চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় দাঁড়ালে প্রায়সময় দেখা মেলে এক ছোট্ট দৃশ্যের। রোদে-ধুলোয় দাঁড়িয়ে, হেটে, কাঁধে ঝোলানো দড়িতে ঝুড়ি নিয়ে চিপস, চকলেট, মামা ওয়েফার বিক্রি করছে একটি শিশু। তার নাম তামজিদুর রহমান। বয়স মাত্র ৮ বছর। শিশুসুলভ খেলাধুলার সময়টুকু সে ব্যয় করছে জীবনের দায় মেটাতে।
তামজিদুর একজন মাদরাসা ছাত্র। সে পড়ালেখা করে চাঁদপুর বড় স্টেশন রেলওয়ে মাদানী মাদরসার নুরানী বিভাগে। মাদরাসার ক্লাস শেষ হলেই, আর বন্ধের দিনে, সে নেমে পড়ে বিক্রির কাজে। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিক্রি হয়। এই টাকাতেই চলে তার পড়ালেখার বেতন ও নিত্যপ্রয়োজনের খরচ।
সে জানায়, কয়েক বছর আগে তামজিদুরের পিতা সেলিম আহম্মদ পরিবারকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মা জেসমিন বেগম একাই ছেলেকে নিয়ে সংগ্রামের পথে। বর্তমানে তারা থাকেন বড় স্টেশন যমুনা রোড এলাকায়।
প্রায় ১০-১২ দিন আগে একজন মানবিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তামজিদুরের কষ্টের গল্প জানতে পেরে অল্প কিছু খরচে তার এই ছোট ব্যবসার পুঁজি জোগান দেন। সেই সহায়তার ফলেই আজ সে নিজ উদ্যোগে কিছু পণ্য কিনে বিক্রি করতে করতে দেখা যায়। এই ছোট সহায়তাই দেখিয়ে দিয়েছে, পাশে কেউ দাঁড়ালে একটি শিশুর জীবন কতটা বদলে যেতে পারে।
একটি শিশুর কাঁধে এভাবে পরিবারের দায়িত্ব থাকা কোনো স্বাভাবিক দৃশ্য নয়। তামজিদুর পড়তে চায়, স্বপ্ন দেখতে চায়। তার প্রয়োজন নিয়মিত সহযোগিতা, যাতে সে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে এবং শিশুকালটা পুরোপুরি হারিয়ে না যায়।
মানবিক বিবেচনায় সমাজের সচেতন মানুষ, দানশীল ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি অনুরোধ তামজিদুরের পাশে দাঁড়ান। কারো সামান্য সহায়তাই তার শিক্ষাজীবন টিকিয়ে রাখতে পারে।
সহযোগিতার জন্য বিকাশ নম্বর – 01772604413
একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বাঁচানো মানেই একটি পরিবারকে নতুন করে বাঁচার আশা দেওয়া। তামজিদুরের ঝুড়িভরা পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পড়ালেখার স্বপ্নগুলো যেন হারিয়ে না যায় এমনটাই প্রত্যাশা।
ছবিক্যাপশন : চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় এভাবেই কাঁধে রশিতে ঝুড়ি ঝুলিয়ে বিভিন্ন চিপস, চকলেট বিক্রি করে মাদরাসার বেতন যোগান শিশুছাত্র তামজিদুর রহমান। ছবি : কবির হোসেন মিজি।
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ 




















