ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে কোনো বর্ডার নেই, সেখানে কী এক দেশ আরেক দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪
  • ১১২ Time View

শেখ হাসিনা দেশ বিক্রি করে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি, এটা মনে রাখা উচিত। একটা দেশের মধ্যে অন্য দেশের ট্রানজিট দিলে কোনো ক্ষতি নেই।

সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। পরে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতকে রেলপথ ট্রানজিটের সুবিধা দেওয়ার সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেল যোগাযোগ চালুর সমালোচনা হচ্ছে কেন? জবাবে প্রশ্নকর্তা বলেন, বলা হচ্ছে ভারতের কাছে বাংলাদেশের বিক্রির ষড়যন্ত্র চলছে। যারা অপপ্রচার চালায় তাদের মুখরোচক গল্প।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একটা প্রশ্ন আছে। বিক্রির ওজনটা কীভাবে করা হয়েছে? কোনও কিছু বিক্রি হলেতো ওজন মেপে হয় না? এখন তো ইলেকট্রনিক মেশিন আছে। আগে দাঁড়িপাল্লায় মাপা হতো। তো কিসে মেপে বিক্রি হচ্ছে? আর বিক্রিটা হয় কীভাবে? বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যাদের সমালোচনা করে তাদের জানা উচিত একটি মাত্র মিত্র শক্তি যারা আমাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের রক্ত ঢেলে এই দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে প্রশিক্ষণ পেয়েছে। পৃথিবীতে যারা মিত্র শক্তি যারা যুদ্ধে সহযোগিতা করে তারা কিন্তু ওই দেশ ছেড়ে যায়নি। এখনো জাপানে আমেরিকান সৈন্য, জার্মানিতে রাশিয়ান সৈন্য আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখানে ভারত কিন্তু ব্যতিক্রম। তারা মিত্র শক্তি হিসেবে আমাদের পাশে যুদ্ধ করে এসেছে। কিন্তু যখনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছেন তারা (ভারতের সৈন্য) দেশে ফেরত যাক, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছেন এবং তাদের ফেরত নিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপরও যারা কথা বলে, ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে, তারা এ কথা বলে কীভাবে? আসলে যারা এ কথা বলে, তারা নিজেই ভারতের কাছে বিক্রি করা। কারণ আমরা দেখেছি, যখনই মিলিটারি ডিক্টেটররা (সামরিক স্বৈরাচার) এসেছে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ওপর দিয়ে ভারতবিরোধী কথা বলেছে, আর ভারতের পা ধরে বসে থেকেছে। এগুলো আমার নিজের দেখা, জানা।’

একটা দেশের মধ্যে অন্য দেশের ট্রানজিট দিলে ক্ষতি কী বলে প্রশ্ন রাখেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রেল যেগুলো বন্ধ ছিল (ভারতের সঙ্গে) সেগুলো আস্তে আস্তে খুলে দিচ্ছি। অর্থনীতিতে এটা বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশে কী চারদিকে দরজা বন্ধ করে থাকব? ইউরোপের দিকে তাকান, সেখানে কোনো বর্ডার নেই। সেখানে কী এক দেশ আরেক দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ। সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা খুলে দিলাম, এর উপকার পাবে সাধারণ মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বরিশালে নতুন বিভাগীয় কমিশনার চাঁদপুরের খলিল আহমেদ

ইউরোপে কোনো বর্ডার নেই, সেখানে কী এক দেশ আরেক দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:৫১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

শেখ হাসিনা দেশ বিক্রি করে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি, এটা মনে রাখা উচিত। একটা দেশের মধ্যে অন্য দেশের ট্রানজিট দিলে কোনো ক্ষতি নেই।

সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। পরে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতকে রেলপথ ট্রানজিটের সুবিধা দেওয়ার সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেল যোগাযোগ চালুর সমালোচনা হচ্ছে কেন? জবাবে প্রশ্নকর্তা বলেন, বলা হচ্ছে ভারতের কাছে বাংলাদেশের বিক্রির ষড়যন্ত্র চলছে। যারা অপপ্রচার চালায় তাদের মুখরোচক গল্প।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একটা প্রশ্ন আছে। বিক্রির ওজনটা কীভাবে করা হয়েছে? কোনও কিছু বিক্রি হলেতো ওজন মেপে হয় না? এখন তো ইলেকট্রনিক মেশিন আছে। আগে দাঁড়িপাল্লায় মাপা হতো। তো কিসে মেপে বিক্রি হচ্ছে? আর বিক্রিটা হয় কীভাবে? বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যাদের সমালোচনা করে তাদের জানা উচিত একটি মাত্র মিত্র শক্তি যারা আমাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের রক্ত ঢেলে এই দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে প্রশিক্ষণ পেয়েছে। পৃথিবীতে যারা মিত্র শক্তি যারা যুদ্ধে সহযোগিতা করে তারা কিন্তু ওই দেশ ছেড়ে যায়নি। এখনো জাপানে আমেরিকান সৈন্য, জার্মানিতে রাশিয়ান সৈন্য আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখানে ভারত কিন্তু ব্যতিক্রম। তারা মিত্র শক্তি হিসেবে আমাদের পাশে যুদ্ধ করে এসেছে। কিন্তু যখনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছেন তারা (ভারতের সৈন্য) দেশে ফেরত যাক, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছেন এবং তাদের ফেরত নিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপরও যারা কথা বলে, ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে, তারা এ কথা বলে কীভাবে? আসলে যারা এ কথা বলে, তারা নিজেই ভারতের কাছে বিক্রি করা। কারণ আমরা দেখেছি, যখনই মিলিটারি ডিক্টেটররা (সামরিক স্বৈরাচার) এসেছে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ওপর দিয়ে ভারতবিরোধী কথা বলেছে, আর ভারতের পা ধরে বসে থেকেছে। এগুলো আমার নিজের দেখা, জানা।’

একটা দেশের মধ্যে অন্য দেশের ট্রানজিট দিলে ক্ষতি কী বলে প্রশ্ন রাখেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রেল যেগুলো বন্ধ ছিল (ভারতের সঙ্গে) সেগুলো আস্তে আস্তে খুলে দিচ্ছি। অর্থনীতিতে এটা বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশে কী চারদিকে দরজা বন্ধ করে থাকব? ইউরোপের দিকে তাকান, সেখানে কোনো বর্ডার নেই। সেখানে কী এক দেশ আরেক দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ। সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা খুলে দিলাম, এর উপকার পাবে সাধারণ মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হবে।