পান করিয়ে শিশুকে ধর্ষণ করলো মাদরসার শিক্ষক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ২০০ Time View

অভিযুক্ত মাদরাসার শিক্ষক নাসিরউল্লাহ বাহাদুর

চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছরের শিশুকে ফুসলিয়ে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২৫ মার্চ বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন পুরান বাজার এলাকার নদীর পাড় সংলগ্ন রনাগোয়াল এলাকা থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় শিশুটির নানী খাতিজা বেগম (৫৩) বাদী হয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাতে নাসির উল্লাহ বাহাদুর (২৩) নামে ঐ মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নাসির উল্লাহ রঘুনাথপুর এলাকার নিয়ামত উল্লাহ বেপারীর ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সামিরা (ছদ্মনাম) স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত নাসির উল্লাহ ভিকটিমের পূর্বের মাদ্রাসা ‘আল হাফসা’র শিক্ষক ছিলেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে পূর্ব পরিচয় ছিল। গত ২৫ মার্চ বিকেলে ভিকটিম রনাগোয়াল এলাকায় ঘুরতে বের হলে অভিযুক্ত নাসির তাকে নতুন মাদ্রাসা দেখানোর কথা বলে ফুসলিয়ে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে নিয়ে যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদী শিশুটিকে জোরপূর্বক ঢাকাগামী একটি লঞ্চে তুলে নেয় এবং সেখানে তাকে পরোটা, ডিম ও কফি খাওয়ায়। এরপর লঞ্চের একটি কেবিনে নিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসা শিক্ষক শিশুটিকে একটি হোটেলে নিয়ে জোরপূর্বক গোসল করায় এবং তার পরিহিত কাপড় ধুয়ে ফেলে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে পুনরায় লঞ্চযোগে চাঁদপুর ফেরার সময় অভিযুক্ত নাসির শিশুটিকে লঞ্চে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। লঞ্চের যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর শিশুটি একা কান্না করতে থাকলে স্থানীয়রা তাকে অটো রিকশায় তুলে দেয় এবং সে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে।

ভিকটিমের নানী খাতিজা বেগম জানান, ছোট থাকতেই তার বাবা নিরুদ্দেশ এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনিই তাকে লালন-পালন করছেন। ঘটনার পর ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করানো হয়। পরে শুক্রবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রঘুনাথপুর বাজার এলাকায় বসে ঐ শিক্ষকের পরিবারের সাথে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত না থাকায় তাকে উপস্থিত করানোর জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুই দিনের সময় নেন। নির্ধারিত সময়ে রোববার (২৯ মার্চ) অভিযুক্ত শিক্ষককে তার পরিবার উপস্থিত করতে না পারায় পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লক্ষ টাকা প্রধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ না করে উপরোক্ত কারণে এজাহার দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। এজাহার প্রাপ্তির পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আপনাদের সহযোগিতায় বাঁচবে শিশু মাহা আক্তার

চাঁদপুরে চেতনানাশক ঔষধ পান করিয়ে শিশুকে ধর্ষণ করলো মাদরসার শিক্ষক

Update Time : ০৯:৪২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছরের শিশুকে ফুসলিয়ে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ২৫ মার্চ বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন পুরান বাজার এলাকার নদীর পাড় সংলগ্ন রনাগোয়াল এলাকা থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় শিশুটির নানী খাতিজা বেগম (৫৩) বাদী হয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাতে নাসির উল্লাহ বাহাদুর (২৩) নামে ঐ মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত নাসির উল্লাহ রঘুনাথপুর এলাকার নিয়ামত উল্লাহ বেপারীর ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সামিরা (ছদ্মনাম) স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত নাসির উল্লাহ ভিকটিমের পূর্বের মাদ্রাসা ‘আল হাফসা’র শিক্ষক ছিলেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে পূর্ব পরিচয় ছিল। গত ২৫ মার্চ বিকেলে ভিকটিম রনাগোয়াল এলাকায় ঘুরতে বের হলে অভিযুক্ত নাসির তাকে নতুন মাদ্রাসা দেখানোর কথা বলে ফুসলিয়ে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে নিয়ে যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদী শিশুটিকে জোরপূর্বক ঢাকাগামী একটি লঞ্চে তুলে নেয় এবং সেখানে তাকে পরোটা, ডিম ও কফি খাওয়ায়। এরপর লঞ্চের একটি কেবিনে নিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসা শিক্ষক শিশুটিকে একটি হোটেলে নিয়ে জোরপূর্বক গোসল করায় এবং তার পরিহিত কাপড় ধুয়ে ফেলে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে পুনরায় লঞ্চযোগে চাঁদপুর ফেরার সময় অভিযুক্ত নাসির শিশুটিকে লঞ্চে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। লঞ্চের যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর শিশুটি একা কান্না করতে থাকলে স্থানীয়রা তাকে অটো রিকশায় তুলে দেয় এবং সে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে।

ভিকটিমের নানী খাতিজা বেগম জানান, ছোট থাকতেই তার বাবা নিরুদ্দেশ এবং মা মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনিই তাকে লালন-পালন করছেন। ঘটনার পর ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করানো হয়। পরে শুক্রবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রঘুনাথপুর বাজার এলাকায় বসে ঐ শিক্ষকের পরিবারের সাথে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত না থাকায় তাকে উপস্থিত করানোর জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুই দিনের সময় নেন। নির্ধারিত সময়ে রোববার (২৯ মার্চ) অভিযুক্ত শিক্ষককে তার পরিবার উপস্থিত করতে না পারায় পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লক্ষ টাকা প্রধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ না করে উপরোক্ত কারণে এজাহার দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। এজাহার প্রাপ্তির পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।