ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে পালাচ্ছিলেন মসজিদের ইমাম, আটক করলো এলাকাবাসি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০ Time View

ছবি-সংগৃহিত।

নোয়াখালী হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে আটক করেছে স্থানীয় জনগণ। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ওই মাদরাসার ছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল করিম (৩৫) সোনাদিয়া চৌররাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মাদরাসা ও মজিদের ইমাম। তিনি পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের মাহমুদ হকের ছেলে। অন্যদিকে ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানা যায়, একই এলাকার একটি মসজিদের ইমাম তাকে নিয়ে পালিয়েছেন। পরে অভিযুক্ত ইমামের অবস্থান জানতে পেরে ছাত্রীর স্বজনরা তাদেরকে চটগ্রাম থেকে আটক করে নিয়ে আসে। রোববার বিকেলে তারা নদী পথে স্থানীয় চর চেঙ্গা বাজারে পৌঁছালে সহস্রাধিক লোক তাদের ঘিরে ফেলে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক জন তাদের কে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এর বাসায় নিয়ে রাখা হয়।

স্থানীয় চর চেঙ্গা বাজারের সেক্রেটারির আব্দুল মন্নান বলেন, যেহেতু মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্ক নয়, তার সকল বিষয় তার অভিভাবকরা বিবেচনা করবেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে এখনো নাবালিকা। তাকে ভুল বুঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজন ধর্মীয় দায়িত্বশীল মানুষের কাছ থেকে আমরা এমন কাজ কখনো আশা করিনি। আমি আমার মেয়ের নিরাপত্তা চাই এবং এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা আব্দুল করিম বলেন, আমার সাথে ওর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে জোর করে নিয়ে যায়নি। তবে লোকজন আমার ওপর অনেক নির্যাতন করেছে।

এই বিষয়ে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, এলাকার কয়েকজন মোবাইলে বিষয়টি জানিয়েছেন। কেউ লেখিত অভিযোগ দেয়নি। মেয়ের বাবাকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হাজীগঞ্জে খাদ্য কর্মকর্তা ফরাজানা ও ওসি এলএসডির দ্বন্দ্বে বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল, দু’জনে মিলে করছে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে পালাচ্ছিলেন মসজিদের ইমাম, আটক করলো এলাকাবাসি

Update Time : ০৩:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে আটক করেছে স্থানীয় জনগণ। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ওই মাদরাসার ছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল করিম (৩৫) সোনাদিয়া চৌররাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মাদরাসা ও মজিদের ইমাম। তিনি পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের মাহমুদ হকের ছেলে। অন্যদিকে ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানা যায়, একই এলাকার একটি মসজিদের ইমাম তাকে নিয়ে পালিয়েছেন। পরে অভিযুক্ত ইমামের অবস্থান জানতে পেরে ছাত্রীর স্বজনরা তাদেরকে চটগ্রাম থেকে আটক করে নিয়ে আসে। রোববার বিকেলে তারা নদী পথে স্থানীয় চর চেঙ্গা বাজারে পৌঁছালে সহস্রাধিক লোক তাদের ঘিরে ফেলে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক জন তাদের কে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এর বাসায় নিয়ে রাখা হয়।

স্থানীয় চর চেঙ্গা বাজারের সেক্রেটারির আব্দুল মন্নান বলেন, যেহেতু মেয়েটি প্রাপ্ত বয়স্ক নয়, তার সকল বিষয় তার অভিভাবকরা বিবেচনা করবেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে এখনো নাবালিকা। তাকে ভুল বুঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজন ধর্মীয় দায়িত্বশীল মানুষের কাছ থেকে আমরা এমন কাজ কখনো আশা করিনি। আমি আমার মেয়ের নিরাপত্তা চাই এবং এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা আব্দুল করিম বলেন, আমার সাথে ওর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে জোর করে নিয়ে যায়নি। তবে লোকজন আমার ওপর অনেক নির্যাতন করেছে।

এই বিষয়ে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, এলাকার কয়েকজন মোবাইলে বিষয়টি জানিয়েছেন। কেউ লেখিত অভিযোগ দেয়নি। মেয়ের বাবাকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।