ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৬৬ Time View
চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে মোজম্মেল পাটওয়ারী (২৫) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামী মো. বশিরকে (৪৪) যাবজ্জীবন কারাদন্ড, এক লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন।

কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী বশির রহমতপুর আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর বাসার মৃত তাজুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে। হত্যার শিকার যুবক মোজাম্মেল একই এলাকার ৯৬নম্বর বাসার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, আসামী একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবাসয়ী। এলাকায় মাদক বিক্রির সময় হত্যার শিকার যুবক মোজাম্মেল প্রায় সময় বশিরকে মাদক বিক্রেতে বাধা প্রদান করে। মাদক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বশির সন্দেহ করে মোজাম্মেল পুলিশকে বলেছে। সে জামিনে এসে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তার বাড়ির সামনে মোজাম্মেলকে পরিবারের সদস্যরা মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে ২১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় পরদিন ২২ ডিসেম্বর মোজাম্মেলের মা মরিয়ম বেগম (৫০) চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় বশিরকে। সহযোগি আসামী করা হয় বশিরের আপন ভাই মো. নাছির (৪৫), মো. মামুন (২৫), মো. মহিসন (২৭) ও তাদের মা মনি বেগমকে।

মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয় তৎকালীন চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক কামালকে। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি দীর্ঘ বছর আদালতে চলমান অবস্থায় আদালত ১০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামী তার অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। আর বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

খেলাধুলা শুধু আনন্দের উৎস নয়, এটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য অপরিহার্য-শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড

Update Time : ১১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে মোজম্মেল পাটওয়ারী (২৫) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামী মো. বশিরকে (৪৪) যাবজ্জীবন কারাদন্ড, এক লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন।

কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী বশির রহমতপুর আবাসিক এলাকার ২১ নম্বর বাসার মৃত তাজুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে। হত্যার শিকার যুবক মোজাম্মেল একই এলাকার ৯৬নম্বর বাসার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, আসামী একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবাসয়ী। এলাকায় মাদক বিক্রির সময় হত্যার শিকার যুবক মোজাম্মেল প্রায় সময় বশিরকে মাদক বিক্রেতে বাধা প্রদান করে। মাদক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বশির সন্দেহ করে মোজাম্মেল পুলিশকে বলেছে। সে জামিনে এসে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তার বাড়ির সামনে মোজাম্মেলকে পরিবারের সদস্যরা মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে ২১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় পরদিন ২২ ডিসেম্বর মোজাম্মেলের মা মরিয়ম বেগম (৫০) চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় বশিরকে। সহযোগি আসামী করা হয় বশিরের আপন ভাই মো. নাছির (৪৫), মো. মামুন (২৫), মো. মহিসন (২৭) ও তাদের মা মনি বেগমকে।

মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয় তৎকালীন চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক কামালকে। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি দীর্ঘ বছর আদালতে চলমান অবস্থায় আদালত ১০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামী তার অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। আর বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান।